৩১ মে ২০২৬

দৈনন্দিন

মৌলভীবাজারে নদীতে ফেলা হলো কোটি টাকার চামড়া

সিলেট ভয়েস ডেস্ক

প্রকাশঃ ৩১ মে, ২০২৬ ৯:১২ অপরাহ্ন

ছবিঃ সংগৃহীত

মৌলভীবাজারে এবারের ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য না পাওয়া এবং ক্রেতার অভাবে চরম বিপাকে পড়েছেন কোরবানিদাতারা। দিনভর অপেক্ষা করেও চামড়া বিক্রি করতে না পেরে অনেকে বাধ্য হয়ে চামড়া নদীতে ফেলে দিয়েছেন কিংবা মাটিতে পুঁতে ফেলেছেন।

 

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, জেলায় এবার প্রায় ৭১ হাজার পশু কোরবানি হয়েছে, যার মধ্যে গরুর সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার। এসব গরুর চামড়ার প্রকৃত বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে চামড়া অনেকটা ‘মূল্যহীন’ পণ্যে পরিণত হয়েছে।

 

প্রতি বছর কোরবানির চামড়া সংগ্রহের বড় উৎস ছিল কওমি মাদরাসাগুলো। তবে গত বছর লোকসান হওয়ায় এবার জেলার বেশিরভাগ মাদরাসা চামড়া সংগ্রহ থেকে বিরত ছিল। শিক্ষকদের দাবি, একটি চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণের খরচ বিক্রয়মূল্যের চেয়ে বেশি হওয়ায় তাঁরা আর ঝুঁকি নিতে চাননি।

 

বালিকান্দি এলাকার ব্যবসায়ীদের মতে, ২০০ বছরের ঐতিহ্য ধরে রাখতে তারা নামমাত্র কিছু চামড়া কিনলেও বাজারের বাস্তব চিত্র ভয়াবহ। ট্যানারি মালিকদের কাছে ব্যবসায়ীদের কোটি টাকা বকেয়া পড়ে আছে এবং গত বছরের চামড়াও এখনো অবিক্রীত রয়ে গেছে। ফলে নতুন করে চামড়া কিনতে ব্যবসায়ীদের আগ্রহ নেই।

 

পৌর শহরের পুরাতন বাস স্ট্যান্ড এলাকায় দেখা গেছে, হাতেগোনা যে কয়েকজন ব্যবসায়ী চামড়া কিনছেন, তাঁরা প্রতি পিস মাত্র ১০০ থেকে ১৫০ টাকা দাম দিচ্ছেন। অনেক বিক্রেতা দূর থেকে গাড়ি ভাড়া করে চামড়া নিয়ে এলেও বিক্রয়মূল্য দিয়ে গাড়ি ভাড়ার খরচও উঠছে না।

 

হতাশা প্রকাশ করে বিক্রেতা মনসুর আলী জানান, সারাদিন অপেক্ষা করেও কেউ চামড়া নিতে আসেনি। অন্য বছর মাদরাসাগুলো সংগ্রহ করলেও এবার তারাও আসেনি। শেষে বাধ্য হয়ে নদীতে ফেলে দিয়েছি।

 

আবদুস শুকুর নামের আরেক বিক্রেতা জানান, তিনি ৪০টি চামড়া নিয়ে শহরে এলেও কেউ কেনেনি, পরে তিনিও সেগুলো নদীতে ফেলে দিতে বাধ্য হয়েছেন।

 

বালিকান্দি বাজার চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. শওকত বলেন, ‘চামড়া ব্যবসায়ীদের শ্রমিকের মজুরির টাকাও মেলে না চামড়া বিক্রি করে। আমাদের এলাকায় ২০০ বছর ধরে চামড়া ব্যবসা চলছে। আমাদের ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য কিছু চামড়া সংগ্রহ করছি। সরকার চামড়ার একটি ফি ঠিক করলেও বাস্তবে এই দামে বেচা-কেনা করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। গত বছরের চামড়া এখনও বিক্রি করতে পারিনি। ট্যানারিগুলোর কাছে বকেয়া রয়েছে ব্যবসায়ীদের। আগামীতে এই শিল্প পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে।’

 

এ বিষয়ে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, ‘চামড়ার সার্বিক বিষয় নিয়ে আমরা জেলার বালিকান্দি চামড়া ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা যতটুকু সম্ভব হয়েছে ততটুকু ক্রয় করেছে। আমাদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কওমি মাদরাসায় লবণ দেওয়া হয়েছে চামড়া সংরক্ষণের জন্য।’


শেয়ার করুনঃ

দৈনন্দিন থেকে আরো পড়ুন

চামড়া শিল্প, ঈদুল আজহা, মৌলভীবাজার, নদী

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ