১৫ মার্চ ২০২৬

তথ্যপ্রযুক্তি-শিক্ষা / শিক্ষা

শান্তিগঞ্জে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে ৯৭ বিদ‍্যালয়ে ‘নলেজ টেস্ট’

নোহান আরেফিন নেওয়াজ, শান্তিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ

প্রকাশঃ ৩ জুন, ২০২৫ ১২:৫৩ পূর্বাহ্ন


সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের রথপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঢুকলে প্রথমে মনে হবে, বিদ্যালয়টি ফাঁকা। চারপাশে নিস্তব্ধতা। অথচ প্রতিটি শ্রেণিকক্ষ খোলা। কাছে যেতেই দেখা গেল, শিক্ষকরা উপস্থিত এবং শিক্ষার্থীরা গভীর মনোযোগে পরীক্ষা দিচ্ছে। জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক আশীষ কুমার চক্রবর্তী বলেন, 'বেসিক নলেজ টেস্ট চলছে। শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত মনোযোগীভাবে অংশ নিচ্ছে।'

চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সোমবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত এমন চিত্র দেখা গেছে উপজেলার ৯৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনায় এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে এই পরীক্ষার আয়োজন করা হয়।

এই ‘নলেজ টেস্ট’-এর মূল উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের বাংলা, গণিত, ইংরেজি ও সাধারণ জ্ঞানে দক্ষতা বৃদ্ধি, রিডিং ক্যাপাসিটি উন্নয়ন এবং বুনিয়াদি শিক্ষায় পারদর্শিতা অর্জন নিশ্চিত করা। পরীক্ষার মাধ্যমে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিদ্যালয় নির্বাচন করা হবে। এ জন্য তিন মাস আগেই নির্ধারিত সিলেবাস দেওয়া হয়েছিল।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল ৫ হাজার ৭৮ জন শিক্ষার্থীর। তবে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও অংশ নেয় ৪ হাজার ৪৫৯ জন, যা মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ৮৫ শতাংশ। এর মধ্যে চতুর্থ শ্রেণিতে উপস্থিতি ৮৪ শতাংশ এবং পঞ্চম শ্রেণিতে ৮৬ শতাংশ।

পরীক্ষা হয়েছে দুই ধাপে প্রথম ধাপে ৯০ নম্বরের লিখিত, দ্বিতীয় ধাপে ১০ নম্বরের মৌখিক (রিডিং টেস্ট)। ফলাফল প্রকাশ করা হবে চলতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহে, তখন পুরস্কারও বিতরণ করা হবে।

জানা গেছে, মেধাতালিকায় স্থান পাওয়া প্রতি শ্রেণির ৫০ জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কার দেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রতিটি বিষয়ের জন্য ভালো ফল করা ৫ জন শিক্ষককেও পুরস্কৃত করা হবে। উপজেলাজুড়ে শ্রেষ্ঠ ১০টি বিদ্যালয় এবং ৩ জন প্রধান শিক্ষককেও সম্মাননা দেওয়া হবে।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী হাসিবার বাবা অজুদ মিয়া বলেন, “স্যাররা খুব ভালো উদ্যোগ নিয়েছেন। এতে বাচ্চারা আগেভাগেই পড়াশোনায় মনোযোগী হয়। আমরা ইউএনও স্যারকে ধন্যবাদ জানাই।”

রথপাড়া বিদ্যালয়ের শিক্ষক আশীষ কুমার চক্রবর্তী ও সদরপুর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রুমা রাণী চক্রবর্তী বলেন, 'এই উদ্যোগ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের জন্যই ইতিবাচক। এতে পড়াশোনার প্রতি উৎসাহ বাড়বে।'

শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুকান্ত সাহা বলেন, 'আমাদের এই অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের অনেকেই পড়াশোনায় মনোযোগী নয়। তাদের উৎসাহিত করতেই আমরা এই পরীক্ষার আয়োজন করেছি। কিছু বিদ্যালয়ে শতভাগ উপস্থিতি ছিল, যা আমাদের আশাবাদী করে। পরীক্ষায় প্রাপ্ত মোট নম্বরের ভিত্তিতে বিদ্যালয়গুলোর র‌্যাংক নির্ধারণ করা হবে। অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হলে সেই সম্ভাবনা কমে আসবে।'


শেয়ার করুনঃ

তথ্যপ্রযুক্তি-শিক্ষা থেকে আরো পড়ুন

বেসিক নলেজ টেস্ট, শান্তিগঞ্জ প্রাথমিক বিদ্যালয়, প্রাথমিক শিক্ষা পরীক্ষা,

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ