সিলেট নগরীতে জনসংখ্যা দ্রুত বাড়লেও বাড়েনি গণপরিবহন ব্যবস্থা। বেশ কয়েকবার নগরীতে টাউন বাস সার্ভিস চালু হলেও তা বন্ধ হয়ে যায়। যার ফলে গণপরিবহনের জন্য নগরবাসী নির্ভরশীল রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা ওপর। 

সম্প্রতি ব্যাটারিচালিত অবৈধ অটোরিকশা বন্ধের পর চাপ বেড়েছে প্যাডেলচালিত রিকশার উপর। মানুষকে জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন রিকশা চালকরা। দুই মিনিটের পথ যেতেও যাত্রীদের গুণতে হয় ৩০-৪০ টাকা। 

২০১৫ সালে সিলেট সিটি করপোরেশন রিকশাভাড়া নির্ধারণ করে বিভিন্ন পয়েন্টে তালিকা সাটিয়ে দেয়। কিন্তু সেই তালিকা শুরু থেকেই পাত্তা দেননি চালকরা। এতে করে প্রতিদিনই ভাড়া নিয়ে রিকশা চালকদের সঙ্গে তর্কে জড়াচ্ছেন যাত্রীরা। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, কর্মজীবী নারী ও নিম্ন আয়ের মানুষই ভোগান্তিতে পড়েছেন। 

অন্যদিকে, সিএনজিচালিত অটোরিকশায়ও চলছে একই নৈরাজ্য। ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করছেন চালকরা। এ অবস্থায় নগরীতে ফের টাউন বাস চলাচলের দাবি তুলেছেন নগরবাসী। এতে করে সিলেট নগরীর বিভিন্ন রুটে প্রতিদিন চলাচলকারী হাজারো মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে। একই সঙ্গে নগরে কমবে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ। কমবে যানজট।

এক সময় সিলেট শহরের রাস্তায় ছিল টাউনবাসের দাপট। ‘নগর পরিবহন‘ নামে চলা বাস ছিল একটা শ্রেণির মানুষের প্রতিদিনের যাতায়াত অন্যতম মাধ্যম। অফিসপাড়া থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার থেকে আবাসিক এলাকা সব জায়গাই ছিল টাউন বাসের চলাচল। কিন্তু সেই দৃশ্য এখন অতীত। নগরীর রাস্তায় এখন শুধুই সিএনজি ও লেগুনার ভিড়, টাউনবাসের অস্তিত্ব নেই বললেই চলে।

বিআরটিএ‘র তথ্যমতে, সিলেটে সব মিলিয়ে নিবন্ধিত সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা ১৯ হাজার ২০০। বিআরটিএ থেকে অনুমোদন নিয়ে এসব অটোরিকশা সিলেটে বৈধভাবে চলছে। কিন্তু বাস্তবে নগরে চলাচল করছে অন্তত ৪০ হাজার সিএনজিচালিত অটোরিকশা। শুধুমাত্র বিভিন্ন স্ট্যান্ডে টোকেন বাণিজ্যের মাধ্যমে এগুলো ধাপিয়ে বেড়াচ্ছে সড়ক থেকে মহাসড়ক। যা এখন সিলেট নগরে যানজটের অন্যতম প্রধান কারণ।

সিলেটের আম্বরখানা এলাকার বাসিন্দা শফিক মিয়া বলেন, নগরীতে গণপরিবহনের আধুনিক কোনো ব্যবস্থা না থাকায় মানুষ বিকল্প হিসেবে সিএনজিচালিত অটোরিকশার উপর নির্ভর করছে। কিন্তু এগুলো নিয়মের তোয়াক্কা না করেই চলছে। টাউনবাস ফিরলে যানজট ও বিশৃঙ্খলা অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসবে।

টিলাগড় এলাকার বাসিন্দা মিফতা হাসান বলেন, আম্বরখানা থেকে টিলাগড় যেতে ১৫ টাকা। আবার টিলাগড় থেকে আম্বরখানা আসতে ২০ টাকা। সমান দুরত্বে আসা-যাওয়ায় ভাড়ার তারতম্য। এটা কেউ দেখার নেই। 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তানভীর রহিম লিখেন, বন্দর টু হুমায়ুন চত্ত্বর, হুমায়ুন চত্ত্বর টু টিলাগড় এরকম বিভিন্ন পয়েন্ট টু পয়েন্ট থেকে ১০ মিনিট পর পর বাস সার্ভিস চালু করলে জনগণ সুফল পাবে।  অন্যথায় কোন সুফল পাবে না।

অ্যাডভোকেট তামিম রহমান চৌধুরী বলেন, সিলেটে একসময় ব্যাপক টাউনবাস ছিল। কিন্তু টাউনবাসের পরিকল্পনা সুদূর প্রসারিত ছিল না যার কারণে এটি অবহেলায় হারিয়ে গিয়েছে অথবা কোন স্বার্থ উদ্ধারের জন্য এগুলো ইচ্ছে করেই নাই করে ফেলা হয়েছে। যার ফলে সিলেটে অতিরিক্ত সিএনজি ও লেগুনা বেড়েছে। এতে করে নগরীর সব জায়গায় এই যানবাহনগুলো যানজট সৃষ্টি করছে। 

তিনি আরও বলেন, যদি সিটি করপোরেশন আবারও এই টাউন বাসগুলা আবারও ফিরিয়ে আনা যায় তাহলে আমাদের মতো মানুষের উপকার হইতো যেখানে একটা সিএনজিতে ৫ জন নেয়া যায় সেখানে ৩০ জন যাত্রী একসাথে যেতে পারবে, শহরে যানযট অনেকটা কমে যাবে। 

অন্যদিকে নগরীতে টাউন বাস সিসিকের অর্থায়নে হবে না জানিয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার সিলেট ভয়েসকে বলেন, এই টাউন বাস কোন খাতের অর্থায়নে সিলেটে নেমেছিল সেটা আমার জানা নেই, তবে নগরীতে যানজট নিরসনে আমরা বিআরটি, প্রশাসনের সাথে কথা বলেছি, তবে টাউনবাস সিটি করপোরেশনের অর্থায়নে করা যাবে না, তবে যদি বেসরকারি কেউ অর্থায়ন করেন তাহলে সিটিতে আবারও টাউন বাস ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী বলেন, মানুষের চাহিদা ও আমাদের ইচ্ছে এই দুইয়ের সমন্বয় করেই আমরা নগরবাসীর জীবনমান উন্নয়নে কাজ করব। আমরা ইতিমধ্যেই টাউন বাস ও ই-বাইক কথা মাথায় রেখেছি। দ্রুতই এ নিয়ে নাগরিকদের সঙ্গে বসা হবে এবং স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে কথা বলা হবে। 

তিনি বলেন, এখানে আমার ইচ্ছে বলে কিছু নেই। নাগরিকরা যেভাবে তার সুবিধার কথা বলবে আমরা সেভাবেই কাজ করবো।


শেয়ার করুনঃ

অনুসন্ধান থেকে আরো পড়ুন

সিলেট, নগর পরিবহন, সিসিক, সিটি করপোরেশন, সিলেট মেট্রোপলিটন, টাউন বাস, সিএনজি