গ্রামের বাড়ি যাওয়া হলো না, দুর্ঘটনায় ছোট্ট জাইফাকে নির্বাক জান্নাতুল-মোহাম্মদ
দৈনন্দিন
প্রকাশঃ ৭ আগস্ট, ২০২৬ ৫:৩১ অপরাহ্ন
তিন দিন আগেও বন্ধুদের সঙ্গে হাসিমুখে সিলেট ভ্রমণে বেরিয়েছিলেন কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার সাইফুল ইসলাম (৫৫)। ঘোরাঘুরি শেষে বাড়ি ফেরার কথা ছিল তাঁর, অপেক্ষায় ছিল পরিবার। কিন্তু সেই ফেরা আর হলো না জীবিত অবস্থায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়ে এখন কফিনবন্দি হয়ে বাড়ি ফিরছেন তিনি।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগর অংশে মুখোমুখি সংঘর্ষ বাধে ইউনিক পরিবহন ও বেঙ্গল পরিবহনের দুটি যাত্রীবাহী বাসের মধ্যে। মুহূর্তেই লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় সব কিছু। ঘটনাস্থলেই প্রাণ যায় সাতজনের, আহত হন অন্তত ১৬ জন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়। এই দুর্ঘটনায় ঝরে যাওয়া প্রাণগুলোর একটি সাইফুল ইসলামের। তাঁর সঙ্গী ফারুকুল ইসলাম ও আব্দুল লতিফও গুরুতর আহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনার আগের গল্পটা ছিল একেবারেই আলাদা আনন্দের। গত বুধবার পাঁচ বন্ধু সাইফুল ইসলাম, ফারুকুল ইসলাম, জমরুত মিয়া, মো. রানা ও আব্দুল লতিফ একসঙ্গে বেরিয়েছিলেন সিলেট ভ্রমণে। দিনকয়েক ঘোরাঘুরির পর যখন ফেরার সময় এলো, তখন সুবিধামতো দুই ভাগে ভাগ হয়ে যান তাঁরা। সাইফুল, ফারুকুল আর লতিফ বেছে নেন সড়কপথ, বাসে চড়ে রওনা দেন কুলিয়ারচরের দিকে। আর জমরুত মিয়া ও রানা আকাশপথে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেন। কে জানত, স্থলপথ বেছে নেওয়াটাই কাল হয়ে দাঁড়াবে তিনজনের জন্য।
জানা যায়, সাইফুল ইসলাম রেখে গেছেন এক ছেলে ও এক মেয়েকে। পেশায় ঠিকাদার এই মানুষটি এলাকায় পরিচিত ছিলেন কুলিয়ারচর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি হিসেবেও।
আহত আব্দুল লতিফের বর্ণনায় উঠে আসে সেই ভয়াবহ মুহূর্তের কথা। তিনি জানান, শুক্রবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে ৩০-৩৫ জন যাত্রী নিয়ে সিলেট থেকে ছাড়ে ইউনিক পরিবহনের বাসটি। ঘণ্টাখানেক পর, সকাল সাড়ে ৭টা নাগাদ ওসমানীনগর পৌঁছাতেই বিপরীত দিক থেকে ছুটে আসা বেঙ্গল পরিবহনের বাসের সঙ্গে সরাসরি ধাক্কা লাগে।
খবরটা প্রথম পান জমরুত মিয়া, বিমানে ওঠার ঠিক আগমুহূর্তে। জমরুত মিয়া বলেন, অনেক দিন ধরেই তাদের সিলেট ভ্রমণের পরিকল্পনা ছিল। খবর পাওয়ামাত্র ছুটে যান দুর্ঘটনাস্থলে। তাঁর ভাষ্যে, বাসের একপাশে থাকা যাত্রীরাই সংঘর্ষের সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছেন।
সড়ক দুর্ঘটনা, ওসমানীনগর, বাস দুর্ঘটনা, প্রাণহানি, সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক, কুলিয়ারচর