পাকিস্তানে সেনাদের বহনকারী ট্রেনে হামলা, নিহত ২৩
বিশ্বজুড়ে
প্রকাশঃ ২৪ মে, ২০২৬ ২:৫৫ অপরাহ্ন
পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তান-এর রাজধানী কোয়েটা-এ সেনাসদস্য বহনকারী জাফর এক্সপ্রেসে আত্মঘাতী হামলায় অন্তত ২৩ জন নিহত হয়েছেন।
রোববার চমন ফাটকের কাছে ভয়াবহ এ বিস্ফোরণের ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, রেললাইনের পাশে বিস্ফোরক রাখা হয়েছিল। ট্রেনটি সেখানে পৌঁছালে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে ট্রেনের কয়েকটি বগি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং আগুন ধরে যায় কয়েকটি কামরায়। বিস্ফোরণের অভিঘাতে আশপাশের বাড়িঘর ও যানবাহনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ঘটনার পরপরই উদ্ধারকাজ শুরু করে পাকিস্তান সেনাবাহিনী, পুলিশ ও জরুরি সেবা বিভাগ। আহতদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কামরাগুলোতে এখনো কেউ আটকে আছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ট্রেনটিতে বিপুলসংখ্যক সেনাসদস্য ছিলেন। মূলত তাঁদের বহনকারী বগিগুলোই হামলার লক্ষ্য ছিল।
হামলার দায় স্বীকার করেছে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বালোচিস্তান লিবারেশন আর্মি-এর মজিদ ব্রিগেড। সংগঠনটির দাবি, কোয়েটা ক্যান্টনমেন্ট থেকে সেনাদের বহন করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল ট্রেনটিতে।
কোয়েটা পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরণে অন্তত একটি বগি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরও কয়েকটি কামরা।
জাফর এক্সপ্রেস ট্রেনটি বেলুচিস্তানের কোয়েটা থেকে পেশোয়ার পর্যন্ত চলাচল করে। গত কয়েক বছরে একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছে ট্রেনটি। এর বেশির ভাগ ঘটনার জন্য বালোচ বিদ্রোহীদের দায়ী করা হয়েছে।
এর আগে গত বছরের অক্টোবরে সিন্ধু প্রদেশের সুলতানকোট এলাকায় জাফর এক্সপ্রেসে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। নভেম্বরে আবারও হামলার শিকার হয় ট্রেনটি। এর আগে গত বছরের মার্চে ট্রেনটির যাত্রীদের জিম্মি করেছিল বালোচ বিদ্রোহীরা। পরে সেনাবাহিনীর অভিযানে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ২৬ সেনাসদস্য ও ৩৩ বিদ্রোহী নিহত হন।