জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সিকৃবিতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি
তথ্যপ্রযুক্তি-শিক্ষা
প্রকাশঃ ১০ জুন, ২০২৬ ৭:১৬ অপরাহ্ন
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম বলেছেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের সবচেয়ে ক্রান্তিকালে নিজের ও পরিবারের ঝুঁকি নিয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তাঁর এই ঘোষণা বাংলাদেশের মানুষকে উজ্জীবিত করেছিল এবং মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। এ কারণেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের মানচিত্র থেকে সরিয়ে ফেলা সম্ভব নয়।
বুধবার (১০ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় মিনি অডিটোরিয়ামে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপাচার্য বলেন, বাংলাদেশে অনেক রাজনৈতিক দল ও নেতৃবৃন্দ আছেন, কিন্তু দেশে একটি মাত্র পরিবার আছে এবং তাদের নেতৃত্বে একটি দল আছে যার নাম বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তারা দেশের প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে সবসময় ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণ করে তিনি বলেন, তিনি দেশের জন্য আন্দোলন করেছেন, স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশের আপসহীন নেত্রী হিসেবে সর্বস্তরের মানুষের কাছে পরিচিত। পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনে তাঁর সুযোগ্য সন্তান জনাব তারেক রহমানের যে সাহসী ভূমিকা ছিল, সে কারণে অনেক রাজনৈতিক দলের নেতারা তাঁকে এই আন্দোলনের মূলকারীগর হিসেবে অভিহিত করছেন।
ড. মো. খায়রুল ইসলাম উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। গত ২০ বছর ধরে আমরা তাঁর প্রকৃত নেতৃত্ব ও অবদান প্রচার করতে পারিনি। আমরা এখন তা নতুন প্রজন্মের সামনে সঠিকভাবে তুলে ধরতে চাই। এ সময় তিনি উপস্থিত শিক্ষকমণ্ডলীকে শিক্ষার্থীদের মাঝে এই ইতিহাস আলোচনা করা এবং তাদের অনুপ্রাণিত করার আহ্বান জানান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আমাদের বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রথমে বলেছিলেন ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’, পরে বলেছেন ‘উই হ্যাভ এ প্ল্যান’। তাঁর এই পরিকল্পনার সাথে কাজ করার সুযোগ আমার হয়েছে। ঠিক তেমনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আমারও কিছু সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আছে, যা সম্পূর্ণ শিক্ষার্থীবান্ধব। আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে গুড গভর্ন্যান্স (সুশাসন) নিশ্চিত করব।
শিক্ষার্থীদের কল্যাণের কথা উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, আমরা যা খাব, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও তা-ই খাবে। ইনশাআল্লাহ, শিক্ষার্থীরা আবাসিক হলগুলোতে ভালো মানের খাবার পাবে।
বক্তব্যের শেষে তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।
উদযাপন কমিটির সভাপতি ও গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ মাহবুবুর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোঃ সাজেদুল করিম এবং স্মারক বক্তব্য রাখেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহ মোঃ আতিকুল হক।
অন্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন ফিজিক্যাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক আহমদ কবির চৌধুরী, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোঃ জসিম উদ্দিন, প্রক্টর অধ্যাপক মোঃ মোখলেসুর রহমান, ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. মোঃ সাইফুল ইসলাম, রেজিস্ট্রার সৈয়দ ছলিম মোহাম্মদ আব্দুল কাদির, আইকিউএসির পরিচালক অধ্যাপক ড. সালমা আখতার, গণিত বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মোঃ আশরাফ উদ্দিন, সাস্ট রাইটিং সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মুরাদ, সৈয়দ মুজতবা আলী হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আশরাফ সিদ্দিকী, পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক আ ফ ম জাকারিয়া, সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক মুহ. মিজানুর রহমান, গণিত বিভাগের অধ্যাপক মতিয়ার রহমান, প্রধান প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার মোঃ জয়নাল ইসলাম চৌধুরী, অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার (প্রশাসন) সুফিয়ান চৌধুরী, অতিরিক্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মখলিছুর রহমান পারভেজ প্রমুখ।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার ও উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব কালাম আহমদ চৌধুরী।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করেন কেন্দ্রীয় মসজিদের পেশ ইমাম মুহাম্মদ মতিউর রহমান। আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা এবং কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
শাবিপ্রবি, খায়রুল ইসলাম, বিএনপি, জিয়াউর রহমান, সিলেট সংবাদ