এহসানুল মাহবুব জুবায়ের
‘নদী কমিশন ভারতের সাথে আমাদের অধিকার আদায়ে কার্যকর মিটিং করতে পারে না’
দৈনন্দিন
প্রকাশঃ ১১ জুলাই, ২০২৬ ৯:৪৩ অপরাহ্ন
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, দুর্যোগে এগিয়ে আসা সকল মুমিনের নৈতিক দায়িত্ব। প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে সুখী সমৃদ্ধশালী মানবিক বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে যেকোন দুর্যোগে সকলের এগিয়ে আসা উচিত। বন্যা আমাদের জন্য বিভীষিকাময় পরিস্থিতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের সাথে আমাদের নদী সমস্যার সমাধান না হওয়ায় দেশে একের পর এক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।
শনিবার (১১ জুলাই) মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার টেংরা দারুস সুন্নাহ ফাজিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত শতাধিক পরিবারের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রাজনগর উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপজেলা আমির আবু রাইয়ান শাহিন সভাপতিত্ব করেন। সঞ্চালনা করেন উপজেলা সেক্রেটারি মিসবাহুল হাসান।
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, দেশের নদী গুলোর পানি প্রবাহ বন্ধ হওয়ার কারণে বেশী বৃষ্টি হলেই পানি বেড়ে যায়। এছাড়া স্থায়ী বাঁধগুলো টেকসই না থাকার কারণে গ্রামের পর গ্রামে অকাল বন্যা দেখা দেয়। এই পরিস্থিতি থেকে জনগণকে মুক্তি দিতে স্থায়ী ও মজবুত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বিকল্প নেই। জামায়াতে ইসলামী সকল স্তরের জবাবদিহীতা নিশ্চিত করে জনগণের প্রকৃত কল্যাণে কাজ করছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাথে ভারতের প্রায় ৫৪টি অভিন্ন নদীর সংযোগ রয়েছে। ভারত অধিকাংশ নদীতে বাঁধ দিয়ে রেখেছে। তারা পানি আটকিয়ে রেখে বৃষ্টির সময় পানি ছেড়ে দেয়। পানি আটকিয়ে রেখে তারা সেখানে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। এতে অসুবিধা নেই। কিন্তু নিয়ম হচ্ছে, আন্তঃনদী সংযোগ নিয়ে উভয়ে আলাপ করতে হয়। আমাদের একটা নদী কমিশন রয়েছে। কিন্তু নদী কমিশন ভারতের সাথে আমাদের অধিকার আদায়ে কার্যকর মিটিং করতে পারে না।
বিগত সরকারের জুলুম নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, ২০২৪ এর ৫ আগষ্ট বাংলাদেশে বৈষম্য দুর করার আন্দোলনে আমরা সফল হয়েছি। স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আমরা সফল হয়েছি। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের বিজয় লাভ হয়েছে। তিনি বিগত স্বৈরশাসকের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসক ভারতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। এখন ভারত থেকে আমাদের হুমকি দেয়া হচ্ছে ডিসেম্বরে আমি আসতেছি। আসতে যদি চান তবে গেলেন কেন? এখন বলে মাথা উচু করে আসবে। এসে আদালতে সারেন্ডার করবে। আসেন ভালো কথা- রায়ের কথা মনে রাখবেন, ভুলে যাবেন না, রক্তের দাগ এখনো শুকায় নাই।
তিনি বলেন, পতিত ফ্যাসিস্ট সরকার গত সাড়ে ১৬ বছরে দেশের রাজনীতিতে সংসদীয় ব্যবস্থা ও অর্থনীতিকে ভেঙ্গে লুটপাট করেছে। বাংলাদেশের আজকের অর্থনীতি খারাপের পিছনে তারা দায়ী। তারা ২৮ লক্ষ কোটি টাকা পাচার করেছে। যা বর্তমান বাজেটের তিনগুণ। দেশে আসেন- ফাঁসির দড়ি আপনার জন্য অপেক্ষা করছে। চব্বিশের জুলাই-আগষ্টে ১৪শ মানুষ হত্যা এবং ২০ হাজার আহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। এসবের বিচার হবে। আগামীর বাংরাদেশে ফ্যাসিবাদের কোন ঠাই হবে না। এদেশের জনগণকে সাথে নিয়ে আমরা অর্থনীতি ঠিক করবো। আমাদের জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিনত করা হবে। নতুন বাংলাদেশে কোন দূর্নীতি ও বৈষম্য থাকবেনা। বন্যার্ত মানুষের পাশে সরকারের পাশাপাশি সামর্থবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও মৌলভীবাজার জেলা আমির প্রকৌশলী মো. সায়েদ আলী।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন সাবেক জেলা আমির মো. আব্দুল মান্নান, জেলা সেক্রেটারি মো. ইয়ামীর আলী, গত সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-১ আসনে জামায়াত সমর্থিত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাওলানা আমিনুল ইসলাম, জেলা সহকারী সেক্রেটারি মো. আলাউদ্দীন শাহ, রাজনগর উপজেলা নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল শহীদ, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মাস্টার জাহাঙ্গীর আহমদ মুহিত, রাজনগর সদর ইউনিয়ন আমির দেলোয়ার হোসেন বাবলু, টেংরা ইউনিয়নের সভাপতি মাহমুদুর রহমান, সেক্রেটারি মামুন আহমদ এবং প্রবাসী নেতা আবুল কালাম রাসেল।
জামায়াতে ইসলামী, এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, মৌলভীবাজার, রাজনগর, বন্যা ত্রাণ