টাঙ্গুয়ার হাওরে ওয়াচ টাওয়ার এলাকায় গোসলে নেমে পর্যটকের মৃত্যু
দৈনন্দিন
প্রকাশঃ ৭ আগস্ট, ২০২৬ ৫:৫৭ অপরাহ্ন
ওসমানীনগরে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ৯ জনের একজন সপ্তম রায় প্রীতম (২২)। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্বজনদের মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া কারণ এই তরুণ শুধু একজন সাধারণ যাত্রী ছিলেন না, ছিলেন তার পরিবারের একমাত্র ভরসা।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল সাতটা দশ মিনিট নাগাদ ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুটি বাসের মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষ বাধে। সিলেট থেকে ঢাকার পথে থাকা ইউনিক পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা বেঙ্গল পরিবহনের একটি নাইট স্লিপার কোচের এই মুখোমুখি সংঘর্ষে ঝরে যায় নারী-শিশুসহ ৯টি প্রাণ, আহত হন অন্তত ১৪ জন। সাতজনের মৃত্যু হয় ঘটনাস্থলেই। বাকি দুজনকে গুরুতর অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ১৪ জন।
রাজধানীর উদ্দেশে এই যাত্রাই যে প্রীতমের জীবনের শেষ যাত্রা হয়ে উঠবে, তা কে জানত। অথচ এই তরুণের কাঁধেই ছিল পুরো পরিবারের ভার। বহু আগে পানিতে ডুবে মারা গিয়েছিল তার একমাত্র ভাই। সেই শোক সামলে ছোট বয়সেই সংসারের হাল ধরতে হয়েছিল তাকে। অভাব-অনটনের মধ্যে বৃদ্ধ মা ও বোনের দেখভাল করে আসছিলেন নিজের আয়ে।
প্রীতমের খালাতো বোনের জামাই কাজল ভৌমিক বলেন, প্রীতমই ছিলেন তাদের পরিবারের একমাত্র অবলম্বন। তার আয়ের ওপর নির্ভর করেই চলত বৃদ্ধ মা ও বোনের পুরো সংসার। অনেক কষ্ট আর অভাবের মধ্য দিয়েই দিন পার করছিল পরিবারটি। ছোটবেলায় পানিতে ডুবে মারা যান প্রীতমের একমাত্র ভাই। এরপর থেকে সংসারের সব দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন প্রীতম। আজ সেই প্রীতমও চলে গেল।
প্রীতমদের প্রতিবেশি নরেন ভট্টাচার্য্য বলেন, নামটা দেখে হৃদয় ভেঙে গেছে। সপ্তমকে কোলে-কাঁখে বড় করেছি। আমাদের পাশের বাসার ভাড়াটিয়া ছিল তাঁরা। আজ ঢাকা-সিলেট মহাসড়ককের দুর্ঘটনায় সে আর নেই।এর আগে ওর এক ভাই পানিতে ডুবে মারা গিয়েছিল। এই শোক সইবে কিভাবে ওর মা-বোন। খবরটা শুনার পর থেকেই অস্বস্তি লাগছে।
বাস দুর্ঘটনা, সপ্তম রায় প্রীতম, ওসমানীনগর, পরিবারের অবলম্বন, মৃত্যু, শোক