লিটারে ৪ টাকা বাড়ল সয়াবিন তেলের দাম
ব্যবসা-বাণিজ্য
প্রথম বাংলাদেশি-প্রবাসীদের গড়া পারফিউম ব্র্যান্ড হিসেবে পেয়েছে মর্যাদাপূর্ণ ‘আরবান ট্রেজার’ পদক, ৪৫ বছরের পথচলায় ‘মোহাম্মদ ফারুক পারফিউম’ এখন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড
প্রকাশঃ ৩ আগস্ট, ২০২৫ ১০:২২ অপরাহ্ন
আতরের কাচাঁমাল উৎপাদনে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকলেও মূল বাজার সংযুক্ত আরব আমিরাত। লাভজনক এই শিল্পে মধ্যপ্রাচ্যের সফলতার অন্যতম কারিগর সিলেটের প্রবাসীরা। দীর্ঘদিন ধরে সিলেটের অনেক ব্যবসায়ী এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। বেশ খ্যাতিও ছড়িয়েছেন মধ্যপ্রাচ্যের আতর শিল্পে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে আতরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অন্যতম মোহাম্মদ ফারুক পারফিউম। ১৯৮০ সাল থেকে দেশটির রাজধানী আবুধাবিতে গৌরবের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করছে এই প্রতিষ্ঠানটি। সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার চারখাই এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ ফারুক আহমেদ এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন।
দীর্ঘ ৪৫ বছরের সফল পথচলায় তার সন্তানরাও এখন প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্বে। বর্তমানে ইউরোপ এবং আফ্রিকার বাজারেও ছড়িয়ে পড়েছে তাদের এই ব্র্যান্ড। চলতি বছর আমিরাত সরকারের মর্যাদাপূর্ণ ‘আরবান ট্রেজার’ পদকে ভূষিত হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
সম্প্রতি সিলেট ভয়েসের স্টুডিওতে আসেন প্রতিষ্ঠাতার ছেলে ফাহিম আহমদে। জানান সফলতার গল্প। সম্ভাবনা ও আগামীর পরিকল্পনাও বলেন তিনি।
ফাহিম আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশের মধ্যে প্রথম পারফিউম সেক্টরে আমিরাত সরকারের পদক আমরাই প্রথম পেয়েছি। এই পদক পাওয়ার জন্য আমাদের অনেক প্রতিযোগী ছিল। বিশেষ করে আবুধাবি এবং আলাইন দুইটা প্রদেশে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে বাছাই করে সংক্ষিপ্ত তালিকা করে সেদেশটির সরকার। ক্রেতাদের ‘রিভিউর’ মাধ্যমে তারা আমাদের পদকটি প্রদান করেছে।’
তিনি বলেন, ‘ব্যবসাটি শুরু করেছেন আমার বাবা। তিনি ১৯৭৭ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে গিয়েছিলেন। যাওয়ার পরে উনি ১৯৮০ সালে মোহাম্মদ ফারুক পারফিউমস প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠা করে উনি সফলভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। তারপর ২০০৯ সালে আমি যুক্তরাজ্য যাই পড়াশোনা করতে, সেখান থেকে পড়াশুনা শেষ করে আবুধাবিতে চলে এসে বাবার প্রতিষ্ঠান দেখাশোনা শুরু করি।’
ফাহিম বলেন, ‘তখন আমি দেখি আবুধাবিতে ব্যবসার অনেক সুযোগ রয়েছে। তখন আমি বাবাকে পরামর্শ দিয়ে আমাদের প্রতিষ্ঠানের শাখা বৃদ্ধি করার চেষ্টা করি। সেখান থেকে আস্তে আস্তে আমরা শাখা বৃদ্ধি করতে থাকি। বর্তমানে আমাদের ব্র্যান্ডের ছয়টি আউটলেট রয়েছে। আমাদের নিজস্ব পারফিউম ফ্যাক্টরিও আছে। তাছাড়া আমরা টেক্সটাইল ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত আছি। টেক্সটাইলে আমাদের আরও ৩টা শাখা আছে। প্রায় অর্ধশতাধিক কর্মী এসব প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আরবের একটা ঐতিহ্য হয়ে গেছে পারফিউম। বাংলাদেশে উৎপাদিত আগর উদ, বিশেষ করে মৌলভীবাজারের বড়লেখা অঞ্চল থেকে সবচেয়ে বেশি দেশের বাহিরে যায়। সেখান থেকে আমরা কাঁচামাল সংগ্রহ করে প্রক্রিয়াজাত করে বিভিন্ন ধরণের পারফিউম তৈরি করি।’
‘অরিজিনাল আগর উদ বা অয়েলের গাছ বাংলাদেশের আবহাওয়ায় ভালো জন্মায়। আমরা যে কাঁচামাল দেশ থেকে নেই সেগুলো অনেক ভালোমানের। যার কারণে বাংলাদেশের প্রোডাক্টের প্রতি দিন দিন ক্রেতারা আকৃষ্ট হচ্ছেন,’ বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘বড় বড় প্রতিষ্ঠান যেমন ডিওর, শ্যানেল– এরা এখন উদ ভার্সনের পারফিউম নিয়ে আসছে। আমরাও আমাদের প্রতিষ্ঠানে এটা মিক্সিং-ব্লেন্ডিংয়ে ব্যবহার করছি। ক্রেতারা অনেক খুশি হচ্ছেন। বিশেষ করে বাংলাদেশের প্রোডাক্টের গুণগতমান অনেক ভালো। আমাদের পাশ্ববর্তী দেশ ভারত বা মালয়েশিয়ার প্রোডাক্টের তুলনায় বাংলাদেশের প্রোডাক্টের গুণগত মান অনেক ভালো।’
তিনি বলেন, ‘যদি বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি করে প্রোডাক্ট নেয়া যায় আর আরও কম দামে, তাহলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশে এই ক্ষেত্রটা অনেক বড় আকারে ব্যাপক বিস্তৃতি লাভ করবে।’
ফাহিম বলেন, ‘বর্তমানে আগর উদ ন্যাচারালি পাওয়া অনেক কঠিন হয়ে যাচ্ছে। বেশি বেশি করে আগরের প্লান্টেশন করা অত্যন্ত জরুরি। শুধু আমরা বড়লেখাকে টার্গেট করব না, আমরা বাংলাদেশের বিভিন্ন যেগুলো পাহাড়ি অঞ্চল রয়েছে সেখানে যদি আমরা এটা চারা রোপণ করি তাহলে নতুনভাবে প্লান্টেশন করি তাহলে ভবিষ্যতে অনেক বেশি প্রোডাক্ট বাংলাদেশ থেকে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।’
আরব আমিরাত, ব্যবসা, সাফল্য, আগর, আতর, মোহাম্মদ ফারুক পারফিউমস, সফলতার গল্প