উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে অর্থায়ন খরচ কমানোর তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর
ব্যবসা-বাণিজ্য
প্রকাশঃ ৮ আগস্ট, ২০২৬ ৩:১৭ অপরাহ্ন
দেশের চা শিল্পে নতুন মাইলফলক তৈরি করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত ন্যাশনাল টি কোম্পানি লিমিটেড (এনটিসি)। চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক চা নিলামে প্রতিষ্ঠানটির ১২টি চা বাগানের উৎপাদিত চা ইতিহাসের সর্বোচ্চ গড় দামে বিক্রি হয়েছে। এতে একদিকে যেমন রেকর্ড দামে চা বিক্রির সাফল্য এসেছে, অন্যদিকে চলতি মৌসুমে উৎপাদনও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ আগস্ট চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক চা নিলামে এনটিসির ১২টি বাগানের মোট ১ লাখ ৫১ হাজার ৫৬০ কেজি চা বিক্রি হয়। এসব চায়ের গড় দাম ছিল প্রতি কেজি ২৮০ টাকা ৫৯ পয়সা। এনটিসির ইতিহাসে এটি সর্বোচ্চ গড় বিক্রয়মূল্য। সরকার নির্ধারিত ২৪৫ টাকা ভিত্তিমূল্যের চেয়ে এই দাম অনেক বেশি।
নিলামে চা বিক্রি করে এনটিসির মোট আয় হয়েছে ৪ কোটি ৪৭ লাখ ৭৩ হাজার ৭২২ টাকা।
নিলামে বিক্রি হওয়া চায়ের মধ্যে ছিল হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার জগদীশপুর ও তেলিয়াপাড়া, চুনারুঘাটের চণ্ডীছড়া ও পারকুল এবং মৌলভীবাজার ও সিলেটের পাত্রখোলা, কুর্মা, চম্পারাই, মদনমোহনপুর, লাক্কাতুরা, মাধবপুর প্রেমনগর ও বিজয়া চা বাগানের উৎপাদিত চা। এসব বাগানের অর্থোডক্স ও সিটিসি চায়ের কয়েকটি লট নিলামে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি দামে বিক্রি হয়েছে।
এনটিসির কর্মকর্তারা বলছেন, চায়ের গুণগত মান উন্নয়নের বিভিন্ন উদ্যোগের সুফল মিলছে নিলামে। বাগান পর্যায়ে কাঁচা পাতা সংগ্রহ থেকে শুরু করে কারখানায় প্রক্রিয়াজাতকরণ পর্যন্ত মান নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তেলিয়াপাড়া চা-বাগানের ব্যবস্থাপক দেওয়ান বাহাউদ্দিন লিটন বলেন, চায়ের মান বাড়াতে দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে কাজ করা হচ্ছে। শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ, বাগান পর্যায়ে নিয়মিত তদারকি এবং ‘দুটি পাতা ও একটি কুঁড়ি’ নীতিতে পাতা সংগ্রহের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
তার মতে, উন্নত মানের কাঁচা পাতার কারণে উৎপাদিত চায়ের রং, ঘ্রাণ ও স্বাদে পরিবর্তন এসেছে। এর প্রভাব পড়েছে নিলামের দামে।
রেকর্ড দামে চা বিক্রির পাশাপাশি চলতি মৌসুমে উৎপাদনেও অগ্রগতি হয়েছে এনটিসির। প্রতিষ্ঠানটির উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) রফিকুল ইসলাম জানান, ৩১ জুলাই পর্যন্ত চলতি বছরের চা উৎপাদন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি হয়েছে।
তিনি বলেন, উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির চাপ থাকলেও ব্যয় নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়েছে। একই সঙ্গে কারখানায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং মানসম্মত প্রক্রিয়াজাতকরণ নিশ্চিত করা হয়েছে। এতে উৎপাদন ও বিক্রয় দুই ক্ষেত্রেই ইতিবাচক ফল পাওয়া যাচ্ছে।
চা শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনুকূল আবহাওয়ার অভাব, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি, সার ও অন্যান্য উপকরণের মূল্যবৃদ্ধিসহ নানা কারণে চা উৎপাদনের ব্যয় বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এনটিসির উৎপাদন বৃদ্ধি ও রেকর্ড দামে চা বিক্রি প্রতিষ্ঠানটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।
এনটিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিয়াউল হাসান বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বাগান শ্রমিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠানটির বাগানগুলো ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। উৎপাদন বাড়ানো ও চায়ের মান উন্নয়নে নেওয়া কর্মসূচির ফল ইতিমধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। মৌসুমের বাকি সময়ে উৎপাদন ও বিক্রি আরও বাড়বে বলে তিনি আশা করছেন।
এনটিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরও বলেন, দেশের চা-শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের অংশ হিসেবে আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনা, উন্নত জাতের চারা রোপণ, কারখানার সক্ষমতা বাড়ানো এবং নতুন বাজার তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে এনটিসিকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার লক্ষ্য রয়েছে।
ন্যাশনাল টি কোম্পানি, এনটিসি, চা নিলাম, চায়ের রেকর্ড দাম, চট্টগ্রাম চা নিলাম, চা শিল্প, সিলেটের চা, মৌলভীবাজারের চা, হবিগঞ্জের চা, চা উৎপাদন, চা বিক্রি, রাষ্ট্রায়ত্ত চা কোম্পানি