লিটারে ৪ টাকা বাড়ল সয়াবিন তেলের দাম
ব্যবসা-বাণিজ্য
প্রকাশঃ ১৫ মার্চ, ২০২৬ ১১:১৬ অপরাহ্ন
ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সিলেট নগরের মার্কেট ও বিপণিবিতানগুলোতে কেনাকাটায় ধুম পড়েছে। সকাল থেকে সেহরির আগ পর্যন্ত চলছে ঈদের কেনাকাটা।
তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে মানুষের উপস্থিতি থাকলেও আগের বছরের তুলনায় বিক্রি কিছুটা কম। তাঁদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অনেক প্রবাসী নিয়মিত টাকা পাঠাতে পারছেন না, যার প্রভাব পড়েছে এবারের ঈদবাজারে।
ঈদ উপলক্ষে এসব এলাকার মার্কেট ও শপিংমল সাজানো হয়েছে নানা রঙের আলোকসজ্জায়। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে আলোয় ঝলমল করে ওঠে পুরো নগরী। পরিবার-পরিজনকে সঙ্গে নিয়ে অনেকেই কেনাকাটা করতে বের হন। দোকানে দোকানে ঘুরে পছন্দের পোশাক দেখছেন, দরদাম করছেন ক্রেতারা।
কিশোর ও তরুণদের অনেককে দেখা যায় জুতা কিংবা পোশাকের দোকানে ঘুরে ঘুরে পছন্দের জিনিস খুঁজতে। কেউ পছন্দের পোশাক ট্রায়াল দিয়ে দেখছেন, আবার পছন্দ না হলে নতুন করে অন্য দোকানে খোঁজ করছেন।
নগরের জিন্দাবাজার, নয়াসড়ক ও কুমারপাড়া এলাকার আধুনিক শপিংমলগুলোতে তুলনামূলক বেশি দেখা গেছে উচ্চবিত্ত ক্রেতাদের। অন্যদিকে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত ক্রেতাদের উপস্থিতি বেশি ফুটপাতের বিভিন্ন দোকানে।
বন্দরবাজারের হাসান মার্কেট ও হর্কাস মার্কেটে দেখা গেছে উপচে পড়া ভিড়। নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী পোশাক, জুতা ও প্রসাধনী কিনছেন ক্রেতারা।
জিন্দাবাজার শুকরিয়া মার্কেটের কর্মচারী তোফায়েল আলম বলেন, সিলেটে সাধারণত রমজানের মাঝামাঝি সময় থেকে ঈদের বাজার জমে ওঠে। তবে এবার রমজানের শুরুর দিক থেকেই বেচাকেনা শুরু হয়েছে। মেয়েদের থ্রি-পিস, ছেলেদের পাঞ্জাবি এবং শিশুদের পোশাকের চাহিদা বেশি। বর্তমানে ক্রেতাদের চাপ অনেক বেড়েছে এবং সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দোকানে ভিড় লেগেই থাকে।
তবে বাজারে ঘুরতে আসা অনেক ক্রেতাই পোশাকের দাম বাড়ার বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন।
জিন্দাবাজারে একটি বিপণিবিতানে কেনাকাটা করতে আসা নগরের চৌখিদেখি এলাকার বাসিন্দা লোকমান চৌধুরী বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার একই বাজেটে পরিবারের সবার জন্য কেনাকাটা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রায় সব ধরনের পোশাকের দাম বেড়ে গেছে। তবুও ঈদ উপলক্ষে পরিবারের সবার জন্য কেনাকাটা করতেই হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ থেকে আসা আমিনুল হক বলেন, কয়েকটি দোকানে ঘুরে কাপড়ের দাম আগের তুলনায় বেশি মনে হয়েছে। তাই এখনও কিছু কেনেননি। দরদাম করে ভালো দাম পেলে কিনবেন বলে জানান তিনি।
ব্যবসায়ীরাও স্বীকার করছেন যে গত বছরের তুলনায় এ বছর অনেক পণ্যের দাম বেড়েছে। তাঁদের মতে, জুতার দাম গড়ে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। পাশাপাশি প্রসাধনী পণ্যের দামও ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
ঈদের কেনাকাটাকে কেন্দ্র করে নগরজুড়ে যানজটও বেড়েছে। বিশেষ করে বন্দরবাজার, হাসান মার্কেট ও মধুবন মার্কেট ও জিন্দাবাজার এলাকায় সারাদিনই যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।
কেনাকাটা করতে আসা আশরাফুল হক ঝলক বলেন, আমি সুবিদবাজার থেকে থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় উঠেও যানজটের কারণে কয়েকটি পয়েন্টে দীর্ঘ সময় আটকে থাকতে হয়েছে। যেখানে ১০ মিনিট লাগার কথা, সেখানে পৌঁছাতে সময় লেগেছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ মিনিট।
এদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, সিলেট প্রবাসী অধ্যুষিত অঞ্চল হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির প্রভাব এখানকার ঈদবাজারেও পড়েছে।
নগরের একটি অভিজাত শপিংমলের শাড়ির দোকানের কর্মচারী আলাউদ্দিন চৌধুরী বলেন, মানুষ বাজারে এলেও দামি পণ্যের বিক্রি তুলনামূলক কম। অনেক ক্রেতা দরদাম করে ফিরে যাচ্ছেন। প্রবাসীদের অনেক পরিবারের সদস্যরাও এখনও কেনাকাটা করতে আসেননি।
সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সভাপতি আব্দুর রহমান রিপন বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর ব্যবসা কিছুটা কম হচ্ছে। সিলেটে অনেক পরিবার প্রবাসীদের পাঠানো টাকার ওপর নির্ভরশীল। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে অনেক প্রবাসী নিয়মিত টাকা পাঠাতে পারছেন না, যার প্রভাব পড়েছে ঈদবাজারে।
ঈদ, সিলেট, ঈদুল ফিতর, ঈদ কেনাকাটা