বৃষ্টিমুখর সিলেট, ৩৬ ঘণ্টায় ঝরল ১২৫ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টি
প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ
প্রকাশঃ ১৮ জুলাই, ২০২৬ ৩:৫২ অপরাহ্ন
সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সবশেষ বুলেটিনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বুলেটিন অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৯টায় ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে এবং মারকুলি পয়েন্টে বিপৎসীমার ৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগামী তিনদিন পর্যন্ত বাড়তে পারে। এ সময় সিলেট ও সুনামগঞ্জে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ভারতের মণিপুর রাজ্যের আঙ্গামি নাগা পাহাড় থেকে উৎপন্ন বরাক নদী সিলেট সীমান্তে এসে সুরমা ও কুশিয়ারা নামে দুটি ধারায় বিভক্ত হয়। এই দুই নদী কিশোরগঞ্জের ভৈরববাজারের কাছে মিলিত হয়ে গঠন করে মেঘনা নদী, যা গিয়ে মিশেছে বঙ্গোপসাগরে।
সিলেট অঞ্চলের পিয়াইন, যাদুকাটা, সোমেশ্বরী, সারি গোয়াইন ও ভোগাই নদীর উজানে ভারতের মেঘালয়ে সম্প্রতি অতিভারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। বুলেটিনের তথ্য অনুসারে, গত ২৪ ঘণ্টায় মেঘালয়ের মাউসিনরামে ৩৪৯ মিলিমিটার, আরকেএম সোহরায় ২৮০ মিলিমিটার, চেরাপুঞ্জিতে ২৫২ মিলিমিটার এবং মাওফ্লাংয়ে ৯৮ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এ ছাড়া একই সময়ে ভারতের দক্ষিণ ত্রিপুরার বিলোনিয়ায় ১০০ মিলিমিটার এবং অরুণাচলের পাসিঘাটে ৮৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
উজানের এই অতিভারি বৃষ্টিপাতের প্রভাবেই সিলেট ও সুনামগঞ্জ অঞ্চলের নদ-নদীতে পানি দ্রুত বাড়ছে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র।
শুধু সিলেট অঞ্চলই নয়, বুলেটিনে দেশের উত্তরাঞ্চলের নদ-নদী নিয়েও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল থাকলেও আগামী তিনদিনে তা বৃদ্ধি পেতে পারে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এসব নদীর কিছু স্থানে পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। এর ফলে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।
এ ছাড়া বুলেটিনে বলা হয়েছে, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিমাংশ ও আশপাশের এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি উত্তর-পশ্চিম দিকে সরে গেছে এবং আগামী ২৪ ঘণ্টায় এটি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সিলেট, সুনামগঞ্জ, ফেঞ্চুগঞ্জ, বন্যা, কুশিয়ারা নদী