০১ আগস্ট ২০২৬

দৈনন্দিন

সংবাদ সম্মেলন

স্বামীর সম্পত্তি থেকে বঞ্চিতের অভিযোগ প্রতিবন্ধী রহিমার

প্রতিনিধি, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার 

প্রকাশঃ ১ আগস্ট, ২০২৬ ৬:২৪ অপরাহ্ন


স্বামীর সম্পত্তিতে নিজের ও সন্তানদের আইনগত অধিকার থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন প্রতিবন্ধী বিধবা রহিমা বেগম। শনিবার (১ আগস্ট) শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

 

রহিমা বেগম বলেন, ২০০৫ সালে শহরের সুইনগড় এলাকার হাজী ইয়াকুব আলী খাঁনের সঙ্গে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের সময় ইয়াকুব আলী খাঁনের আরও দুই স্ত্রী ছিলেন। তাঁদের সংসারে বর্তমানে দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ২০১৪ সালের মে মাসে স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি সন্তানদের নিয়ে সুরভীপাড়া এলাকায় বসবাস করছেন।

 

তিনি অভিযোগ করেন, স্বামীর মৃত্যুর পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সিদ্ধান্তে প্রথম পক্ষের ছেলে মনজুর আলী খাঁন মাসিক ৫ হাজার টাকা দিতেন। তবে ২০২৩ সালে সেই অর্থ প্রদান বন্ধ হয়ে যায়। সম্প্রতি তিনি জানতে পারেন, প্রথম পক্ষের ছেলে জুনাব আলী খাঁন ও সাহদৎ আলী খাঁন তাঁর সন্তানদের উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে এফিডেভিটের মাধ্যমে ওয়ারিশনামা প্রস্তুত করেছেন।

 

রহিমা বেগমের দাবি, গত ৩১ মে তাঁর বড় ছেলে রাশেদ আলী খাঁন সৎ ভাইদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তাঁকে ভাই হিসেবে অস্বীকার করা হয় এবং হুমকি দেওয়া হয়। পরে একই দিন সন্ধ্যায় শহরে যাওয়ার পথে জুনাব আলী খাঁন, সাহদৎ আলী খাঁন ও তাঁদের স্বজনেরা মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেন। এ ঘটনায় তিনি আদালতে মামলা করেছেন। সম্পত্তির অধিকার নিয়েও আরও দুটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে জানান।

 

তিনি বলেন, বিয়ের নিবন্ধিত কাবিননামা না থাকার সুযোগে প্রথম পক্ষের ছেলেরা তাঁর সন্তানদের পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করতে চাইছেন। তবে শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ারিশ সনদ, পৌরসভার নাগরিক সনদ, টিকাকার্ডসহ বিভিন্ন সরকারি নথিতে হাজী ইয়াকুব আলী খাঁনকে তাঁর স্বামী হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।

 

সংবাদ সম্মেলনে রহিমা বেগম বলেন, “আমি একজন প্রতিবন্ধী নারী। স্বামীর সম্পত্তির প্রতি আমার কোনো লোভ নেই। কিন্তু আমার এতিম সন্তানদের পিতার সম্পত্তিতে ন্যায্য অধিকার রয়েছে। আমি সেই অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যই আপনাদের সহযোগিতা চাই।”

 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হাজী ইয়াকুব আলী খাঁনের প্রথম পক্ষের ছেলে সাহদৎ আলী খাঁন প্রথমে রহিমা বেগমকে তাঁর বাবার স্ত্রী হিসেবে অস্বীকার করেন। পরে তিনি বলেন, “রহিমা বেগম সত্যিই যদি আমার বাবার স্ত্রী হয়ে থাকেন, তাহলে তিনি আমাদের কাছে আসুন। আমরা পারিবারিকভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করব।”

 

উল্লেখ্য, রহিমা বেগমের উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়গুলো আদালতে বিচারাধীন। অভিযুক্ত পক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছেন।


শেয়ার করুনঃ

দৈনন্দিন থেকে আরো পড়ুন

শ্রীমঙ্গল, রহিমা বেগম, উত্তরাধিকার বিরোধ, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, সংবাদ সম্মেলন, মৌলভীবাজার

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ