সিসিকের ১১ ভুয়া জন্মসনদ বাতিল হলেও এখনও অধরা জালিয়াত চক্র
অনিয়ম-দুর্নীতি
প্রকাশঃ ১৫ জুলাই, ২০২৬ ১১:০০ অপরাহ্ন
বিদেশগমন, ভিসা প্রসেসিংসহ নানা সরকারি কাজে জন্মনিবন্ধন সনদ একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় দলিল। অথচ সেই নথি জালিয়াতির ঘটনায় প্রশ্নের মুখে পড়েছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। যুক্তরাজ্যে যাওয়ার জন্য আবেদন করা ১১ ব্যক্তির জন্মনিবন্ধন সনদ ভুয়া হিসেবে শনাক্ত করেছে ব্রিটিশ হাই কমিশন।
পরবর্তীতে সিসিকের তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটির তদন্তে সনদগুলো জাল হিসেবে প্রমাণিত। তবে এর পেছনে থাকা ব্যক্তি বা চক্রকে সনাক্ত করা যায়নি। প্রশ্ন ওঠেছে-কারা এই জালিয়াতি চক্র, কীভাবে তারা সরকারি নিবন্ধন সার্ভারে প্রবেশাধিকার পেল এবং তাদের বিরুদ্ধে কেন এখনো দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অবশ্য সিসিক প্রশাসক বলছেন, এ ঘটনায় জড়িতদের অবশ্যই শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা হবে।
জানা গেছে, বিভিন্ন সময়ে সিলেট বিভাগ থেকে যুক্তরাজ্যগামী ব্যক্তিরা ভিএফএস গ্লোবাল ইউকেতে আবেদনপত্র জমা দেন। আবেদনকারীদের কাগজপত্র যাচাই বাছাই শেষে সিলেট অঞ্চলের ১১ টি ভূয়া জন্মনিবন্ধন নথিভুক্ত করে সংস্থাটি। যার প্রেক্ষিতে গত ৭ মে সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও নিবন্ধক ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বাতিল হওয়া নিবন্ধনগুলোর তথ্য প্রকাশ করা হয়। তালিকায় সিলেটের বিশ্বনাথ, সিটি কর্পোরেশনের ২৩ নম্বর ওয়ার্ড, সুনামগঞ্জের দিরাই, শান্তিগঞ্জ ও ছাতক উপজেলার বাসিন্দাসহ মোট ১১ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ব্রিটিশ হাই কমিশনের যাচাই প্রতিবেদনে সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম এবং সহকারী নিবন্ধক নজরুল ইসলামের প্রশাসনিক দুর্বলতা ও দায়িত্ব পালনে অবহেলার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চলতি বছরের ২৭ এপ্রিল রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় থেকে চিঠিও দেওয়া হয়।
এ ঘটনার পর সিলেট সিটি কর্পোরেশন দুই সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তিন কার্যদিবসের মধ্যে জমা দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে তথ্য-যাচাইয়ের ভিত্তিতে ১১টি জন্মনিবন্ধন সনদ ভুয়া প্রমাণিত হওয়ায় সেগুলো স্থায়ীভাবে বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়েও ওঠেছে প্রশ্ন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থলে না গিয়ে কেবল দাপ্তরিক কাগজপত্র পর্যালোচনা করেই প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।
এ বিষয়ে সিসিকের স্বাস্থ্য শাখার ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মো. নাসিম মিয়া বলেন, ‘আমরা কাগজপত্র যাচাই করেই তদন্ত করেছি। নিয়ম অনুযায়ী যেভাবে তদন্ত করার প্রয়োজন, সেভাবেই কাজ করা হয়েছে।’
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) অঞ্চল-৬ থেকে ইস্যু হওয়া ১১টি জন্মনিবন্ধন সনদ জাল প্রমাণিত হলেও এর সঙ্গে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলেনি বলে দাবি করেছেন সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম। তিনি জানান, ঘটনাটির পেছনে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় থাকতে পারে, তবে তদন্তে এখন পর্যন্ত কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় নির্দিষ্ট কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কীভাবে জাল সনদগুলো ইস্যু হয়েছে, সেটিও এখনও স্পষ্ট নয়। তবে এর পেছনে একটি সংঘবদ্ধ চক্র কাজ করে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও এ পর্যন্ত ওই চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চলতি বছরের ২৭ এপ্রিল রেজিস্ট্রার জেনারেল অফিস থেকে চিঠি ইস্যু করা হয়।
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, এরকম ঘটনায় জড়িতদের অবশ্যই শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা হবে। যার জন্য কমিটি হয়েছে। অফিশিয়ালি আমার কাছে এই বিষয়টা যখন আসবে, তখন আমি দেখব এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেব।
সিসিক,ভুয়া জন্মসনদ, জালিয়াত চক্র, সিলেট