ইরাকে 'মিলিশিয়ার যুগ' শেষের দাবি, বাস্তবতা কতটা ভিন্ন
বিশ্বজুড়ে
প্রকাশঃ ১৩ জুন, ২০২৬ ৪:১৬ অপরাহ্ন
ইরাকের কর্মকর্তারা বলতে ভালোবাসেন, 'মিলিশিয়ার যুগ' শেষ হয়ে আসছে। কাগজে-কলমে গত কয়েক সপ্তাহের ঘটনাপ্রবাহ সেই বর্ণনাকেই সমর্থন করছে বলে মনে হচ্ছে।
কট্টরপন্থী ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী আসাইব আহল আল-হক ঘোষণা দিয়েছে, তারা পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস বা পিএমএফ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে রাষ্ট্রের হাতে অস্ত্র তুলে দেবে। এর আগে একই ঘোষণা দিয়েছে কাতাইব আল-ইমাম আলী এবং প্রভাবশালী শিয়া নেতা মুক্তাদা আল-সদরের সারায়া আল-সালাম বা 'শান্তি বাহিনী'। চলতি জুনের ৪ তারিখে সামারা শহরে এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে সারায়া আল-সালাম তাদের পতাকা নামিয়ে ইরাকি পতাকা উত্তোলন করে এবং সদস্যরা ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীতে যোগ দেন।
প্রথম দেখায় মনে হতে পারে, বহু বছর ধরে বিচ্ছিন্ন ও পরস্পরবিরোধী কমান্ড কাঠামোয় চলে আসা এই ব্যবস্থা একটি নতুন নিরাপত্তা শৃঙ্খলার দিকে এগোচ্ছে। কিন্তু অনেক ইরাকির কাছে আসল প্রশ্ন এই নয় যে এই গোষ্ঠীগুলো কী ঘোষণা করছে প্রশ্ন হলো তারা বাস্তবে কতটা পথ হাঁটতে রাজি।
নিরস্ত্রীকরণ কমিটি গঠন আর সুচিন্তিত ভাষায় বিবৃতি প্রকাশ এগুলো বাগদাদের রাজনৈতিক নাটকের পরিচিত দৃশ্য। আসল পরীক্ষা হলো, যেসব গোষ্ঠী বছরের পর বছর ধরে অস্ত্রভান্ডার, অর্থনৈতিক প্রভাব এবং পৃষ্ঠপোষকতার জাল বুনে এসেছে, তারা সত্যিই ক্ষমতা ছেড়ে দিতে প্রস্তুত কিনা।
চলতি মে মাসে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি 'রাষ্ট্রের হাতে অস্ত্র' ইস্যুটিকে তাঁর এজেন্ডার কেন্দ্রে রেখেছেন। এই বার্তা একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ দর্শকদের জন্য এবং ওয়াশিংটনের জন্য, যারা দীর্ঘদিন ধরে বাগদাদকে মিলিশিয়া নিয়ন্ত্রণে চাপ দিয়ে আসছে।
ইরাক ও সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত টম ব্যারাক এই পদক্ষেপকে 'উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি' বলে স্বাগত জানিয়েছেন। আল-জাইদির জন্য মিলিশিয়া ইস্যুতে অগ্রগতি এখন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বজায় রাখা এবং ইরাকের সার্বভৌমত্ব প্রমাণের পূর্বশর্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চ্যাথাম হাউসের গবেষণা ফেলো হায়দার আল-শাকেরি বলেন, 'রাজনৈতিক শ্রেণির মধ্যে এই স্বীকৃতি রয়েছে যে মার্কিন চাপ পিএমএফ ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রশ্নটিকে এড়িয়ে যাওয়া আর সম্ভব করছে না। তবে এমন সরাসরি সংঘাতে যাওয়ার আগ্রহ কারও নেই, যা নতুন সরকারকে অস্থিতিশীল করে দিতে পারে।'
এই জরুরি পরিস্থিতির শিকড় রয়েছে পিএমএফের বিবর্তনের ইতিহাসে। ২০১৪ সালে আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য ইরাকের সর্বোচ্চ শিয়া ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী আল-সিস্তানির ফতোয়ার পর এই স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী গঠিত হয়। আইএসের কাছে সেনাবাহিনীর পতনের পর রাষ্ট্রকে রক্ষা করতে আগে থেকে বিদ্যমান সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং নতুন দলগুলোকে একটি ছাদের নিচে আনাই ছিল এর উদ্দেশ্য।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি বাদর সংগঠন ও আসাইব আহল আল-হকের মতো ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া, সদরপন্থী গঠন, সুন্নি উপজাতীয় ইউনিট এবং ছোট খ্রিষ্টান, তুর্কমেন ও ইয়াজিদি বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত একটি শক্তিতে পরিণত হয়।
২০১৬ সালের একটি আইনে পিএমএফকে 'স্বাধীন' নিরাপত্তা বাহিনী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, যা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর অধীনে থাকবে এবং এর নিজস্ব কমিশন, পদমর্যাদা ব্যবস্থা ও বাজেট বরাদ্দ থাকবে। এই আইন বেতন, মর্যাদা ও রাজনৈতিক প্রভাব নিশ্চিত করেছিল, কিন্তু বাইরের আনুগত্য, স্বায়ত্তশাসিত কমান্ড কাঠামো বা অর্থনৈতিক স্বার্থ মুছে দিতে পারেনি।
এক দশক পরে পিএমএফ এখন ইরাকের নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি স্তম্ভ এবং সমালোচকদের চোখে 'রাষ্ট্রের ভেতরে আলাদা রাষ্ট্র'-র সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ। দুই লাখেরও বেশি নিবন্ধিত সদস্য ও কোটি কোটি ডলারের বাজেট নিয়ে এর ব্রিগেডগুলো নির্দিষ্ট এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে এবং সীমান্ত বাণিজ্য, সরকারি ঠিকাদারি ও স্থানীয় প্রশাসন পরিচালনায় গভীরভাবে জড়িয়ে পড়েছে।
এই প্রেক্ষাপটেই পিএমএফকে আনুষ্ঠানিক রূপ দেওয়া বা পুনর্গঠনের চাপ তীব্র হয়েছে। আন্তর্জাতিক অংশীদাররা নিশ্চিত হতে চায় যে ইরাককে প্রতিবেশী রাষ্ট্র বা তাদের বাহিনীর বিরুদ্ধে রকেট ও ড্রোন হামলার ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হবে না। ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের মধ্যে ওয়াশিংটন ইরাকের ভেতরে মিলিশিয়া ও পিএমএফের ঘাঁটিতে বারবার হামলা চালিয়েছে।
এ ছাড়া ২০১৯-২১ সালের গণ-আন্দোলন দমনের স্মৃতি এখনো তাজা। সেই সময়ে বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেছিলেন, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো হত্যাকাণ্ড ও গুম পরিচালনায় জড়িত ছিল। সেই অভিজ্ঞতা জবাবদিহিতার দাবি ও দায়মুক্তির সংস্কৃতির বিরুদ্ধে জনমতকে আরও শক্ত করেছে।
আল-শাকেরি বলেন, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে মনোভাব ভিন্ন ভিন্ন। কেউ কেউ প্রাতিষ্ঠানিকীকরণকে বেতন, মর্যাদা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার পথ হিসেবে দেখছে, আবার কট্টরপন্থী অংশ যেকোনো নিরস্ত্রীকরণের ভাষাকে তাদের পরিচয় ও আঞ্চলিক ভূমিকার প্রতি হুমকি মনে করছে।
সাধারণ ইরাকিরাও দ্বিধাবিভক্ত। আল-শাকেরির ভাষায়, 'অনেক ইরাকি চান অস্ত্র রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আসুক, কিন্তু তারা সংশয়ী যে সংস্কার সত্যিকারের হবে কিনা। তাদের ভয়, তাড়াহুড়ো করলে হয় সহিংসতা ছড়াবে, নয়তো মিলিশিয়ার ক্ষমতাই নতুন রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মোড়কে আবার ফিরে আসবে।'
এই টানাপোড়েনের মধ্যেই বাগদাদ একটি কাঠামোগত পুনর্গঠনের বিষয়ে আলোচনা করছে, যেখানে পিএমএফ, ফেডারেল পুলিশ, র্যাপিড রেসপন্স ফোর্স এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে একটি ফেডারেল নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনার প্রস্তাব রয়েছে।
তবে আল-শাকেরি মনে করেন, সম্পূর্ণ নতুন কাঠামো তৈরি কঠোর অর্থে অপরিহার্য নয়, কারণ একীভূত করার কাঠামো আগে থেকেই বিদ্যমান। 'কাঠামো ও নিয়োগের ওপর এই জোর দেওয়াটাই বলে দেয় যে প্রশাসনিক সংস্কার আলোচনায় তুলনামূলক সহজ, আর অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও কর্তৃত্বের প্রশ্নগুলো অনেক বেশি বিতর্কিত।'
তিনি আরও বলেন, শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো একীভূত হতে রাজি হবে কেবল তখনই, যখন এর সুবিধা — আইনি মর্যাদা ও রাষ্ট্রীয় বাজেটে প্রবেশাধিকার খরচের চেয়ে বেশি হবে।
পরিকল্পনার রূপরেখা থেকেই এর রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট। আলোচনা যথেষ্ট অগ্রসর হয়েছে, ভেতরের লোকেরা এর মোটামুটি আকার বর্ণনা করতে পারছেন, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো খসড়া আইন প্রকাশিত হয়নি এবং সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদে বা জনসমক্ষে প্রস্তাব উপস্থাপন করেনি।
সংশয়বাদীদের আশঙ্কা, ইরাক শেষ পর্যন্ত এমন একটি পুনর্নামাঙ্কিত নিরাপত্তা কাঠামো পাবে, যেখানে একই কুশীলবরা একই প্রভাব ধরে রাখবে কেবল নতুন পদবি নিয়ে এবং বৈধতার আরও শক্তিশালী দাবি নিয়ে।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ ইরাক বিশ্লেষক এবং মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা বিভাগের অন্তর্বর্তী উপ-পরিচালক লাহিব হিগেল বলেন, 'সাধারণভাবে মিলিশিয়া নিরস্ত্রীকরণকে জনগণ স্বাগত জানায়। তবে সাধারণ সদস্যরা নিরাপত্তা বাহিনীতে তাদের ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা চাইছেন, যা সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।'
তিনি বলেন, ছাতা মন্ত্রণালয় এখনো নিশ্চিত না হলেও 'যদি এবং যখন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পিএমএফ গোষ্ঠী অস্ত্র জমা দিয়ে তাদের সদস্যদের সেনাপ্রধানের অধীনে রাখতে রাজি হয়, তখন কাজ বণ্টনের ক্ষেত্রে এটি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতে পারে।'
এখন পর্যন্ত কেবল সারায়া আল-সালামই তাদের পিএমএফ ব্রিগেড ভেঙে অস্ত্র জমা দেওয়া শুরু করেছে। আসাইব আহল আল-হক ও কাতাইব আল-ইমাম আলী একই পথ অনুসরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং অন্য কিছু গোষ্ঠীও উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
কিন্তু এই নতুন উদ্যোগ সঙ্গে সঙ্গেই বাধার মুখে পড়তে পারে, কারণ কিছু শক্তিশালী কট্টরপন্থী গোষ্ঠী ইতিমধ্যে ঘোষণা করেছে, দেশ থেকে সব মার্কিন সেনা না যাওয়া পর্যন্ত তারা অস্ত্র ছাড়বে না।
হিগেল বলেন, 'যারা নির্বাচনী রাজনীতিতে বিনিয়োগ করেছে, তাদের জন্য এটি মূলত রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার উপায়, কারণ যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সংযুক্ত রাজনৈতিক দলগুলোকে মন্ত্রিসভার পদ থেকে বাদ দিতে হবে।' আর যারা 'প্রতিরোধ অক্ষ'-এর প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ, তাদের অন্তত স্বল্পমেয়াদে অস্ত্র ছাড়ার সম্ভাবনা নেই।
আল-জাইদির জন্য এই পথ চলা রাজনৈতিক দক্ষতার পরীক্ষা, কেবল কর্তৃত্বের নয়। তাঁর পূর্বসূরিদের অনেকের তুলনায় তিনি অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক চাপের একটি বিরল সমন্বয়ের সুবিধা পাচ্ছেন। তবে যে জোট সরকারের ভিত্তি, সেই সমন্বয় কাঠামো (কো-অর্ডিনেশন ফ্রেমওয়ার্ক) তাঁকে ক্ষমতায় এনেছে, সেটিই আবার তাঁকে সংযত রাখছে কারণ যে গোষ্ঠীগুলোকে তাঁকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, তারাই এই জোটের অংশ।
হিগেল বলেন, 'আল-জাইদি এদিক দিয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন যে মার্কিন চাপ পুরো শাসক শিয়া জোটকেই প্রভাবিত করছে। সিদ্ধান্তমূলক পরবর্তী পদক্ষেপ হলো আসাইব আহল আল-হক ও কাতাইব আল-ইমাম আলী তাদের প্রতিশ্রুতি পালন করে সদর যা করেছেন তা অনুসরণ করবে কিনা। সেক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সদস্য অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীতে একীভূত হতে পারবে।'
হিসাব-নিকাশ মার্কিন উপস্থিতির সঙ্গেও যুক্ত। এর আগে ইরাকি ও মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, একটি সম্মত পরিকল্পনার আওতায় অবশিষ্ট মার্কিন সেনারা ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে চলে যাবে। কিন্তু ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান সংঘাত সেই সময়সীমা পিছিয়ে দিতে পারে।
বুধবার সরকারের মুখপাত্র হায়দার আল-আবুদি বলেন, বাগদাদ সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ নিরস্ত্রীকরণ সম্পন্ন করার সময়সীমা নির্ধারণ করেছে, যা বাড়তি চাপ ও অনিশ্চয়তার মাত্রা আরও বাড়িয়েছে।
বড় ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর জন্য এই অনিশ্চয়তাই তাদের 'প্রতিরোধ'-এর ভূমিকার দাবিকে আরও জোরালো করছে কারণ তাদের যুক্তি, স্বাধীন সামরিক সক্ষমতা এখনো প্রয়োজনীয়, ভলে তা নামেমাত্র রাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত থাকুক।
মার্কিন সম্পৃক্ততার গভীরতর ইঙ্গিত দিয়ে আল-জাইদি সোমবার জানান, তিনি শীঘ্রই ওয়াশিংটন সফর করতে চান।
আল-শাকেরি বলেন, 'এবার মূল বাধা হলো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ভেতরে সবাই একমত নয়। কিছু গোষ্ঠী এই প্রক্রিয়াকে অস্তিত্বের হুমকি হিসেবে দেখবে। এই বিভক্তি ঐকমত্যকে কঠিন করে তোলে এবং অভ্যন্তরীণ উত্তেজনার ঝুঁকি বাড়ায়।'
তিনি সতর্ক করে বলেন, 'যদি তিনি বেশি চাপ দেন, সশস্ত্র গোষ্ঠী ও তাদের রাজনৈতিক মিত্রদের সঙ্গে সংঘাতের ঝুঁকি নেন। আর যদি অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, স্বাধীন তদারকি ও অর্থনৈতিক ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা ছাড়া আংশিক একীভূতির পরিকল্পনা মেনে নেন, তাহলে ফল হতে পারে সংস্কারের বিপরীত।'
এই দ্বিধা ইরাকের একার নয়। লেবাননে হিজবুল্লাহ থেকে ইয়েমেনে হুথি বাইরের পৃষ্ঠপোষকদের কাছে অনুগত সশস্ত্র আন্দোলনকে 'একীভূত' করতে গিয়ে আঞ্চলিক সরকারগুলো বারবার হোঁচট খেয়েছে।
এখান থেকে শিক্ষা হলো, কেবল আনুষ্ঠানিকতা সমাধান নয়। প্রয়োগযোগ্য কমান্ড চেইন এবং ভারী অস্ত্রের ওপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ ছাড়া একীভূতি এই গোষ্ঠীগুলোর কব্জাকে আরও মজবুত করতে পারে।
এটাই বর্তমান সুযোগকে একই সঙ্গে ভঙ্গুর ও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলছে। এই প্রথমবার ইরাকের সবচেয়ে প্রভাবশালী কিছু গোষ্ঠী প্রকাশ্যে রাষ্ট্রের কাছে অস্ত্র জমা দেওয়ার ধারণাকে সমর্থন করছে এবং একই সময়ে সরকার নিরাপত্তা কাঠামোর পুনর্গঠন নিয়ে ভাবছে।
এই সমন্বয় যদি কেবল নতুন কাগজপত্র ও পুনর্নামাঙ্কিত ইউনিট তৈরির বাইরে কিছু না করতে পারে, তাহলে ইরাক আইএস-পরবর্তী সংকরায়িত নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফাঁদেই আটকে থাকবে। কিন্তু যদি এটি সত্যিকার অর্থে 'রাষ্ট্রের ভেতরে আলাদা রাষ্ট্রের ভাঙনে নিয়ে যায়, তাহলে তা হবে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা।
ইরাক, বিশ্বজুড়ে, মধ্যপ্রাচ্য, মিলিশিয়া, সরকার