০৭ আগস্ট ২০২৬

অপরাধ-বিচার / অপরাধ

লোভছড়ায় প্রশাসনের নজরদারির মাঝেও চলছে জব্দ করা পাথর লুট

প্রতিনিধি, কানাইঘাট, সিলেট

প্রকাশঃ ৬ আগস্ট, ২০২৬ ১১:০০ অপরাহ্ন


সিলেটের কানাইঘাটের লোভাছড়া পাথর কোয়ারিতে পরিবেশ অধিদপ্তরের জব্দ করা পাথর চুরির অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে পাথর চুরির খবর প্রকাশের পর চুরি ঠেকাতে কোয়ারি এলাকায় নজরদারি বাড়িয়েছে প্রশাসন। একই সঙ্গে জকিগঞ্জ উপজেলার আটগ্রাম বাজারের পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ ক্রাশার জোন বন্ধেও অভিযান জোরদার করা হয়েছে।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে আটগ্রামের পাথর ভাঙার ক্রাশার মেশিনগুলো বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যেই প্রশাসনের নজর এড়িয়ে লোভাছড়া কোয়ারিতে জব্দ করে রাখা পাথর চুরির অভিযোগ উঠেছে। পাথর চুরি ঠেকাতে কোয়ারি এলাকায় সার্বক্ষণিক পুলিশি নজরদারি থাকলেও পুলিশের ডিউটির ফাঁকে একটি চক্র গভীর রাতে ও ভোরে নদীপথে জব্দ পাথর জকিগঞ্জের আটগ্রামে নিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।


গত বুধবার বিকেলে লোভাছড়া কোয়ারিতে জব্দ করা পাথর দুটি স্টিলের বলগেটে বোঝাই করে আটগ্রামে নেওয়া হচ্ছিল বলে খবর পায় কানাইঘাট থানা পুলিশ। পাথর ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন ওই বলগেট দুটির মাধ্যমে পাথর নিয়ে যাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ বলগেট দুটি আটকের চেষ্টা করে। তবে এর আগেই সেগুলো সরিয়ে অন্যত্র লুকিয়ে ফেলা হয় বলে জানা গেছে।


বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, লোভাছড়া পাথর কোয়ারির একটি চক্র জব্দ করা পাথর চুরি করে আটগ্রামে বিক্রির জন্য গোয়াইনঘাট উপজেলা থেকে অর্ধশতাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌকা কোয়ারি এলাকায় নিয়ে এসেছে। এসব নৌকার দৈর্ঘ্য ২০০ থেকে ২৫০ ফুট বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এসব নৌকা ব্যবহার করেই জব্দ পাথর সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।


স্থানীয় বাসিন্দা সালমান আহমদসহ কয়েকজন জানান, হাজার ফুট ধারণক্ষমতার বেশ কয়েকটি স্টিলের বলগেট ব্যবহার করেও জব্দ পাথর চুরি করা হচ্ছে। পরে এসব পাথর নদীপথে জকিগঞ্জের আটগ্রামে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।


এ অবস্থায় লোভাছড়ার জব্দ পাথর চুরি বন্ধে জকিগঞ্জের আটগ্রামে অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে সেখানে মজুত থাকা কয়েক লাখ ঘনফুট চোরাই পাথর জব্দ এবং অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ক্রাশার মেশিনগুলো ধ্বংসের দাবি জানান তারা।


কোয়ারি এলাকার বাসিন্দা বাশার আহমদ বলেন, ‘পাথর চুরির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’


কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, লোভাছড়া পাথর কোয়ারি একেবারে সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকায় অবস্থিত। জব্দকৃত পাথর দেখভাল করার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে থানা পুলিশকে দায়িত্ব দেওয়া হলে পুলিশ সার্বক্ষণিকভাবে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছে।


ওসি বলেন, ‘সম্প্রতি একটি পাথর বোঝাই বলগেট এবং পাথরবাহী দুইটি ট্রাক আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে মামলাও হয়েছে।’ তবে এখন আর পাথর চুরি হচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোয়ারি এলাকায় নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে বলে জানান ওসি।


এ ব্যাপারে সিলেট বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানিয়া আক্তার বলেন, ‘পরিবেশ অধিদপ্তর লোভাছড়ার পাথর জব্দ করেছে কিন্তু এখন এই পাথরের মালিক হচ্ছে খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুারো (বিএমডি)। এখন যদি জব্দকৃত পাথর চুরি হয়ে থাকে তবে বিএমডি কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবে। আমরা তাদের সহযোগিতা করব।’


শেয়ার করুনঃ

অপরাধ-বিচার থেকে আরো পড়ুন

লোভাছড়া পাথর কোয়ারি, পাথর চুরি, ক্রাশার জোন, অবৈধ পাথর, পুলিশি নজরদারি, কানাইঘাট

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ