হবিগঞ্জের লাখাইয়ে শুরু হলো কৃষক স্মার্ট কার্ড প্রদান কার্যক্রম
কৃষি
প্রকাশঃ ১৪ জুলাই, ২০২৬ ৫:৩৩ অপরাহ্ন
মনু ও ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে মৌলভীবাজারে যে বন্যা দেখা দিয়েছিল, তার পানি এখন ধীরে ধীরে সরতে শুরু করেছে। কিন্তু পানি নামার সঙ্গে সঙ্গেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে কৃষকদের সর্বনাশের চিত্র। জেলার রাজনগর ও কমলগঞ্জ উপজেলায় রোপা আমনের বীজতলার সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে, যার ফলে আসন্ন আমন মৌসুমে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ধান আবাদ করা নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন এলাকার চাষিরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, এই আকস্মিক বন্যায় গোটা জেলায় কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে। প্রাথমিক তথ্য বলছে, রোপা আমনের ৮৬ হেক্টর বীজতলা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। পাশাপাশি আউশ ধানের ২৪৮ হেক্টর জমি পানির নিচে তলিয়ে যায় এবং গ্রীষ্মকালীন সবজির ৬৪ দশমিক ৫ হেক্টর খেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বন্যার পানি সরে গেলেও বীজতলা ইতিমধ্যে পচে যাওয়ায় নতুন করে চারা তৈরির সুযোগ প্রায় হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে কৃষকদের।
রাজনগর উপজেলার সৈয়দনগর এলাকার কৃষক মাসুদ মিয়া হতাশা ঝরিয়ে বলেন, বন্যার পানিতে আমার ২০ বিঘা জমির বীজতলা একবারে শেষ হয়ে গেছে। এখন আমন চাষ কীভাবে করব, তা নিয়ে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে।
ওই একই এলাকার দুই বর্গাচাষি আজাদ মিয়া ও ইমানি মিয়া বলছেন, পরের জমি বর্গা নিয়েই তাদের সংসার চলে। এবার বীজতলা নষ্ট হওয়ায় জমিতে ফসল ফলানো নিয়েই তারা বড় ধরনের বিপাকে পড়েছেন।
কমলগঞ্জের কৃষক লিয়াকত, যিনি সবজি ও ধান দুটোই চাষ করেন, বলেন, বন্যায় বীজতলা ও সবজির খেত দুটোই শেষ। এই বিপুল আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠে আবার ঘুরে দাঁড়ানো আমাদের মতো সাধারণ কৃষকদের জন্য খুবই কঠিন।
এ প্রসঙ্গে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দীন বলেন, এবারের বন্যায় কৃষিখাতে সবচেয়ে বড় আঘাত এসেছে আমনের বীজতলায়। আমরা ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছি। সরকারিভাবে কোনো প্রণোদনা বা পুনর্বাসন সহায়তা এলে তা দ্রুত কৃষকদের মাঝে বণ্টন করা হবে।
কৃষকদের আশ্বস্ত করে তিনি আরও বলেন, চারা সংকট মোকাবিলায় কৃষি বিভাগের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ‘বিআর-২২’ (নাবি জাত) ধানের বীজ মজুত আছে, যা দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা কিছুটা হলেও এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন।
মৌলভীবাজার, বন্যা, কৃষক, ক্ষতিগ্রস্ত, আমন ধান