
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার হাদারপার–দমদমা সড়কের উন্নয়নকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল গত জুনে। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো শেষ হয়নি সাড়ে ৬ কিলোমিটার সড়কের কাজ। ফলে দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এই সড়ক ব্যবহারকারী স্থানীয় বাসিন্দা ও যানবাহন চালকদের।
সড়কের বিভিন্ন স্থানে থাকা ৯০টি গাছ অপসারণ না হওয়ায় নির্মাণকাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। এরই মধ্যে কোথাও গাছ রেখেই সড়কে ঢালাই দেওয়া হয়েছে, আবার কোথাও গাছ পাশ কাটিয়ে নির্মাণকাজ করায় সড়কের স্বাভাবিক প্রস্থ ও আকৃতি ব্যাহত হয়েছে। এতে যান চলাচলে তৈরি হয়েছে বাড়তি ঝুঁকি ও ভোগান্তি।
এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, হাদারপার–ভাটরাই–ভোলাগঞ্জ জিসি সড়কের হাদারপার–দমদমা অংশের সাড়ে ৬ কিলোমিটার সড়কে আরসিসি ঢালাই এবং সাতটি কালভার্ট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রায় ২৬ কোটি ৬৫ লাখ ৯৪ হাজার টাকা চুক্তিতে এ প্রকল্পটি পায় ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স কামরুল অ্যান্ড ব্রাদার্স।
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর কাজ শুরু হয় এবং মেয়াদ শেষ হয় ২০২৬ সালের ২৮ জুন। তবে বগাইয়া থেকে দমদমা পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে তালিকাভুক্ত ৯০টি গাছ অপসারণ না হওয়ায় কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
সরেজমিনে দেখা যায়, বগাইয়া থেকে দমদমা পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে মাঝ বরাবর সারি সারি গাছ রয়েছে। এসব গাছের গোড়া ঘেঁষে সিসি ও আরসিসি ঢালাই করা হয়েছে। কোথাও গাছকে পাশ কাটিয়ে ঢালাই দেওয়ায় সড়কের স্বাভাবিক প্রস্থ ও আকৃতি ব্যাহত হয়েছে। আবার কোথাও গাছের শিকড় কেটে সড়কের আরসিসির গার্ডওয়াল নির্মাণ করা হয়েছে। এতে যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি ও ভোগান্তি তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় আড়াই বছর আগে সড়কের উন্নয়ন কাজ শুরু হয়। কাজের শুরুতেই সড়ক উন্নয়ন কাজের স্বার্থে গাছগুলো কাটার তালিকা করে বন বিভাগ। অনেক আগেই উন্নয়ন কাজে বাঁধা দেওয়া এসব গাছ অপসারণের কথা থাকলেও সংশ্লিষ্ট বন বিভাগ এখন পর্যন্ত কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেয়নি।
এ অবস্থায় সরকারের প্রায় সাড়ে ২৬ কোটি টাকার চলমান প্রকল্পের উন্নয়নকাজ কাঙ্ক্ষিত মানে সম্পন্ন হচ্ছে না।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সড়কের মধ্যে গাছ রেখেই ঢালাইয়ের কাজ করা হয়েছে। এতে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা বলেন, গাছ রেখে ঢালাই করায় ভবিষ্যতে গাছের শিকড়ের কারণে সড়কে ফাটল ও ভাঙ্গন দেখা দিতে পারে।
এ অবস্থায় গাছগুলো দ্রুত অপসারণ করে সড়কের অসম্পূর্ণ অংশ যথাযথভাবে নির্মাণ করার দাবি জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বরত ম্যনেজার জুবায়ের আহমদ জানান, সড়কের কাজের শুরু থেকেই এলজিইডি কর্তৃপক্ষকে বলে আসছি উন্নয়ন কাজে বাঁধা দেওয়া এসব গাছ কেটে অপসারণের ব্যবস্থা নিতে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা হয়নি।
তিনি বলেন, এসব গাছের কারণেই আমাদের অনেক ক্ষতি ও ব্যয় হয়েছে। বাধ্য হয়েই বিভিন্ন স্থানে গাছের অংশে কাজ রেখেই উন্নয়ন কাজ করতে হয়েছে। এখন গাছ কাটা হয়ে গেলে সড়কের বাকী অংশের ঢালাই কাজ সম্পন্ন করা হবে জানান তিনি।
গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) হাসিব আহামেদ বলেন, হাদারপার - দমদমা সড়কে উন্নয়ন কাজে আটকে রাখা গাছের বিষয়ে কাজের শুরুতেই বন বিভাগকে অবহিত করা হয়েছে। সারী রেঞ্জ কর্মকর্তা এক মাস আগে জানিয়েছিলেন যে, গাছগুলো টেন্ডার হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত গাছ কাটা হয়নি যার কারণে সড়কের উন্নয়ন কাজ আটকে আছে।
হাসিব আহামেদ বলেন, এরপর থেকে গাছের বিষয়ে বন বিভাগের সারী রেঞ্জ কর্মকর্তাকে ফোন দিলে তিনি আর ফোন রিসিভ করেন না।
বন বিভাগের সারী রেঞ্জ কর্মকর্তা শাহ আলম ইসলাম বলেন, সড়কের উন্নয়ন কাজে বাধা দেওয়া বিভিন্ন প্রজাতির ৯০ টি গাছ তালিকা করে টেন্ডারের মাধ্যমে টাঙ্গাইলের এক মহলদার নিয়েছে। তিনি আগামী সাপ্তাহের মধ্যে গাছ কাটা শুরু করবেন।
এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী বলেন, সড়কের উন্নয়ন কাজে বাধা দেওয়া গাছগুলো অপসারণের জন্য বন বিভাগ কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে। আশা করি, তারা খুব দ্রুত গাছগুলোর ব্যাপারে ব্যবস্থা নিবেন।
শেয়ার করুনঃ
দৈনন্দিন থেকে আরো পড়ুন
হাদারপার–দমদমা সড়ক, উন্নয়নকাজ, এলজিইডি, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, গোয়াইনঘাট, ভোগান্তি


