সিলেটে ভারী বৃষ্টিপাতের আভাস, বজ্রপাতের শঙ্কা
প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ
প্রকাশঃ ১৪ জানুয়ারী, ২০২৬ ১১:৩০ পূর্বাহ্ন
সুনামগঞ্জ–জামালগঞ্জ–সাচনাবাজার ও সুনামগঞ্জ–দোয়ারাবাজার সড়কের দুই পাশে থাকা অন্তত দুই হাজার গাছ মরে গেছে চলতি বছরেই। এতে ধীরে ধীরে উজাড় হয়ে পড়ছে দীর্ঘদিনের সবুজ পরিবেশ। গাছ রক্ষায় বন বিভাগের কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সুনামগঞ্জ শহরের পূর্ব দিকে দোয়ারাবাজার এবং দক্ষিণ দিকে সাচনাবাজারে যাওয়ার দুটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক—মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৭ কিলোমিটার। সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন এই সড়কগুলোর দুই পাশে থাকা অধিকাংশ গাছের বয়স ২৫ থেকে ৪০ বছর, কিছু গাছ এর চেয়েও পুরোনো।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি বছরেই অন্তত দুই হাজারের বেশি গাছ শুকিয়ে মরে গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই এসব মূল্যবান গাছ প্রাণ হারাচ্ছে বলে তাদের অভিযোগ।
সরেজমিনে দেখা যায়, আব্দুজ জহুর সেতু থেকে সাচনাবাজার পর্যন্ত প্রায় ১৯ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে একসময় সারি সারি সবুজ গাছ ছিল। পথচারী ও যাত্রীরা শীতল ছায়া আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে স্বস্তি পেতেন। কিন্তু পরিচর্যার অভাবে এ বছর এই সড়কের প্রায় সহস্রাধিক গাছ শুকিয়ে গেছে। অনেক গাছ গোড়া উপড়ে হেলে পড়েছে সড়কের পাশে।
একই চিত্র দেখা গেছে সুনামগঞ্জ–দোয়ারাবাজার ১৮ কিলোমিটার সড়কেও। স্থানীয়দের দাবি, এই সড়কের দুই পাশে থাকা অন্তত এক হাজারের বেশি গাছ মরে পড়ে আছে। দ্রুত উদ্যোগ না নিলে আরও অনেক গাছ নষ্ট হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা তাদের।
স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন, সড়কের পাশে হেলে পড়া বা মরে যাওয়া গাছ রাতের আঁধারে কিছু লোক স’মিলে নিয়ে যাচ্ছে। পরে সেগুলো কাঠে রূপান্তর করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি নেই।
দোয়ারাবাজারের বাসিন্দা আহসান হাবিব বলেন, “সড়কের পাশে মরে যাওয়া গাছগুলো দেখে মনে হয়, এগুলোর কোনো অভিভাবক নেই। এভাবে গাছ হারালে দুই পাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে।”
সাচনাবাজারের বাসিন্দা হাফিজুল ইসলাম বলেন, ‘এই সবুজ চিত্র আর থাকবে না। শীতল বাতাসে চলাচলের যে স্বস্তি ছিল, তা হারিয়ে যাবে। এই সৌন্দর্য ফিরে পেতে অন্তত চল্লিশ বছর লাগবে।’
সুনামগঞ্জ–সাচনা সড়কে চলাচলকারী সিএনজি চালক শাহ জামাল বলেন, ‘গরমের দিনে গাছের ছায়ায় যাত্রীরা স্বস্তি পেতেন। এখন চোখের সামনেই গাছগুলো মরে যাচ্ছে।’
পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাশমির রেজা বলেন, ‘দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
সুনামগঞ্জ পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সেক্রেটারি ফজলুল করিম সাঈদ বলেন, ‘দীর্ঘদিনের অবহেলায় বহু গাছ মারা গেছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, গাছ বাঁচাতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই।’
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে বর্তমানে সড়কের গাছ কর্তন বন্ধ রয়েছে। প্রতি বছর গাছ রোপণ ও কর্তনের কর্মসূচি থাকলেও দলীয় সরকার গঠন হলে গাছগুলোর রক্ষণাবেক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।’
অবহেলা, সড়কের গাছ, উজাড়, সুনামগঞ্জ, সবুজ