২০ এপ্রিল ২০২৬

যাপিতজীবন / স্বাস্থ্য

ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি, বাস্তবে ভোগান্তি

প্রতিনিধি, ছাতক, সুনামগঞ্জ

প্রকাশঃ ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ৯:২৯ অপরাহ্ন

ছবিঃ ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। প্রতিবেদক

সিলেট বিভাগের শ্রেষ্ঠ স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। তবে বাস্তবে এই হাসপাতালের সেবা নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগের শেষ নেই।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেশের ১৯তম এবং সিলেট বিভাগের দ্বিতীয় স্থান দখল করা হাসপাতালটি বর্তমানে সারা দেশের ৪৯০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মধ্যে ১১তম এবং বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেছে। অথচ সেবার মান নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। ফলে অনেকেই একে ‘হাস্যকর স্বীকৃতি’ বলে মন্তব্য করছেন।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, সাধারণ জ্বর বা কাশি নিয়েও রোগীদের সিলেট শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এতে রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তি বেড়ে যায়। হাসপাতালের শৌচাগার নাজুক অবস্থায়, চিকিৎসক সংকট প্রকট, চিকিৎসা সামগ্রীর ঘাটতি স্পষ্ট। প্রেসক্রিপশনের জন্য ৫০ টাকা ‘হাদিয়া’ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। ভুল ওষুধ দেওয়া, রোগ নির্ণয়ে ব্যর্থতা, এমনকি জরুরি সেবায় অবহেলার ঘটনাও ঘটছে নিয়মিত।

 

রোগীরা জানান, রাতের বেলায় জরুরি বিভাগে গেলে চিকিৎসকরা অনেক সময় ঘুমিয়ে থাকেন বা সকালে আসতে বলেন। ইসিজির মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা করতে অনীহা প্রকাশ করা হয়। চিকিৎসার পরিবর্তে কেবল ব্যথানাশক দেওয়া হয়। নার্সদের আচরণ নিয়েও অভিযোগ রয়েছে—তারা রোগীদের সঙ্গে রূঢ় ব্যবহার করেন এবং ওষুধ ব্যবহারের নিয়ম বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে কিছুই জানান না।

 

এই অবস্থার মধ্যেও ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ‘শ্রেষ্ঠ’ ঘোষণা করায় অনেকে বিস্মিত। অনেকের প্রশ্ন, এটাই যদি শ্রেষ্ঠ হয়, তবে অন্যগুলোর অবস্থা কত ভয়াবহ? কেউ কেউ আবার একে ব্যঙ্গ করে বলছেন, “আজব দেশের গুজব।

 

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুসরাত আরেফিন বলেন, ‘ছাতক প্রথম হওয়া ছাতকবাসীর জন্য গর্বের বিষয়। সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। নেতিবাচক মন্তব্য শুনে খারাপ লাগে, তবে সেবার মান উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করছি।’

 

সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘ছাতকে যত রোগী হয়, যত ডেলিভারি হয়—সে হিসেবেই এই হাসপাতাল শ্রেষ্ঠ হয়েছে। এখানে সিজারিয়ান অপারেশনও অন্য উপজেলার চেয়ে বেশি হয়। জনবল সংকট সারা দেশেই আছে। তারপরও ছাতকে ২৪ ঘণ্টা সেবা দেওয়া হয়। যেখানে ৮ ঘণ্টা ডিউটি করার কথা, সেখানে চিকিৎসকেরা অনেক সময় ১৬ ঘণ্টা কাজ করেন। তারপরও সমালোচনার বদলে তাদের ধন্যবাদ দেওয়া উচিত।’ 


শেয়ার করুনঃ

যাপিতজীবন থেকে আরো পড়ুন

ছাতক, স্বাস্থ্য, ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স০

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ