১৮ মে ২০২৬

প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ / প্রকৃতি

পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সীমান্তঘেঁষা সিলেটের 'নলজুড়ি'

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ১৫ জুলাই, ২০২৫ ১২:০৮ অপরাহ্ন

ছবিঃ ছবি কৃতজ্ঞতা : আনিস মাহমুদ

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার সীমান্তঘেঁষা এলাকা নলজুড়িতে বেড়েছে পর্যটকদের ভিড়। পাহাড়, ঝরনা ও সবুজ প্রান্তরের সমন্বয়ে গঠিত এই এলাকা এখন পর্যটকদের কাছে পরিচিত ‘খাসি হাওর’ বা ‘খাসিয়া হাওর’ নামে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় জায়গাটি দিনে দিনে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, আশপাশের মেঘালয় পাহাড়ে খাসিয়াদের আদি বসবাস থাকায় এই নামকরণ হয়েছে।

সিলেট-তামাবিল সড়ক ধরে ব্যক্তিগত যানবাহনে সহজেই পৌঁছানো যায় নলজুড়ি মাঠের পাশে। সিলেট থেকে জাফলংগামী লোকাল বাসে জনপ্রতি ভাড়া ৮০ টাকা, আর বিরতিহীন বাসে ১৫০ টাকায় যাওয়া যায় নলজুড়ি বাজার পর্যন্ত। সেখান থেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় এক কিলোমিটার দূরে মাঠ এলাকায় পৌঁছানো যায়।

নলজুড়ি মাঠ সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে দুটি ঝরনা, যেগুলোর পানি মিশে গেছে পাশের খাসি খালে (স্থানীয়ভাবে নলজুড়ি খালও বলা হয়)। এই খাল গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলার সীমানা নির্ধারণ করে। পাহাড়ঘেরা পরিবেশ ও মাঠজুড়ে ঝরনার ধারা দর্শনার্থীদের দৃষ্টি কাড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্ষা মৌসুমে ঝরনাগুলো প্রমত্তা হয়ে ওঠে এবং খেলার মাঠ পর্যন্ত পানি চলে আসে। পাহাড়ের পাদদেশে দাঁড়িয়ে থাকা সারি সারি সুপারিগাছ, ঝরনার ধারা আর সবুজ মাঠ মিলিয়ে তৈরি হয়েছে মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক দৃশ্য।

নলজুড়ি এখনো তুলনামূলক নির্জন পর্যটনস্থান। যারা ভিড় এড়িয়ে প্রকৃতির নীরব সান্নিধ্যে সময় কাটাতে চান, তাদের জন্য জায়গাটি উপযোগী বলে মনে করছেন স্থানীয় পর্যটনসেবীরা।

তবে এলাকাটি ভারত সীমান্তবর্তী হওয়ায় ভ্রমণের সময় বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) ও স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলতে পর্যটকদের অনুরোধ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। একই সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

গোয়াইঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার রতন কুমার অধিকারী বলেন, পর্যটকদের আমরা স্বাগত জানাই তবে যেহেতু এটি সীমান্তঘেঁষা সেজন‍্য আমরা বলব বিজিবি নির্দেশনা মেনে চলতে এবং পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কাজ থেকে বিরত থেকে ঘুরাঘুরি করতে।


শেয়ার করুনঃ

প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ থেকে আরো পড়ুন

গোয়াইনঘাট, নলজুড়ি, পর্যটক, সিলেট, পর্যটনস্পট

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ