১৬ এপ্রিল ২০২৬

অপরাধ-বিচার / অপরাধ

সুনামগঞ্জে পল্লী বিদ্যুৎ নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতি, ১২০ জন বহিষ্কার

প্রতিনিধি, সুনামগঞ্জ

প্রকাশঃ ১০ মে, ২০২৫ ৩:৪৬ অপরাহ্ন


সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মিটার রিডার কাম-ম্যাসেঞ্জার পদে নিয়োগ পরীক্ষায় কৌশলে ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে উত্তরপত্রে লেখায়  জালিয়াতির চেষ্টার অভিযোগে ১২০ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। 

জানা গেছে, এই পরীক্ষার্থীদের অনেকেই একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের সঙ্গে পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকার চুক্তিতে পরীক্ষায় পাস করার পরিকল্পনা করেছিল, যার মধ্যে কেউ কেউ অগ্রিম দুই থেকে তিন লাখ টাকাও পরিশোধ করে।

শুক্রবার (৯ মে) বিকেল ৪টায় সুনামগঞ্জ শহরের পাঁচটি কেন্দ্রে একযোগে এই নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পাঁচটি কেন্দ্রে মোট ১,৩০০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। পরীক্ষা কেন্দ্রগুলো ছিল: সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ, সুনামগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ, এইচএমপি উচ্চ বিদ্যালয়, উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় এবং সতীশ চন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।

৫০ মিনিটের ৬০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থীদের মধ্যে কিছুজনের আচরণে সন্দেহ হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ শুরু করেন। দেখা যায়, অনেক পরীক্ষার্থী কানে ক্ষুদ্র ডিভাইস ঢুকিয়ে নির্ধারিত উত্তরের সংকেত পাচ্ছে। এসব ডিভাইসের একটি অংশ ছিল ব্যাংক কার্ডের মতো এবং অন্য অংশটি ছিল কডলেস ইয়ারফোনের মতো যা কানের ভেতর ঢুকিয়ে রাখা হয়।

এইচএমপি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রেই সবচেয়ে বেশি অনিয়ম ধরা পড়ে, যেখানে ২৬৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫৬ জনকে বহিষ্কার করা হয়। ওই কেন্দ্রের এক পরীক্ষার্থী, পাবনার নাঈম হোসেন জানান, "নিজেদের সিম ডিভাইসে বসিয়ে পরীক্ষার ১৫ মিনিট পরই অটোমেটিকভাবে উত্তর বলে যেতে থাকে যেমন এক নম্বর ক, দুই নম্বর গ, তিন নম্বর খ। আমরা শুধু দাগ দিই।"

পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা শিক্ষক বিজয় তালুকদার বলেন, 'প্রশ্ন হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কিছু পরীক্ষার্থী প্রশ্ন না পড়েই উত্তর দিতে শুরু করে। একজনকে চিহ্নিত করার পর ১০-১৫ মিনিটের মধ্যেই আরও বহু পরীক্ষার্থীর ডিভাইস উদ্ধার করা হয়।' 

সহকারী প্রধান শিক্ষক প্রেমানন্দ বিশ্বাস জানান, এ ধরনের ডিভাইস ব্যবহার এই প্রথম সুনামগঞ্জের কোনো নিয়োগ পরীক্ষায় দেখা গেল।

এদিকে, ডিভাইসসহ ধরা পড়া পরীক্ষার্থীদের পুলিশ প্রাথমিকভাবে আটক করলেও পরে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ না থাকায় সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি সিলেট ভয়েসকে নিশ্চিত করেছেন সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি আবুল কালাম।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মিলন কুমার কুন্ডু বলেন, 'দেশের অন্যান্য এলাকায় এ ধরনের জালিয়াতির খবর পেয়ে আমরা আগে থেকেই কেন্দ্রে কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকতে বলেছিলাম। ফলে ১২০ জন বহিষ্কৃত হয়েছে। তবে ধারণা করছি, সবাই ধরা পড়েনি।' 

তিনি আরও বলেন, ডিভাইস সিন্ডিকেটের তথ্য উদঘাটনের জন্য পুলিশের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।


শেয়ার করুনঃ

অপরাধ-বিচার থেকে আরো পড়ুন

সুনামগঞ্জ, পল্লী বিদ্যুৎ নিয়োগ, পরীক্ষায় জালিয়াতি, ইলেকট্রনিক ডিভাইস

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ