সিলেটের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য নতুন আবাসনের আশ্বাস বাণিজ্যমন্ত্রীর
রাজনীতি
প্রকাশঃ ১৪ জানুয়ারী, ২০২৬ ৩:১৪ অপরাহ্ন
গণ-অভ্যুত্থানের পর সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন। দেশের ভেতরেই ঘুরে ঘুরে কাটিয়েছেন প্রায় আট মাস। অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রে চলে গিয়ে সেখান থেকেই সম্প্রতি এক ভার্চুয়াল টক শোতে তুলে ধরেছেন সেই সময়ের অভিজ্ঞতা।
ড. মোমেন জানান, ৫ আগস্টের পর সরকার পতনের সঙ্গে সঙ্গেই তিনি অন্যান্য মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের মতো আত্মগোপনে যেতে বাধ্য হন।
তিনি বলেন, ‘ধরা পড়ার ভয়ে বারবার বাসা বদল করেছি। ছয়বার মোবাইলের সিম পরিবর্তন করেছি। নিজের চেহারাও বদলাতে হয়েছে।’
সিলেট-১ আসনের এই সাবেক সংসদ সদস্য জানান, আত্মগোপনে থাকার সময় আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে থাকেননি। বরং বিভিন্ন ভাড়া বাসায় অবস্থান করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব বাসা সাধারণত বিদেশি ক্রেতাদের জন্য প্রস্তুত রাখা হতো, কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সেগুলো ফাঁকা থাকায় সেগুলোকে তিনি তুলনামূলক নিরাপদ মনে করতেন।
মবের হামলার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে ড. মোমেন বলেন, নাপিত ডাকার ক্ষেত্রেও তাঁকে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়েছে। পরিচিত কেউ যেন টের না পায়, সে জন্য চেহারা বদলানোর পাশাপাশি চলাফেরাতেও সর্বোচ্চ গোপনীয়তা বজায় রাখতে হতো।
সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের ছোট ভাই ড. মোমেন ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সিলেট-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের জানুয়ারির নির্বাচনে তিনি পুনরায় নির্বাচিত হলেও নতুন মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি।
টক শোতে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ব্যবস্থা মূলত তাঁর স্ত্রী করেন এবং আত্মগোপন ও দেশ ছাড়ার সময় সরকারি পর্যায়ের কিছু ব্যক্তির সহযোগিতা পেয়েছেন। তবে তিনি বিমানবন্দর ব্যবহার করে দেশ ছাড়েননি বলে জানালেও কোন পথে যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত বলতে রাজি হননি।
ড. মোমেনের দাবি, গণ-অভ্যুত্থানের ঠিক আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন এবং কয়েক দিন আগেই দেশে ফেরেন। দেশে ফিরে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি দেখে তাকেও আত্মগোপনে যেতে হয়।
নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এই পুরোটা সময় আমার কাছে সিনেমার গল্পের মতো মনে হয়েছে। আমি সম্ভবত শেষ দিকের প্রস্থানকারীদের একজন।’
চেহারা বদল, পালিয়ে আসা, সিনেমার গল্প, মোমেন