শুধু শিশু নয় হামে আক্রান্ত হচ্ছেন বড়রাও, ঘটছে মৃত্যুও
যাপিতজীবন
প্রকাশঃ ২ জুন, ২০২৬ ৪:০৯ অপরাহ্ন
সিলেটে শিশুদের মধ্যে হামের উপসর্গে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেও সংক্রমণের খবর পাওয়া যাচ্ছে। এ পরিস্থিতির মধ্যেই সাম্প্রতিক সময়ে সিলেটে এক নার্সের হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে, যা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে ফুসকুড়ি নিয়ে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সী রোগীর উপস্থিতি লক্ষ করা যাচ্ছে। আগে যে রোগটি মূলত শিশুদের মধ্যেই সীমিত ছিল, এখন তা ধীরে ধীরে তরুণ ও বড়দের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ছে।
চিকিৎসকেরা বলছেন, শৈশবে টিকা না নেওয়া, আবার অনেকের ক্ষেত্রেই দীর্ঘমেয়াদি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি কিছু এলাকায় টিকাদান কাভারেজে ঘাটতিও পরিস্থিতিকে জটিল করছে তুলছে বলে তাদের মত।
শিশু চিকিৎসক জাহান আহমেদ পরাগ বলেন, হাম একটি ভাইরাল সংক্রমণ। এ রোগ হলে রোগীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং ভিটামিন-এ এর ঘাটতি দেখা দেয়। তাই সংক্রমণ দ্রুত ছড়ায়। আমরা এখন শুধু শিশু নয়, বড়দের মধ্যেও হামের রোগী পাচ্ছি। অনেক ক্ষেত্রে রোগীরা দেরিতে হাসপাতালে আসায় জটিলতা বাড়ছে।
তিনি আরও বলেন, হামের ভাইরাস অত্যন্ত সংক্রামক হওয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এবং টিকা না নেওয়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংক্রমণ বেশি দেখা যাচ্ছে। শিশুদের ক্ষেত্রে সুরক্ষা ছাড়া যত্রতত্র ঘোরাফেরাও সংক্রমণ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এ চিকিৎসকের মতে, বাংলাদেশে শিশুদের জন্য নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি থাকলেও প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে বুস্টার ডোজ বা পুনঃটিকাদানের বিষয়টি তেমন গুরুত্ব পায় না। ফলে অনেকের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে, একবার টিকা নিলেই আজীবন সুরক্ষা পাওয়া যায়, যা পুরোপুরি সঠিক নয়।
তিনি সতর্ক করে বলেন, বড়দের ক্ষেত্রে হামের জটিলতা তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে। নিউমোনিয়া, ডিহাইড্রেশনসহ বিভিন্ন সংক্রমণ জটিলতা তৈরি করতে পারে। তাই হামকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। শিশুদের পাশাপাশি বড়দের মধ্যেও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জরুরি।
এ ব্যাপারে সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, পরিস্থিতি নজরদারিতে রয়েছে এবং টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি জনগণকে টিকা গ্রহণ ও লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আক্রান্ত হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এ রোগে বড়রা আক্রান্ত হতে পারেন, বিশেষ করে যারা নিয়মিত আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে থাকেন। তাদের শরীরের ইমিউনিটি কেমন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ডায়াবেটিস, অপুষ্টি থাকলে এবং শৈশবে টিকা না নিয়ে থাকলে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
শিক্ষানবিশ নার্সের মৃত্যুর বিষয়ে তিনি বলেন, এটি একটি রেয়ার কেইস। ওই নার্সের সম্ভবত হামের টিকার ডোজ নেওয়া ছিল না, সেজন্য তার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হয়েছে। আমরা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছি। এমন ঘটনা বাড়লে বা প্রাপ্তবয়স্ক আক্রান্তের সংখ্যা বাড়োতে থাকলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, সিলেটে হামের প্রকোপ বাড়ায় শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতাল ও এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসোলেশন ব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি চলমান টিকাদান কার্যক্রমের মাধ্যমে শিশুদের টিকার আওতায় আনার কাজ চলছে। তার মতে, হামের প্রতিরোধে টিকাই একমাত্র কার্যকর ব্যবস্থা।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু এলাকায় এখনও টিকা কাভারেজে ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চল ও নগর দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে সময়মতো টিকা না পাওয়ার প্রবণতা সংক্রমণ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। তাদের মতে, টিকাদান কর্মসূচি সম্পূর্ণ করা এবং সচেতনতা বাড়ানো গেলে হামের বিস্তার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।
সিলেটে হাম, প্রাপ্তবয়স্কদের হামে সংক্রমণ, শিশুদের হাম, সিলেটে নার্সের মৃত্যু, হামের উপসর্গ