তাহিরপুরে পাহাড়ি ঢলে বিধ্বস্ত শতাধিক ঘর, পুনর্নির্মাণের সামর্থ্য নেই ক্ষতিগ্রস্তদের
প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ
প্রকাশঃ ২০ জুলাই, ২০২৬ ২:০১ অপরাহ্ন
টানা ভারী বৃষ্টিপাত এবং ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে সুনামগঞ্জে আবারও বন্যা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বাড়ছে। এর মধ্যে ছাতক পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। পাশাপাশি তাহিরপুরের সীমান্তবর্তী এলাকায় নতুন করে লোকালয়ে ঢলের পানি প্রবেশ করায় কয়েকটি পরিবার আবারও দুর্ভোগে পড়েছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সোমবার সকাল ৯টার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ছাতক পয়েন্টে সুরমা নদীর পানির উচ্চতা ছিল ৮ দশমিক ৮৬ মিটার, যা বিপৎসীমার ১৬ সেন্টিমিটার ওপরে। জেলার অন্য পয়েন্টগুলোতে পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে থাকলেও প্রায় সব জায়গাতেই পানি বৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।
পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে সুনামগঞ্জ পয়েন্টে সুরমা নদীর পানির উচ্চতা ছিল ৭ দশমিক ৩৫ মিটার, যা বিপৎসীমার ৪৫ সেন্টিমিটার নিচে। লাউয়ারগড় পয়েন্টে পানির উচ্চতা ৭ দশমিক ৪৪ মিটার, যা বিপৎসীমার ৬১ সেন্টিমিটার নিচে এবং দিরাই পয়েন্টে ৬ দশমিক ০৬ মিটার, যা বিপৎসীমার ৪৯ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর মধ্যে লাউয়ারগড়ে সর্বোচ্চ ১৪০ মিলিমিটার এবং জেলা সদরে ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া বিভাগ। এই বৃষ্টির সঙ্গে উজানের ঢল মিলিত হওয়ায় নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে বলে জানিয়েছে পাউবো।
রোববার রাতে পাহাড়ি ঢলের পানি আবারও তাহিরপুর উপজেলার চারাগাঁও এলাকায় লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। এতে নিম্নাঞ্চলের বেশ কয়েকটি বাড়িঘর নতুন করে প্লাবিত হয়। রাতের মধ্যে পানি বাড়তে থাকায় অনেক পরিবারকে ঘরের আসবাবপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয়েছে।
চারাগাঁও গ্রামের বাসিন্দা পিন্টু দাস বলেন, ‘রাতে হঠাৎ করেই পাহাড়ি ঢলের পানি বাড়তে শুরু করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাড়ির আঙিনায় পানি ঢুকে যায়। ঘরের জিনিসপত্র সরাতে অনেক কষ্ট হয়েছে। আবারও পানির কারণে দুর্ভোগে পড়েছি।’
অন্যদিকে, টানা বৃষ্টিতে সুনামগঞ্জ পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়কেও জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।
শহরের বাসিন্দা রকিব উদ্দিন বলেন, ‘রাতভর বৃষ্টির পর সকাল থেকেই রাস্তায় পানি জমে আছে। কাঁচা সড়ক হওয়ায় শিশু, শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষের চলাচলে ভোগান্তি হচ্ছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশন ও সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী-২ এমদাদুল হক বলেন, উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ি ঢলের চাপ এখনো অব্যাহত রয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায়ও উজানে বৃষ্টি হলে জেলার নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে পারে।
তিনি বলেন, নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ বন্যা, ছাতকে সুরমা নদী, সুরমা নদীর পানি, ছাতক পানি বিপৎসীমা, সুনামগঞ্জে পাহাড়ি ঢল, সুনামগঞ্জের নদীর পানি, তাহিরপুর বন্যা, লাউয়ারগড় বৃষ্টিপাত