এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্পিকার ও সিইসিকে চিঠি দিল জামায়াত
রাজনীতি
প্রকাশঃ ২৩ জুলাই, ২০২৬ ৫:৩৭ অপরাহ্ন
জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও নাগরিকবান্ধব সেবা নিশ্চিত করতে বেশ কিছু নতুন নির্দেশনা দিয়েছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক)। এখন থেকে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্ম নিবন্ধনের সময় টিকাকার্ড প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি স্বচ্ছতা নিশ্চিতে আবেদনকারীকে স্বশরীরে অফিসে উপস্থিত হয়ে আবেদন জমা দেওয়ার নিয়মও কার্যকর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সিসিকের স্বাস্থ্য শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব নির্দেশনা দেন সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। সভায় উপস্থিত ছিলেন সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকারসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সভায় সিসিক প্রশাসক বলেন, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সনদ নাগরিকের মৌলিক অধিকার। সনদ গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো নাগরিক যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। সরকার নির্ধারিত ফির বিনিময়ে দ্রুত ও সহজভাবে সেবা প্রদান নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে সদাচরণ করতে হবে এবং কোনো ধরনের অনিয়ম বা অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নাগরিকসেবা সহজ, স্বচ্ছ ও সময়োপযোগী করাই আমাদের লক্ষ্য।
সভায় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সংক্রান্ত আইন ও বিধিমালার বিস্তারিত তুলে ধরেন সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম। তিনি জানান, ১৮ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সীদের নিজেকেই জন্ম নিবন্ধনের আবেদন করতে হবে, আর ১৮ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে আবেদন করবেন তাদের আইনানুগ অভিভাবক। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই আবেদনকারীকে স্বশরীরে অফিসে গিয়ে আবেদন জমা দিতে হবে বলে জানান তিনি।
ফি প্রসঙ্গে তিনি জানান, ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্ম নিবন্ধনের জন্য সরকার নির্ধারিত ফি ২৫ টাকা, আর ৫ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য তা ৫০ টাকা। জন্ম সনদ সংশোধনের ক্ষেত্রে ফি নির্ধারিত হয়েছে ১০০ টাকা।
প্রবাসীদের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন নিয়ে ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, আইন অনুযায়ী এ ধরনের আবেদন সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের মাধ্যমে করাই নিয়ম। তবে যেসব প্রবাসী বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন, তারা উপযুক্ত প্রমাণপত্রসহ আবেদন করলে বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে।
মৃত্যু নিবন্ধনের ক্ষেত্রে কেবল আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই সনদ দেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা কিংবা সিসিক এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ব্যক্তিরাই কেবল এই কর্পোরেশন থেকে জন্ম বা মৃত্যু সনদ পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। এ ছাড়া সিসিকের আঞ্চলিক কার্যালয়ের অধীন ওয়ার্ডের বাসিন্দারা নিজ নিজ আঞ্চলিক কার্যালয় থেকেই এই সেবার জন্য আবেদন করতে পারবেন।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সিসিকের সচিব মো. আশিক নূর, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেব, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা পদ্মাসন সিংহ, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা (অঞ্চল-২) সুমন চন্দ্র দাশ, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা (অঞ্চল-৫) নূসরাত লায়লা নীরা, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ একলিম আবদীনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
সিলেট, সিটি করপোরেশন, প্রশাসক, কাইয়ুম চৌধুরী, জন্ম নিবন্ধন