২৪ জুলাই ২০২৬

দৈনন্দিন / মৃত‍্যু

বাংলাদেশি পরিবারকে উদ্ধারে ঝাঁপিয়ে পড়েন ব্রিটিশরা, তবুও বাঁচানো যায়নি মা-মেয়েকে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ২৩ জুলাই, ২০২৬ ১০:২৮ অপরাহ্ন

ছবিঃ সিলেট ভয়েস

গ্রীষ্মকালীন ছুটি কাটাতে যুক্তরাজ্যের এসেক্সের ওয়েস্ট মার্সি সমুদ্রসৈকতে গিয়েছিলেন যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ও যুক্তরাজ্য যুবদল নেতা ডা. মনসুর রহমানে পরিবার। সৈকতে স্রোতের তোড়ে পরিবারের একটি শিশু ভেসে যাওয়ার সময় বাঁচাতে গিয়ে পানিতে তলিয়ে যান মনসুর রহমানের স্ত্রী শ্যালি রহমান (৪২) ও তাঁর মেয়ে সামিহা রহমান (১৫)।

 

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে দেশটির পুলিশ, কোস্টগার্ড, এয়ার অ্যাম্বুলেন্স এবং রয়্যাল ন্যাশনাল লাইফবোট ইনস্টিটিউশনের (আরএনএলআই) উদ্ধারকারী দল পৌঁছায়। স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধারকাজে অংশ নেন। প্রাণপণ চেষ্টার পরও শ্যালি রহমান ও তাঁর মেয়ে সামিহা রহমানকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। সমুদ্রসৈকত থেকেই উদ্ধার করা হয়েছে তাদের মরদেহ। 

 

একই ঘটনায় গুরুতর আহত এক শিশুকে হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। বুধবার স্থানীয় সময় বিকেলে সাড়ে ৫টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

শ্যালি রহমানের বাবা মুজিবুর রহমান সিলেটের ছাতক উপজেলার বাসিন্দা ও যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সহসভাপতি। তার স্বামী ডা. মনসুর রহমান সিলেটের বিএনপির নেতা প্রয়াত শেখ মখন মিয়ার ছেলে।

 

বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্য বিএনপির আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ ও সদস্যসচিব খসরুজ্জামান খসরু গণমাধ্যমকে দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

 

পরিবারের সদস্য ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, লন্ডনের কাছের ওয়েস্ট মার্সি সমুদ্রসৈকতে পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে অবকাশযাপন করছিলেন। এ সময় প্রবল স্রোতের টানে পরিবারের সাত বছর বয়সী এক শিশু ভেসে যেতে শুরু করলে তাকে উদ্ধারে পানিতে ঝাঁপ দেন শ্যালি রহমান ও তাঁর মেয়ে সামিহা। শিশুটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও উত্তাল জোয়ারের স্রোতে মা ও মেয়ে তলিয়ে যান।

 

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ, কোস্টগার্ড, অ্যাম্বুলেন্স, এয়ার অ্যাম্বুলেন্স এবং রয়্যাল ন্যাশনাল লাইফবোট ইনস্টিটিউশনের (আরএনএলআই) উদ্ধারকারী দল পৌঁছায়। স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধারকাজে অংশ নেন।

 

সৈকতসংলগ্ন একটি বিচ হাটের মালিক বেভারলি স্মিট বিবিসিকে বলেন, পাশের একটি বিচ হাটে বেড়াতে আসা এক ব্যক্তি সাহায্যের আর্তনাদ শুনে পানিতে ঝাঁপ দেন। তিনি তিনবার সাঁতরে গিয়ে উদ্ধারকাজে অংশ নেন এবং অন্তত দুজন শিশুকে তীরে ফিরিয়ে আনেন। তবে তখন তাদের শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল না। তিনি বলেন, জোয়ারের স্রোতের বিপরীতে সাঁতার কাটা ছিল অত্যন্ত কঠিন এবং সেদিন সমুদ্রের পানিও ছিল বেশ ঠান্ডা।

 

পানিক্রীড়া প্রশিক্ষক ম্যাথিউ ডিলি বলেন, ঘটনাস্থলটি একটি মোহনা, যেখানে দুই নদীর পানি এসে মিশেছে। ভাটার সময় এখানে স্রোত অত্যন্ত শক্তিশালী হয়ে ওঠে। তাঁর ভাষায়, ‘এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে দক্ষ সাঁতারুকেও টিকে থাকতে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়।’তিনি পানিতে নামার আগে লাইফ জ্যাকেট বা ভাসমান নিরাপত্তাসামগ্রী ব্যবহারের পরামর্শ দেন।

 

নিহতদের পরিবারের সদস্য মাহফুজুর রহমান মুন্না জানিয়েছেন, সাত বছর বয়সী শিশুটি এখনো হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।

 

ঘটনার পর ওয়েস্ট মার্সি সৈকতে স্থানীয়রা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। ওয়েস্ট মার্সির মেয়র বব জেনকিনস বলেন, প্রতিবছর হাজারো মানুষ এই সৈকতে বেড়াতে এলেও এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত বিরল। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

 

নিহতদের স্বজন মাহফুজুর রহমান মুন্না বলেন, ‘সমুদ্রসৈকতে ঘুরতে গিয়ে মা শ্যালি রহমান ও মেয়ে সামিহা রহমানের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় শ্যালি রহমানের বোনের সাত বছরের ছেলে মুসা আহমেদ আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়্যাল লন্ডন হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে চিকিৎসাধীন রয়েছে।’

 

সিলেট ভয়েসকে তিনি বলেন, ‘মরদেহ এখনো পরিাবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। মরদেহবর্তমানে হাসপাতালে পুলিশি হেফাজতে রয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’তিনি জানান, তারা খুবই ভালো একটি পরিবার। পুরো কমিউনিটি এই ঘটনায় গভীরভাবে শোকাহত।  

 

এদিকে, এ দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। এসেক্স সফরকালে তিনি ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত মর্মান্তিক’ বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া জরুরি সেবা সংস্থার সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তাঁদের দ্রুত ও নিরলস প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন।

অন্যদিকে এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার দলটির সহ-দপ্তর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

শোকবার্তায় মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এ ধরনের হৃদয়বিদারক ও মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবার-পরিজনদের প্রতি শোক জানানোর ভাষা আমার জানা নেই। মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন তাদের জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন এবং শোকার্ত পরিবারকে এই অপূরণীয় ক্ষতি ও শোক সহ্য করার ধৈর্য দান করেন।’

তিনি নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।


শেয়ার করুনঃ

দৈনন্দিন থেকে আরো পড়ুন

ব্রিটিশ, বাংলাদেশি, মা মেয়ের মুত্যু, সমুদ্র সৈকত

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ