০৭ আগস্ট ২০২৬

দৈনন্দিন / দুর্ঘটনা

ওসমানীনগর দুর্ঘটনা

হাসপাতালে ভর্তি ১৪ জনের মধ্যে ১২ জনের অবস্থা স্থিতিশীল, জানালেন পরিচালক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ৭ আগস্ট, ২০২৬ ২:২৬ অপরাহ্ন


সিলেটের ওসমানীনগরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুই যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ জনে। আহত হয়েছেন ১৪ জন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় চিকিৎসাধীনদের সবশেষ অবস্থা নিয়ে গণমাধ্যমকে ব্রিফ করেছেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. উমর রাশেদ মুনীর।


শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ জানায়, ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে বেঙ্গল পরিবহনের একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে ইউনিক পরিবহনের বাসটি মহাসড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়, যাতে ঘটনাস্থলেই সাত যাত্রীর মৃত্যু হয়। পরে আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুজন মারা যান।


নিহতদের মধ্যে চারজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন, কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর থানার লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত সাফিউদ্দিনের ছেলে হাজী সাইফুল ইসলাম (৫০); সিলেট মহানগর পুলিশের দক্ষিণ সুরমা থানার চণ্ডীপুর এলাকার জাহাঙ্গীরের মেয়ে ফাইজা (৩), সিলেট নগরের সোবহানীঘাট এলাকার উত্তম রায়ের ছেলে সপ্তম রায় প্রীতম (২২); এবং কিশোরগঞ্জের ভৈরব থানার চণ্ডিবের এলাকার বাবুল মিয়ার মেয়ে শিল্পী পেহেলী ভৈরবী (১৭)। দুর্ঘটনার পর তাদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। বাকি পাঁচজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।


হাসপাতাল পরিচালক জানান, দুর্ঘটনার পর তারা প্রাথমিকভাবে ক্যাজুয়ালটি বিভাগে ১৬ জন রোগী পেয়েছিলেন এবং তাদের সবার প্রাথমিক চিকিৎসা ক্যাজুয়ালটি বিভাগ থেকেই দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে আঘাতের ধরন অনুযায়ী রোগীদের বিভিন্ন বিভাগে পাঠানো হয় নাক-কান-গলা সংক্রান্ত জখম নিয়ে দুজনকে ইএনটি বিভাগে, চোখের ইনজুরি নিয়ে রোগীদের চক্ষু বিভাগে এবং মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত তিনজনকে নিউরোসার্জারি বিভাগে পাঠানো হয়। বাকিদের রাখা হয় ক্যাজুয়ালটি বিভাগেই।


তিনি বলেন, ক্যাজুয়ালটি বিভাগে থাকা রোগীদের সরেজমিনে দেখে তাদের অবস্থা মোটামুটি ভালো বলে জানান তিনি এবং শিগগিরই তাদের ছাড়পত্র দেওয়ার কথা জানান।


নিউরোসার্জারি বিভাগে ভর্তি তিনজনের মধ্যে একজনের সিটি স্ক্যান রিপোর্ট স্বাভাবিক এসেছে বলে জানান পরিচালক। আরেকজনের সিটি স্ক্যান তখনো সম্পন্ন হয়নি। তৃতীয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে জরুরি ভিত্তিতে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে পরিচালক জানান, হাসপাতালের আইসিইউতে সাধারণত শয্যা খালি থাকে না এবং বিষক্রিয়া বা ডেঙ্গুর মতো জরুরি প্রয়োজনের জন্য একটি শয্যা সংরক্ষিত রাখতে হয়। তবে এই রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে সেই শয্যায় স্থানান্তর করা হচ্ছে এবং সংরক্ষণ প্রোটোকল যত দ্রুত সম্ভব সমন্বয় করা হবে বলে জানান তিনি।


ইএনটি বিভাগে ভর্তি দুই রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানান পরিচালক। এদিকে চক্ষু বিভাগে ভর্তি রোগীদের মধ্যে একজনের চোখের ওপরের অংশে গভীর কাটা জখম থাকায় তার সেলাই সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে একজনের চোখের অভ্যন্তরীণ (ইন্টারনাল) জখম গুরুতর হওয়ায় তার জরুরি অস্ত্রোপচার চলছিল বলে ব্রিফিংয়ের সময় জানান পরিচালক। বাকিদের অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়নি বলেও জানান তিনি।


পরিচালক জানান, দুর্ঘটনায় আহত চার বছর বয়সী একটি শিশুকে হাসপাতালে আনার আগেই মৃত অবস্থায় (ব্রট ডেড) পাওয়া যায়, যার কারণ হিসেবে গুরুতর মাথার আঘাতকে চিহ্নিত করা হচ্ছে। সড়ক দুর্ঘটনায় এ ধরনের মাথার আঘাত সাধারণ ঘটনা বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর সঙ্গে সাধারণত হাত-পা ভাঙা বা কাটাছেঁড়ার মতো সহযোগী জখমও দেখা যায়।


এছাড়া গুরুতর মাথার আঘাত নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ক্যাজুয়ালটি বিভাগে আরও একজন রোগীর মৃত্যু হয় বলে জানান পরিচালক। তিনি জানান, ওই রোগীর সংকটাপন্ন অবস্থা বোঝার জন্য গ্লাসগো কোমা স্কেল (জিসিএস) ব্যবহার করে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল।


হাসপাতালে ভর্তি মোট ১৬ জনের মধ্যে এই দুজনের মৃত্যুর পর বর্তমানে ১৪ জন চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানান পরিচালক। এদের মধ্যে একজনকে আইসিইউতে ও একজনকে জরুরি চোখের অস্ত্রোপচারের জন্য অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়েছে। বাকি ১২ জনের অবস্থা নিয়ে দুশ্চিন্তার কারণ নেই বলে জানান তিনি এবং যত দ্রুত সম্ভব তাদের চিকিৎসা সম্পন্ন করার আশ্বাস দেন।


শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনিসুর রহমান বলেন, সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থল থেকে সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দুর্ঘটনার কারণে কিছু সময় মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।


শেয়ার করুনঃ

দৈনন্দিন থেকে আরো পড়ুন

দুর্ঘটনা, প্রাণহানি, আহত, চিকিৎসা, হাসপাতাল, সড়ক দুর্ঘটনা

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ