২২ আগস্ট ২০২৬

ইতিহাস-ঐতিহ্য / ইতিহাস

মৌলবি আবদুল করিম মুসলিম জাগরণের অন্যতম পথিকৃৎ: ভিসি জহিরুল হক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ২২ আগস্ট, ২০২৬ ১১:২২ পূর্বাহ্ন


সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) মোহাম্মদ জহিরুল হক শাকিল বলেছেন, শিক্ষা, সমাজসংস্কার, রাজনীতি ও সাহিত্য-সবক্ষেত্রে অসাধারণ অবদান উপমহাদেশের ইতিহাসে এক বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছেন মুসলিম জাগরনের অন্যতম পথিকৃৎ মৌলবি আবদুল করিম। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য তার জন্মভূমিতে তাকে নিয়ে কোনো চর্চা নেই। শুধু তিনিই নন, আমাদের দৈন্যতা হচ্ছে আমরা সিলেটের কৃতি সন্তানদের নিয়েও উদাসীন। 


তিনি বলেন, সিলেটে জাতীয় পর্যায়ে ভূমিকা রাখা অনেক ব্যক্তিত্ব রয়েছেন, শুধুমাত্র আলোকপাতের অভাবে তাঁরা আজ অনালোচিত। তাদের অবদান জানেনা বর্তমান প্রজন্ম।


বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টায় নগরীর জিন্দাবাজারের অভ্র সেন্টারে লোকবাংলা প্রত্নপাঠের আয়োজনে খ্যাতিমান শিক্ষাপ্রশাসক, শিক্ষাবিদ, লেখক মৌলবি আবদুল করিমের ১৬৩ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এক স্মরণ ও শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। 


সংগঠনের সভাপতি ড. আবুল ফতেহ ফাত্তাহর সভাপতিত্বে ও গবেষক, সাংবাদিক অপূর্ব শর্মার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে রবীন্দ্র গবেষক মিহিরকান্তি চৌধুরী ‘মৌলবি আবদুল করিম : শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক ও তাঁর কর্মসাধনা’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। 


প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক শাকিল আরও বলেন, নিজের সঞ্চিত অর্থ জনকল্যাণে দান করে তিনি মানবসেবার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সাম্প্রদায়িক সংকটের সময়ও তিনি সংঘাতের পরিবর্তে সংলাপ, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির পথ অনুসরণ করেছেন। মেধা, অধ্যবসায়, সততা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার সমন্বয়ে মৌলবি আবদুল করিম যে নেতৃত্বের দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন, তা বর্তমান প্রজন্মের জন্যেও অনুকরণীয়। তাঁর জীবন ও কর্ম নিয়ে আরও গবেষণা ও আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। 


অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক কবি নৃপেন্দ্রলাল দাশ বলেন, আবদুল করিম শুধু শিক্ষাপ্রশাসক বা রাজনীতিবিদ ছিলেন না; তিনি ছিলেন একজন প্রভাবশালী লেখক ও চিন্তাবিদ। ইতিহাস ও ধর্মবিষয়ক তাঁর একাধিক গ্রন্থ সমকালীন সমাজে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল। 


প্রাবন্ধিক মিহির কান্তি চৌধুরী বলেন, নিজের সঞ্চিত অর্থ জনকল্যাণে দান করে তিনি মানবসেবার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সাম্প্রদায়িক সংকটের সময়ও তিনি সংঘাতের পরিবর্তে সংলাপ, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির পথ অনুসরণ করেছেন। মেধা, সততা, অধ্যবসায় ও সামাজিক দায়বদ্ধতার সমন্বয়েই প্রকৃত নেতৃত্বের জন্ম মৌলবি আবদুল করিমের জীবন তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। 


সভাপতির বক্তব্যে ড. আবুল ফতে ফাত্তাহ বলেন, মুসলমান সমাজের শিক্ষাবঞ্চনা দূর করতে মৌলবি আবদুল করিম তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে কার্যকর সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। শিক্ষা বিস্তার ও সরকারি চাকরিতে মুসলমানদের প্রতিনিধিত্ব বাড়াতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর মতো গুণীর জীবন ও কর্ম নিয়ে আরও ব্যাপক আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। তিনি লোকবাংলা প্রত্নপাঠ আগামীতে লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যাওয়া বিশিষ্টজনের জীবন ও কর্ম নিয়ে এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন করবে বলে ঘোষণা দেন। 


অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, শিক্ষাবিদ গ.ক.ম আলমগীর, আইনজীবী ও লেখক বিধুভূষন ভট্টাচার্য, কবি ও শিক্ষক নাসিমা চৌধুরী, অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক হিমাংশু রঞ্জন দাশ, সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের প্রধান লেখক প্রণবকান্তি দেব, কবি ও ছোটো কাগজ সম্পাদক সুমন বনিক প্রমুখ।



শেয়ার করুনঃ

ইতিহাস-ঐতিহ্য থেকে আরো পড়ুন

মৌলবি আবদুল করিম, জহিরুল হক শাকিল, লোকবাংলা প্রত্নপাঠ, সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি, স্মরণসভা, জন্মবার্ষিকী

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ