১৯ আগস্ট ২০২৬

দৈনন্দিন

আট বছরেও শেষ হয়নি উন্নয়ন কাজ

নবীনগর–আশুগঞ্জ সড়কে কাজের ধীরগতির প্রভাব পড়ছে ঢাকা–সিলেট যোগাযোগে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ১৯ আগস্ট, ২০২৬ ৩:১৮ অপরাহ্ন


তিন বছরে শেষ হওয়ার কথা ছিল ৬০৪ কোটি টাকার নবীনগর–আশুগঞ্জ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প। কিন্তু আট বছর পেরিয়েও শেষ হয়নি গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের কাজ। প্রকল্পের মেয়াদ কয়েক দফা বাড়িয়ে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত নেওয়া হলেও এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত ভৌত অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৭৮ শতাংশ। ফলে নবীনগর–আশুগঞ্জ অঞ্চলের সঙ্গে ঢাকা–সিলেট ও ঢাকা–চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কের যোগাযোগ সহজ করার যে লক্ষ্য নিয়ে প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছিল, তা বাস্তবায়ন নিয়েই এখন তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।


পরিকল্পনা কমিশনের ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুযায়ী, ২০১৮ সালের জুলাই থেকে শুরু হওয়া প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০৪ কোটি ৮৫ লাখ ৮২ হাজার টাকা।


সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের আওতায় ১৮ দশমিক ৫৫ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ ও উন্নয়ন, নয়টি সেতু ও ১৩টি কালভার্ট নির্মাণ এবং সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের কাজ রয়েছে।


বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত প্রকল্পটির ক্রমপুঞ্জিত আর্থিক অগ্রগতি ৬৭ দশমিক ৯০ শতাংশ এবং ভৌত অগ্রগতি ৭৮ শতাংশ। প্রকল্পের মেয়াদের তুলনায় এ অগ্রগতি কম বলে আইএমইডির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রধান বাধাগুলোর মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণে দীর্ঘসূত্রতা, কোভিড-১৯ পরিস্থিতি, নকশা হালনাগাদে ঘাটতি, ক্রয়প্রক্রিয়ার জটিলতা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের দুর্বলতাকে চিহ্নিত করেছে আইএমইডি।


প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় ভূমির মাত্র ৫৭ দশমিক ৭১ শতাংশ এখন পর্যন্ত অধিগ্রহণ করা হয়েছে। মূল প্রকল্পে প্রয়োজনীয় জমির পরিমাণ যথাযথভাবে নির্ধারণ না করায় পরবর্তী সময়ে সংশোধিত প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণের পরিমাণ ও ব্যয় বেড়েছে।


নবীনগর–আশুগঞ্জ সড়ক নির্মাণের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো নবীনগর ও আশুগঞ্জ এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করা এবং ঢাকা–সিলেট ও ঢাকা–চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কের সঙ্গে এ অঞ্চলের সংযোগ সহজ করা।


বর্তমানে নবীনগর থেকে ঢাকা কিংবা দেশের বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে অনেক সময় ঘুরপথ ব্যবহার করতে হয়। এতে অতিরিক্ত প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়। প্রকল্পের সড়কটি পুরোপুরি চালু হলে নবীনগর থেকে আশুগঞ্জ হয়ে জাতীয় মহাসড়ক নেটওয়ার্কে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে। এতে ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের সঙ্গে নবীনগর অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ আরও কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


তবে প্রকল্পটি সিলেট বিভাগের কোনো অভ্যন্তরীণ সড়ক প্রকল্প নয়। এর গুরুত্ব মূলত নবীনগর–আশুগঞ্জ অঞ্চলের সঙ্গে জাতীয় মহাসড়ক নেটওয়ার্কের সংযোগ তৈরিতে। বিশেষ করে ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ করার ক্ষেত্রে সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


আইএমইডির প্রতিবেদনে প্রকল্পের বিভিন্ন কাজের অগ্রগতিতে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে। সড়ক বাঁধ প্রশস্তকরণের কাজ ৯৯ দশমিক ২৮ শতাংশ এবং সেতু নির্মাণের কাজ প্রায় ৯০ শতাংশ শেষ হয়েছে। কিন্তু সড়কের সার্ফেসিং বা চূড়ান্ত পেভমেন্টের কাজ এগিয়েছে মাত্র ১৭ দশমিক ৭৩ শতাংশ।


এছাড়া ড্রেনেজ ব্যবস্থার কাজ ৩৬ দশমিক ৪০ শতাংশ এবং সড়ক রক্ষায় সিসি ব্লক স্থাপনের কাজ ৫১ দশমিক ৬৭ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে।


আইএমইডির মতে, ড্রেনেজ ও সড়ক সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ পিছিয়ে থাকায় ভবিষ্যতে পানি নিষ্কাশন, সড়কের স্থায়িত্ব এবং নিরাপদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।


সরেজমিন পরিদর্শনে প্রকল্পের কিছু কাজে অনুমোদিত নকশা ও নির্দেশনার ব্যত্যয় পাওয়ার কথাও জানিয়েছে আইএমইডি।


প্রতিবেদন অনুযায়ী, সড়কের উভয় পাশে হার্ড শোল্ডারসহ ক্যারেজওয়ের অনুমোদিত প্রস্থ ৭ দশমিক ৩০ মিটার হলেও পরিমাপে তা ৭ দশমিক ৩৫ মিটার পাওয়া গেছে। আবার একটি নির্মিত স্তরের পুরুত্ব প্রায় ২৫০ মিলিমিটার পাওয়া গেছে, যেখানে অনুমোদিত স্পেসিফিকেশন ছিল ২০০ মিলিমিটার।


কিশোরপুর ব্রিজ এলাকায় সিসি ব্লক ব্যবহারের পরও কিছু জায়গায় ব্রিজ ও অ্যাপ্রোচ সড়কের সংযোগস্থলে মাটির ক্ষয় দেখা গেছে। পাশাপাশি বাধ্যতামূলক ৪০ কিলোমিটার গতিসীমার সাইনবোর্ডের মান নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে আইএমইডি।


তবে কালভার্টগুলোর কাঠামো মজবুত ও স্থিতিশীল রয়েছে বলে সরেজমিন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কালভার্টগুলোতে ফাটল, বিকৃতি, বসে যাওয়া বা কাঠামোগত ক্ষতির কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি।


সওজের প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ভূমি অধিগ্রহণসহ প্রকল্পে কিছু সমস্যা ছিল। সেগুলো কাটিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।


তিনি বলেন, আইএমইডির সুপারিশ অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে। প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত রয়েছে। ওই সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ হবে বলে তারা আশা করছেন।


তবে প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডি যথাযথভাবে করা হয়েছিল কি নায়? এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান প্রকৌশলী কোনো মন্তব্য করেননি।


আইএমইডির প্রশাসন অনুবিভাগের প্রধান রিপন চাকমা বলেন, আইএমইডি একটি পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা হিসেবে প্রকল্পের বাস্তবায়ন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে। ডিপিপি অনুযায়ী বাস্তবায়নে কোনো ব্যত্যয় থাকলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে তা জানানো হয়।


শেয়ার করুনঃ

দৈনন্দিন থেকে আরো পড়ুন

নবীনগর-আশুগঞ্জ সড়ক, নবীনগর-আশুগঞ্জ সড়ক প্রকল্প, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প, সওজ, আইএমইডি, ভূমি অধিগ্রহণ

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ