শাহজালাল মাজার: কর্তন করা খেজুর গাছ জব্দ ও নির্মাণ কাজ স্থগিত
অনুসন্ধান
প্রকাশঃ ২৮ নভেম্বর, ২০২৫ ১০:৩৩ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জের ছয় উপজেলায় লোকালয়ের ভেতরেই চলছে অনুমোদনহীন দুই শতাধিক স্টোন ক্রাশার মেশিনের দাপট। দিনে–রাতে পাথর ভাঙার এই অনিয়ন্ত্রিত কর্মকাণ্ডে বিপর্যস্ত হচ্ছে স্থানীয় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য। একইসঙ্গে সরকার হারাচ্ছে কোটি টাকার রাজস্ব।
সরেজমিনে সুনামগঞ্জ সদর, বিশ্বম্ভরপুর, জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, দোয়ারাবাজার ও ছাতক—সব জায়গাতেই চোখে পড়েছে একই দৃশ্য: নদীর তীর, কৃষিজমি, রাস্তার ধারে সারি সারি ক্রাশার মেশিন, অবিরাম শব্দদূষণ, ধুলায় ঢেকে থাকা বসতবাড়ি। সম্প্রতি পরিবেশ অধিদপ্তর ৫৭টি মেশিনে অভিযান চালানোর কথা বললেও বাস্তবে পুরো এলাকায় উন্মুক্তভাবেই চলছে পাথর ভাঙার কাজ।
পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) করা একটি রিট মামলার নির্দেশনায় ২০১৯ সাল থেকে নতুন লাইসেন্স দেওয়া বন্ধ রয়েছে। আদালতের নির্দেশ মানতে গিয়ে সরকার লাইসেন্স বন্ধ রাখলেও ব্যবসায়ীরা থেমে নেই। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ক্রাশার থেকে বছরে ১০ থেকে ৫০ হাজার টাকা রাজস্ব পাওয়ার কথা। পাঁচ বছর লাইসেন্স বন্ধ থাকায় রাজস্ব বঞ্চনার অঙ্ক দাঁড়িয়েছে কয়েক কোটি টাকা।
অপরিকল্পিতভাবে স্থাপিত এসব ক্রাশার মেশিন কৃষিজমিকে অনুর্বর করে দিচ্ছে, বদলে দিচ্ছে পুরো এলাকার প্রাকৃতিক ভারসাম্য। তীব্র শব্দদূষণে কানে কম শোনা, বধিরতা; ধুলার কারণে চর্মরোগ, শ্বাসকষ্ট, সর্দি–কাশির মতো সমস্যায় ভুগছেন এলাকাবাসী।
স্টোন ক্রাশিং প্লান্টের জন্য বিশাল এলাকা দখল হয়ে যাওয়ায় দ্রুত কমছে আবাদি জমিও।
২০১৯ সালের ১৯ নভেম্বর হাইকোর্ট স্টোন ক্রাশারগুলোকে নির্ধারিত স্টোন ক্রাশিং জোনে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। ধুলা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন, শব্দ কমানোর মফলার ব্যবহারের মতো শর্তও দেওয়া হয়েছিল। এরপরও আজও জেলায় গড়ে ওঠেনি কোনো স্টোন ক্রাশিং জোন। উচ্ছেদ বা যথাযথ ব্যবস্থা না থাকায় আগের মতোই চলছে অবৈধ কার্যক্রম।
গত এপ্রিলের অভিযানে ৫৭টি মেশিনের মালিককে ৩৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। কিছু মেশিন জব্দও করা হয়েছে। কিন্তু মাঠঘাট ঘুরে দেখা যায়, প্রশাসনিক অভিযান শেষ হওয়ার পরই আবার পুরোদমে শুরু হয় পাথর ভাঙা।
আনোয়ারপুরের একটি ক্রাশারের পরিচালক আমির হোসেন বলেন, লাইসেন্স ছিল, নবায়ন করতে পারছি না। তিন–সাড়ে তিন লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছি। জরিমানা দিয়েই চালাচ্ছি।
জামালগঞ্জের লাল মিয়া বলেন, লাইসেন্স না দিলে আমরা কী করব? এত মানুষের রুজির বিষয়। সরকারকে এগুলো নিয়ে ভাবতে হবে।
সুনামগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাইমিনুল হক বলেন, আদালতের নির্দেশনার কারণে লাইসেন্স বন্ধ। স্টোন ক্রাশিং জোন স্থাপিত না হওয়ায় সমস্যা হচ্ছে। তবে অবৈধভাবে পরিচালিত মেশিনের বিরুদ্ধে আমরা নিয়মিত ব্যবস্থা নিচ্ছি।
সিলেট, স্টোন ক্রাশার মেশিন, পরিবেশ অধিদপ্তর