সিলেটে পিকআপসহ ভারতীয় চা-পাতা জব্দ
অপরাধ-বিচার
প্রকাশঃ ১৪ জুলাই, ২০২৬ ৮:০৩ অপরাহ্ন
এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে তরুণীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার পর পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে দাঁড়ি কেটে, মুখে মাস্ক পরে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন সাইফুর রহমান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সুনামগঞ্জের ছাতকে সুরমা নদীর খেয়াঘাট থেকেই পুলিশের হাতে ধরা পড়েন তিনি। পাঁচ বছর পর সেই সাইফুর রহমানকেই আলোচিত এ মামলায় একমাত্র মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একই মামলায় তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং চারজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
মামলার তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘটিত ধর্ষণের ঘটনার পরদিন ভোরেই আত্মগোপনের পরিকল্পনা করেন সাইফুর। বালাগঞ্জ থেকে তিনি সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার নোয়ারাই এলাকার সুরমা নদীর খেয়াঘাটে পৌঁছান। সেখান থেকে দোয়ারাবাজার সীমান্ত হয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার।
ঘটনার সময় দায়িত্বে থাকা ছাতক সার্কেলের তৎকালীন সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) বিল্লাল হোসেন জানিয়েছিলেন, সাইফুরকে শনাক্ত করা কঠিন করতে তিনি দাঁড়ি কেটে ফেলেন এবং মুখে মাস্ক পরেন। পরনে ছিল টি-শার্ট ও প্যান্ট। ভোরেই সীমান্তঘেঁষা এলাকায় পৌঁছে তিনি কারও সঙ্গে যোগাযোগের অপেক্ষায় ছিলেন বলে পুলিশের ধারণা। তবে ছদ্মবেশ বেশিক্ষণ কাজে আসেনি তার।
উপপরিদর্শক (এসআই) হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সেদিন খেয়াঘাট এলাকায় নজরদারিতে ছিল। প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে এক ব্যক্তিকে ঘাটে সন্দেহজনকভাবে অপেক্ষা করতে দেখে পুলিশ তার কাছে যায়। প্রচারিত ছবির সঙ্গে চেহারার মিল থাকায় পরিচয় জানতে চাইলে তিনি বিচলিত হয়ে পড়েন। এরপরই তাকে আটক করা হয়।
ছাতক থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানিয়েছিলেন, ভোর ছয়টার দিকে সাইফুরকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে দুপুরে শাহপরাণ থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
খেয়াঘাট এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ঘাট পার হওয়ার পর দোয়ারাবাজার হয়ে সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় পৌঁছানোর একাধিক পথ ছিল। পুলিশের তাৎক্ষণিক তৎপরতার কারণে শেষ মুহূর্তে তার পালানোর চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
মামলার তদন্তে আরও উঠে আসে, এমসি কলেজ ছাত্রাবাসের ২০৫ নম্বর কক্ষটি দখল করে থাকতেন সাইফুর রহমান। মামলার এজাহারেও তার ঠিকানা হিসেবে ছাত্রাবাসের তত্ত্বাবধায়কের বাংলোর ওই কক্ষের উল্লেখ করা হয়।
ঘটনার রাতেই পুলিশের অভিযানে ওই কক্ষ থেকে একটি পাইপগান, চারটি রামদাসহ কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ধর্ষণ মামলার পাশাপাশি অস্ত্র আইনে তার বিরুদ্ধে পৃথক মামলাও হয়।
সে সময় সিলেট মহানগর পুলিশের তৎকালীন অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) জ্যোতির্ময় সরকার জানিয়েছিলেন, ধর্ষণ ও অস্ত্র—দুই মামলাতেই সাইফুরকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল।
দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছরের বিচারিক কার্যক্রম শেষে মঙ্গলবার ঘোষিত রায়ে সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একই মামলায় শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনি, তারেকুল ইসলাম তারেক ও অর্জুন লস্করকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অন্য চার আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে নববিবাহিত স্ত্রীকে নিয়ে এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে বেড়াতে গেলে এক দম্পতিকে জোর করে ছাত্রাবাসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে স্বামীকে আটকে রেখে তরুণীকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
এমসি কলেজ ধর্ষণ মামলা, সাইফুর রহমান, মৃত্যুদণ্ড, এমসি কলেজ রায়, সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল, ভারত পালানোর চেষ্টা, ছাতক খেয়াঘাট, সুরমা নদী, এমসি কলেজ ছাত্রাবাস