০১ আগস্ট ২০২৬

দৈনন্দিন / মৃত‍্যু

তিন সপ্তাহ ধরে নিখোঁজ ওসমানী বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা, সন্ধান চান মা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ১ আগস্ট, ২০২৬ ৬:৩১ অপরাহ্ন


প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে নিখোঁজ রয়েছেন সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সহকারী নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. আরিফুল্লাহ জেলিন (২৬)। নিখোঁজের ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলেও তার কোনো সন্ধান মিলছে না। 


নিখোঁজ আরিফুল্লাহ জেলিনের বাড়ি ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলার শীতলপুর গ্রামে। ছেলের সন্ধানের দাবিতে শনিবার (১ আগস্ট) সিলেটের একটি অভিজাত হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জেলিনের মা ফরিদা ইয়াসমীন। 


এসময় তিনি অভিযোগ করেন, থানায় দায়ের করা জিডির তথ্যের সঙ্গে তাঁর জানা ঘটনার অসঙ্গতি রয়েছে। এ অবস্থায় বিষয়টি গভীরভাবে তদন্তের দাবি জানান তিনি। 


সংবাদ সম্মেলনে জেলিনের মা ফরিদা ইয়াসমীন বলেন, গত ৮ জুলাই সিলেটের এয়ারপোর্ট থানাধীন খাদিমনগর ইউনিয়নের বিমানবন্দর আবাসিক এলাকার জি-টাইপ কোয়ার্টার থেকে আরিফুল্লাহ জেলিন নিখোঁজ হন। এরপর সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।


জেলিনের মা আরও জানান, তারা ঠাকুরগাঁও থেকে সিলেটে পৌঁছানোর আগেই জেলিনের সহকর্মী ও বন্ধু পরিচয়ে ধনঞ্জয় কুণ্ডু (পিয়াস) নামে এক ব্যক্তি সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। গত ৯ জুলাই নথিভুক্ত হওয়া ওই জিডির নম্বর ৪২৭।


সংবাদ সম্মেলনে ফরিদা ইয়াসমীন বলেন, ‘আমার ছেলে যেদিন নিখোঁজ হয়, সেদিন বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত তার সঙ্গে আমার ভিডিও কলে কথা হয়েছে। তখন সে তার বিমানবন্দর আবাসিক কোয়ার্টারেই ছিল। কিন্তু জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে- ৮ জুলাই বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিট থেকে রাত ১১টার মধ্যে কোনো এক সময় সে নিখোঁজ হয়েছে। আমার সঙ্গে যখন বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত কথা হয়েছে, তখন বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিট থেকে নিখোঁজ হওয়ার কথা কীভাবে বলা হলো এ প্রশ্নের উত্তর আমরা এখনো পাইনি।’


তিনি আরও বলেন, ‘এই তথ্যগত অসঙ্গতির কারণে আমার সন্দেহ হচ্ছে, আমার ছেলের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে কেউ প্রকৃত ঘটনা জানেন। কিন্তু তা গোপন করা হচ্ছে। এ কারণে আমি সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থার কাছে অনুরোধ করছি, ওই সময়ে আমার ছেলের সঙ্গে যোগাযোগে থাকা ব্যক্তিদের, বিশেষ করে যিনি জিডি করেছেন, তাঁর বক্তব্যসহ সব তথ্য গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা হোক।’


লিখিত বক্তব্যে জেলিনের পরিবারের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়, আরিফুল্লাহ জেলিনের ব্যক্তিগত জীবনে পরিচিত কোনো শত্রু ছিল না। তবে তার বর্তমান কর্মস্থলে কোনো সহকর্মী বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে বিরোধ বা অন্য কোনো কারণে নিখোঁজ হয়ে থাকতে পারেন। বলে পরিবারের সন্দেহ রয়েছে। এ বিষয়ে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানানো হয়।


এ বিষয়ে জানতে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহিদুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি সাড়া দেননি। 


নিখোঁজের ঘটনায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক মো. হাফিজ আহমদ বলেন, জেলিন আমাদের সহকর্মী। সে নিখোঁজ হওয়ার পরেই পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলার উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তাছাড়া তার পরিবার থেকেও আমাদের কোন রকমের ‘ক্লু’ দেয়া হলে সেটাও সাথে সাথে আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাচ্ছি। আমরাও চাই দ্রুত আমাদের সহকর্মী আমাদের মাঝে ফিরে আসুক


শেয়ার করুনঃ

দৈনন্দিন থেকে আরো পড়ুন

নিখোঁজ কর্মকর্তা, ওসমানী বিমানবন্দর, সংবাদ সম্মেলন, সাধারণ ডায়েরি, তদন্ত দাবি, ফরিদা ইয়াসমীন

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ