২০ এপ্রিল ২০২৬

যাপিতজীবন / স্বাস্থ্য

সুনামগঞ্জে শীতে বাড়ছে ঠাণ্ডাজনিত রোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ৬ জানুয়ারী, ২০২৬ ১১:৪০ পূর্বাহ্ন

ছবিঃ সংগৃহীত

তীব্র শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জেলার জনজীবন। হঠাৎ করে তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন বয়স্ক, শিশু ও অসুস্থ ব্যক্তিরা। শীতজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে জেলার ১২ উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শীতের প্রভাবে শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, ঠান্ডাজনিত জ্বর, সর্দি-কাশি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টের হার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। গুরুতর অবস্থায় অনেক রোগীকে অক্সিজেন সাপোর্টও দিতে হচ্ছে।

এদিকে, ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসের কারণে দিনের বেলাতেও শীতের তীব্রতা কমছে না। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নিম্ন আয়ের মানুষ পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে সবচেয়ে বেশি কষ্টে রয়েছেন। অনেকেই খোলা আকাশের নিচে কিংবা ভাঙা ঘরে বসবাস করায় শীতজনিত রোগের ঝুঁকি আরও বেড়েছে।

ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, গত এক সপ্তাহে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে সেখানে অন্তত ৫০ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ছাড়াও নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়ে আরও ৩০ জন রোগী চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। তাদের মধ্যে অনেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেলেও বেশ কয়েকজন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুসরাত আরেফিন বলেন, শীত বেড়ে যাওয়ায় বয়স্ক ও শিশুরোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক বয়স্ক রোগী শ্বাসকষ্টে নেবুলাইজার নিয়ে চলে যাচ্ছেন, ফলে নেবুলাইজার দেওয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘ সিরিয়াল তৈরি হচ্ছে। আবার অনেক রোগী ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। শিশুরোগীর ক্ষেত্রেও শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, সর্দি-কাশি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আসার প্রবণতা বেড়েছে। তবে বেশিরভাগ রোগী প্রাথমিক পর্যায়েই চিকিৎসা নিচ্ছেন।

জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কৃপেশ রঞ্জন রায় বলেন, শীতকাল এলেই সাধারণত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। গত কয়েকদিনে সেই চাপ আরও বেড়েছে। তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা অব্যাহত রয়েছে।
তিনি জানান, গত এক সপ্তাহে সেখানে ৪৫০ জনের বেশি শিশুরোগী এবং এক হাজার ১০০ জনের বেশি বয়স্ক রোগী চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন। এ ছাড়া ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে কোনো কোনো সময়ে সর্বোচ্চ একশ’ জন রোগী ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতকালে শিশু ও বয়স্কদের উষ্ণ রাখার পাশাপাশি নিউমোনিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। একই সঙ্গে গরম কাপড় ব্যবহার, কুয়াশা এড়িয়ে চলা এবং ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

সুনামগঞ্জের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, গ্রামের অধিকাংশ বাড়িঘর টিনের হওয়ায় রাতে শিশুদের ঠান্ডা লাগার ঝুঁকি বেশি থাকে। এ ক্ষেত্রে ঘরের সিলিংয়ে শেড দেওয়া প্রয়োজন, যাতে ঠান্ডা সরাসরি শিশুদের ওপর না পড়ে। পাশাপাশি ঘর উষ্ণ রাখার ব্যবস্থা এবং শিশুদের মাথায় টুপি পড়িয়ে ঘুম পাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি। তার মতে, অভিভাবকদের সামান্য সচেতনতাই শিশুদের সুস্থতা নিশ্চিত করতে পারে।

সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. জসিম উদ্দিন বলেন, এই শীতে বয়স্ক ও শিশুদের বাড়তি যত্ন নিতে হবে। কোনোভাবেই ঠান্ডা লাগানো যাবে না। নিয়মিত গরম কাপড় পড়াতে হবে এবং কুয়াশা এড়িয়ে চলতে হবে। শ্বাসকষ্ট বা ডায়রিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।


শেয়ার করুনঃ

যাপিতজীবন থেকে আরো পড়ুন

সুনামগঞ্জ, শীত, বাড়ছে, ঠাণ্ডাজনিত, রোগ

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ