ফের কমল সোনার দাম
ব্যবসা-বাণিজ্য
প্রকাশঃ ৩০ মে, ২০২৬ ২:৩১ অপরাহ্ন
মৌলভীবাজারে এবার কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ ও বিক্রি নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। আগের বছরের মতো এবারও এতিমখানা বা মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে চামড়া সংগ্রহ করতে দেখা যায়নি। ফলে অনেক জায়গায় চামড়া বিক্রি করতে না পেরে তা মাটি চাপা দেওয়া বা নদীতে ফেলে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চাহিদা না থাকায় বাজারে চামড়া বিক্রির মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। অনেক জায়গায় ক্রেতা না থাকায় দাম বলার লোকও পাওয়া যায়নি।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চামড়া কিনে বিপাকে পড়েছেন জানিয়ে তারা বলেন, যে দামে চামড়া কেনা হয়েছে, আড়তদাররা তার চেয়েও অনেক কম দাম বলছেন। ফলে একদিকে বিক্রি করতে পারছেন না, অন্যদিকে আবার ফিরিয়েও নিতে পারছেন না।
সদর উপজেলার আমতৈল গ্রামের নওয়াব আলী বলেন, তিনি কয়েকটি চামড়া ৩০০ টাকায় কিনেছিলেন, আবার কিছু চামড়া দান হিসেবে পেয়েছিলেন। বিক্রির আশায় পৌর বাস টার্মিনালে গেলে কেউই দাম দিতে রাজি হয়নি। যাতায়াতের খরচই গচ্চা গেছে, দিনটাও নষ্ট হলো।
একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন আরও অনেকে। শুক্রবার বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জেলার প্রধান চামড়ার হাট বালিকান্দিসহ বিভিন্ন স্থানে ক্রেতাশূন্য পরিস্থিতি ছিল বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বালিকান্দি গ্রাম দীর্ঘদিন ধরে চামড়া ব্যবসার জন্য পরিচিত। এখানে প্রায় দুই শত বছর ধরে চামড়ার ব্যবসা চলে আসছে। তবে গত এক দশকে এ খাতে বড় ধরনের ধস নেমেছে। অনেক ব্যবসায়ী পেশা বদল করলেও কিছু পরিবার এখনও এ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।
স্থানীয় ব্যবসায়ী সৈয়দ মুজাহিদ আলী জানান, একসময় এই এলাকায় বহু মানুষ কাঁচা চামড়ার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু ট্যানারি মালিকদের বকেয়া টাকা এবং বাজারে ধারাবাহিক সংকটের কারণে অনেকে এখন আর এ ব্যবসায় নেই।
সত্তরোর্ধ্ব ব্যবসায়ী সুলেমান মিয়া জানান, এবারের ঈদে এখন পর্যন্ত কয়েকশ চামড়া সংগ্রহ করেছেন তারা। চামড়ার দাম ১০০ থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে থাকলেও বাজার পরিস্থিতি অনিশ্চিত। পর্যাপ্ত লবণ না থাকায় সব চামড়া সংরক্ষণ করাও সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান তিনি।
বালিকান্দি বাজার চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শওকত আলী জানান, ট্যানারি মালিক ও আড়তদারদের কাছে তাদের আগের প্রায় ৯৫ লাখ টাকা এখনও বকেয়া রয়েছে। এ বছর দুই হাজারের মতো চামড়া কেনা হলেও সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় লবণের ঘাটতি রয়েছে।
তিনি বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী লবণ মজুত না থাকায় অনেক চামড়া নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে আছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে কিছু চামড়া মাটিচাপা দেওয়া বা নদীতে ফেলে দিতে হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
চামড়া ছাড়ানোর কাজে যুক্ত শ্রমিক মাহমদ আলী বলেন, বাজারে যেসব চামড়া কেনাবেচা হচ্ছে তার দাম খুবই কম। অনেক ক্ষেত্রে ১০০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে লেনদেন হচ্ছে, অথচ ব্যবসায়ীরা বেশি দামে কেনার দাবি করছেন।
তিনি আরও জানান, কিছু এতিমখানার লোকজন চামড়া বিক্রির চেষ্টা করলেও ক্রেতা না থাকায় তাদেরও ফিরে যেতে হচ্ছে।
অন্যদিকে বালাগঞ্জ উপজেলার আব্দুস শহীদ জানান, তিনি ৩০টি চামড়া ৬ হাজার টাকায় কিনে বিপাকে পড়েছেন। এখন ক্রেতারা একেকটি চামড়ার দাম মাত্র ৩০–৪০ টাকা বলছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, একসময় বালিকান্দি এলাকায় ২৫ থেকে ৩০ জন নিয়মিত চামড়া ব্যবসা করতেন। বর্তমানে কয়েকজন পুরোনো ব্যবসায়ী এবং কিছু মৌসুমি ব্যবসায়ী মিলিয়ে অল্প সংখ্যক মানুষই এই খাতে সক্রিয় আছেন।
মৌলভীবাজার চামড়া, কোরবানির চামড়া, চামড়া ব্যবসা, চামড়া সংকট