০৭ আগস্ট ২০২৬

দৈনন্দিন / দুর্ঘটনা

বেঙ্গল পরিবহনের বেপরোয়া ওভারটেকিংয়ে প্রাণ যায় ইউনিক পরিবহনের ৯ যাত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ৭ আগস্ট, ২০২৬ ৫:১৬ অপরাহ্ন


সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্পষ্ট হয়ে উঠেছে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দ্রুতগতিতে উল্টোপথে চলে আসা বেঙ্গল পরিবহনের একটি স্লিপার বাসই বিপরীত দিক থেকে আসা ইউনিক পরিবহনের বাসকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে সড়কের পাশের খাঁদে ফেলে দেয়।


এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৯ জন, যাদের প্রত্যেকেই ছিলেন ইউনিক পরিবহনের যাত্রী। এ ছাড়া দুই বাসের অন্তত ২৪ জন যাত্রী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৪ জন বর্তমানে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।


ইউনিক পরিবহনের বাসের পেছনে থাকা একটি গাড়ির ড্যাশক্যামে ধারণ করা ফুটেজে দেখা যায়, ইউনিক পরিবহনের বাসটি কয়েক দফা রাস্তার ডানপাশে গিয়ে ওভারটেক করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে ফের বাম লেনে ফিরে আসে। ঠিক তখনই বিপরীত দিক থেকে তীব্র গতিতে ছুটে আসা বেঙ্গল পরিবহনের স্লিপার বাসটি ইউনিক পরিবহনের বাসের সামনের বাম পাশে ধাক্কা মেরে বেরিয়ে যায়। এই আঘাতেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাঁদে গিয়ে পড়ে ইউনিক পরিবহনের বাসটি।


ঘটনাস্থলে উপস্থিত একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সামনে থাকা একটি পিকআপ ভ্যানকে ওভারটেক করতে গিয়েই বিপরীত লেনে চলে আসে বেঙ্গল পরিবহনের বাসটি, আর তখনই তীব্র গতিতে সংঘর্ষ ঘটে ইউনিক পরিবহনের বাসের সঙ্গে।


দুর্ঘটনায় আহত কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের বাসিন্দা ফারুক মিয়া (৫২) জানান, পাঁচ বন্ধু মিলে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করতে সিলেটে এসেছিলেন তারা। এর মধ্যে দুজন বিমানে ঢাকা ফিরে যান, বাকি তিনজন ফারুক মিয়াসহ ইউনিক পরিবহনের সকালের বাসে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন।


তিনি বলেন, দুর্ঘটনার সময় একটু ঘুমিয়ে ছিলাম, হঠাৎ বিকট শব্দে ঘুম ভাঙে। বিভিন্ন মানুষজন ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে আসে। এর মধ্যে আমাদের বন্ধু সাইফুল ইসলাম নিহত হয়েছেন।


দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ৯ জনের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৫ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন হাজী সাইফুল ইসলাম (৫০)। তিনি কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর থানার লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত সাফিউদ্দিনের ছেলে। এছাড়া নিহতদের তালিকায় রয়েছে তিন বছর বয়সী শিশু ফাইজা, সিলেট মেট্রোপলিটন এলাকার দক্ষিণ সুরমা থানার চন্ডীপুর এলাকার জাহাঙ্গীরের মেয়ে। নিহত সপ্তম রায় ওরফে প্রীতম (২২) সিলেট নগরীর সোবহানীঘাট এলাকার উত্তম রায়ের ছেলে, কিশোরগঞ্জের ভৈরব থানার চন্ডিবের এলাকার বাবুল মিয়ার মেয়ে শিল্পী পেহেলী ভৈরবী (১৭) ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া বগডহর এলাকার মৃত বারেক মিয়ার ছেলে আবুল হোসেন(৪৪)।


এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. উমর রাশেদ মুনীর জানান, দুর্ঘটনার পরপরই হাসপাতালের ক্যাজুয়ালিটি বিভাগে মোট ১৬ জনকে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে পরবর্তীতে ইএনটি, চক্ষু ও নিউরোসার্জারি বিভাগে স্থানান্তর করা হয়েছে।


তিনি বলেন, নিউরোসার্জারি বিভাগে ভর্তি তিনজনের মধ্যে একজনের সিটিস্ক্যান রিপোর্ট স্বাভাবিক এসেছে, একজনের সিটিস্ক্যান এখনো সম্পন্ন হয়নি, এবং আরেকজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আইসিইউতে স্থানান্তর করা হচ্ছে।


পরিচালক আরও জানান, হাসপাতালে আনা ১৬ জনের মধ্যে একটি শিশু প্রথমে মৃত ঘোষিত হয়, পরে আরেকজন রোগীর মৃত্যু হয়। বাকি ১৪ জন বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বাকিদের অবস্থা নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই বলে জানান তিনি।


শেয়ার করুনঃ

দৈনন্দিন থেকে আরো পড়ুন

সড়ক দুর্ঘটনা, ওসমানীনগর, বেঙ্গল পরিবহন, ইউনিক পরিবহন, বাস, যাত্রী

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ