০১ আগস্ট ২০২৬

কৃষি / চাষাবাদ

তাহিরপুরে বালুর নিচে হাজার হাজার বিঘা জমি, হাওরে বোরো আবাদ নিয়ে শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক, সুনামগঞ্জ

প্রকাশঃ ১ আগস্ট, ২০২৬ ৩:৪৪ অপরাহ্ন


পাহাড়ি ঢলের পানি নেমে গেছে অনেক আগেই। কিন্তু তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার কৃষকদের দুর্ভোগ এখনো কাটেনি। ঢলের সঙ্গে উজান থেকে নেমে আসা বিপুল পরিমাণ বালুতে ঢাকা পড়েছে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি। যেখানে কয়েক মাস পরই সবুজ বোরো ধানের চারা রোপণের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা, সেখানে এখন শুধু বালুর স্তূপ। এতে হাজার হাজার বিঘা কৃষিজমি চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। আগামী বোরো মৌসুমে আবাদ করা যাবে কি না, সেই অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে সীমান্তের কৃষকদের।

সরেজমিনে উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ও উত্তর বড়দল ইউনিয়নের চারাগাঁও, বাঁশতলা, লাকমা, চাঁনপুরসহ সীমান্তবর্তী কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ কৃষিজমি সাদা বালুর চাদরে ঢেকে আছে। কোথাও এক ফুট, কোথাও আবার দুই থেকে তিন ফুট পর্যন্ত বালু জমে রয়েছে। একসময় যে জমিতে বছরে একবার বোরো ধান চাষ করে সংসারের খোরাকি ও জীবিকার সংস্থান হতো, সেই জমি এখন অনাবাদি হয়ে পড়ার আশঙ্কায় পড়েছে।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, এ অঞ্চলের অধিকাংশ পরিবার বোরো ধানের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু প্রতিবছর পাহাড়ি ঢলে উজান থেকে নেমে আসা বালু কৃষিজমিতে জমে উৎপাদন কমিয়ে দিচ্ছে। এবার ঢলের তীব্রতা বেশি হওয়ায় আগের বছরের তুলনায় ক্ষয়ক্ষতিও বেড়েছে।

কৃষকদের অভিযোগ, প্রতিবছর পাহাড়ি ঢলে একইভাবে কৃষিজমিতে বালু জমলেও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয় না। ক্ষতিগ্রস্ত জমি থেকে দ্রুত বালু অপসারণ, সীমান্তবর্তী ছড়া ও নালা খনন এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানান তাঁরা।

বাঁশতলা গ্রামের কৃষক আলাল উদ্দিন বলেন, প্রতিবছরই এমন ক্ষতি হয়। কিন্তু স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। নদী ও ছড়াগুলো খনন করা হলে অনেকটাই বালু কম আসত। এখন বালু না সরালে এ বছর বোরো আবাদ করতে পারব না।

নজমুদ্দিন নামের আরেক কৃষক বলেন, এই জমির ধান বিক্রি করেই সারা বছরের সংসার চলত। এখন জমি বালুতে ভরে গেছে। নিজের টাকায় এত বালু সরানো সম্ভব নয়। সরকার যদি সহযোগিতা না করে তাহলে আমাদের পথে বসতে হবে।

লাকমা গ্রামের কৃষক মুত্তাকিন মিয়া বলেন, আগামী বোরো মৌসুম নিয়ে আমরা খুব দুশ্চিন্তায় আছি। জমি চাষের উপযোগী না হলে পরিবার চালানো কঠিন হয়ে যাবে। আমরা কই যাইমু, কিলা পরিবার চালাইমু।

এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষিজমির পরিমাণ নির্ধারণে মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির চিত্র পর্যালোচনা করে জমিগুলো পুনরায় চাষাবাদের উপযোগী করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।


শেয়ার করুনঃ

কৃষি থেকে আরো পড়ুন

সুনামগঞ্জ, তাহিরপুর, পাহাড়ি ঢল, কৃষক, সীমান্ত

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ