নিরাপত্তার ঘেরাটোপ ভেঙে সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ফ্লাডলাইটের তার চুরি
অপরাধ-বিচার
প্রকাশঃ ১৫ জুলাই, ২০২৬ ১:০০ অপরাহ্ন
আদালতে মামলা দায়েরের আগেই বিরোধ নিষ্পত্তির বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা প্রি-কেস মেডিয়েশন চালুর পর সুনামগঞ্জে সরকারি আইনি সহায়তা কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। গত এক বছরে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে প্রি-কেস আবেদন প্রায় ১১ গুণ বেড়েছে। একই সময়ে আপোষের মাধ্যমে আদায় হওয়া অর্থও বেড়েছে প্রায় ১৩ গুণ।
জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের তথ্য অনুযায়ী, আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ কার্যকর হওয়ার পর গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে বাধ্যতামূলক প্রি-কেস মেডিয়েশন চালু হয়। এরপর থেকেই আদালতের বাইরে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে শুরু করে।
জেলা লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা ও সিভিল জজ মোহাম্মদ জুনাইদ বলেন, আদালতের দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় না গিয়ে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তি করতে পারায় সাধারণ মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। এতে সময় ও ব্যয়—দুই-ই সাশ্রয় হচ্ছে।
২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুন সময়ের সঙ্গে ২০২৬ সালের একই সময়ের তুলনায় দেখা যায়, প্রি-কেস আবেদন ১৭১টি থেকে বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৮৪৯টি, যা প্রায় ৯৮১ শতাংশ বৃদ্ধি। একই সময়ে প্রি-কেস মীমাংসার সংখ্যা ৭৯ থেকে বেড়ে ২৬৬-এ পৌঁছেছে।
আপোষের মাধ্যমে আদায় হওয়া অর্থের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে যেখানে আদায় হয়েছিল ২ লাখ ৯০০ টাকা, সেখানে চলতি বছরের একই সময়ে আদায় হয়েছে ২৬ লাখ ৫৯ হাজার ৮০০ টাকা। অর্থাৎ এ খাতে বৃদ্ধি প্রায় ১ হাজার ২২৩ শতাংশ।
সরকারি আইনি সহায়তা গ্রহণকারী মানুষের সংখ্যাও বেড়েছে কয়েক গুণ। এক বছরে এই সংখ্যা ১৫৭ থেকে বেড়ে হয়েছে ৭৪৬। একই সময়ে আইনি পরামর্শ নিয়েছেন ৭৫৭ জন, যা আগের বছরের তুলনায় ২২ শতাংশ বেশি।
শুধু সেবা গ্রহণই নয়, সচেতনতা কার্যক্রমেও বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। গত বছরের জানুয়ারি-জুন সময়ে যেখানে তিনটি সচেতনতামূলক কর্মসূচি হয়েছিল, এবার সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪৬টি। এসব কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন ১ হাজার ৯৯৫ জন, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২৫ গুণ।
সব মিলিয়ে মোট উপকারভোগীর সংখ্যা ৬৩৯ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫১৩ জন। একই সময়ে মোট নিষ্পত্তির সংখ্যা ১৮৫ থেকে বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৮৩২টি।
আপোষনামারও রয়েছে আদালতের ডিক্রির মর্যাদা
জেলা লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা মোহাম্মদ জুনাইদ বলেন, অনেকেই মনে করেন লিগ্যাল এইড অফিসে হওয়া আপোষনামা কেবল পারস্পরিক সমঝোতা, যার আইনি ভিত্তি নেই। বাস্তবে বিষয়টি ভিন্ন।
তিনি বলেন, আইনগত সহায়তা প্রদান আইনের আওতায় সম্পাদিত আপোষনামা আদালতের ডিক্রির সমান আইনগত মর্যাদা বহন করে এবং এটি কার্যকরযোগ্য দলিল। কোনো পক্ষ তা অমান্য করলে অন্য পক্ষ আইনগত প্রতিকার চাইতে পারেন। এমনকি মীমাংসা চলাকালে কোনো পক্ষের সম্পত্তি বা স্বার্থ ঝুঁকিতে পড়লে প্রয়োজনীয় অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের ব্যবস্থাও নেওয়া সম্ভব।
দ্রুত সমাধানে স্বস্তি মানুষের
শান্তিগঞ্জ উপজেলার সুরেষা বেগম বলেন, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিরোধ ছিল। সরকারি লিগ্যাল এইডের সহায়তায় দুই পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে বিরোধের সমাধান হয়েছে। এতে দুজনই ন্যায্য বিচার পেয়েছেন।
দোয়ারাবাজার উপজেলার মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে ভাইদের মধ্যে দীর্ঘদিন বিরোধ ছিল। লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তি হওয়ায় আদালতে বছরের পর বছর ঘুরতে হয়নি।
জেলা লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা মোহাম্মদ জুনাইদ বলেন, "আমাদের লক্ষ্য শুধু মামলার সংখ্যা কমানো নয়; বরং মানুষের দোরগোড়ায় দ্রুত, সহজ ও কার্যকর ন্যায়বিচার পৌঁছে দেওয়া। প্রি-কেস মেডিয়েশন সেই লক্ষ্য অর্জনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।"
সুনামগঞ্জ লিগ্যাল এইড, প্রি-কেস মেডিয়েশন, মামলা নিষ্পত্তি, সুনামগঞ্জ জেলা লিগ্যাল এইড অফিস, আইনগত সহায়তা, আদালতের আগে মীমাংসা, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি