১১ জুলাই ২০২৬

দৈনন্দিন

মাজারে যে প্রক্রিয়াটি চলছে এটি স্থায়ী সমাধান নয়: কয়েস লোদি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ১১ জুলাই, ২০২৬ ১:৪১ অপরাহ্ন


সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে বর্তমানে যে প্রক্রিয়াটি পরিচালিত হচ্ছে এটি স্থায়ী সমাধান নয় বলে মন্তব্য করেছেন সিলেট উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারম্যান ও মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিষয়ে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটির সদস্য রেজাউল হাসান কয়েস লোদি। 

 

শনিবার (১১ জুলাই) ৭০০ বছরের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো প্রকাশ্যে দানের টাকা গণনার সময় সাংবাদিকদের এই মন্তব্য করেন তিনি।  

 

কয়েস লোদি বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্তের কোন পরিবর্তন করিনি। যে সিদ্ধান্তটি প্রথম দিনেই নেয়া হয়েছিল সেই সিদ্ধান্তের আলোকেই আজকের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে এটি এভাবে চলতে পারে না। এটি আসলে আমরাও চাচ্ছি না। এটি কারো জন্যই কাম্য না। এই বিষয়গুলোর প্রতি অনেকেরই উৎসাহ আছে।’ 

 

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আশা করছি যে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই আমরা এই দরগা এবং মসজিদ মাদরাসাকেন্দ্রিক বিষয়গুলো নিয়ে পরিকল্পনার কথা দেশবাসীকে জানিয়ে দিতে পারবো।’

 

রেজাউল হাসান কয়েস লোদি আরও বলেন, ‘এটার সুষম বন্টন হয় কিনা তা অনেকেই জানতে চাচ্ছেন। এই দাবি গণদাবিতে পরিণত হয়েছে। আমরা চেষ্টা করব সকলের সাথে কথা বলে মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটা চমৎকার সমাধান এবং রূপরেখা তৈরি করতে।’

 

তিনি বলেন, ‘১৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি বসেছিলেন এবং বসে কিছু প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এই প্রাথমিক সিদ্ধান্তগুলো আমরা এখনই বলছি না। আগামী বৃহস্পতিবার আবারও বসে চূড়ান্ত করে একটা রূপরেখা তৈরি করে সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হবে। তবে এটা বলতে পারি এখন যে প্রক্রিয়াটি পরিচালিত হচ্ছে এটি স্থায়ী সমাধান না।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘সকলের উপস্থিতিতে আজ দানের টাকাগুলো প্রকাশ্যে গণনা হচ্ছে। এই টাকাগুলো জেলা প্রশাসকের একাউন্টেই জমা হবে। যেভাবে বিগত দিনে এটি গণনা করে জেলা প্রশাসকের একাউন্টে জমা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু এই টাকাগুলো কিভাবে বন্টন হবে? এটাই এখন বড় বিষয়।’

 

লোদি বলেন, ‘দরগা মসজিদ, মাদরাসা ও মাজারের সাথে যারা সম্পৃক্ত সবাই একমত হয়েছি যে দরগার উন্নয়ন প্রয়োজন। এখানে একটা অজুখানা, বিশ্রামাগার ও কালচারাল কর্নার প্রয়োজন। শাহজালালের ব্যবহৃত জিনিসগুলো দেখার জন্য দর্শনার্থীরা আসেন, কিন্তু সেভাবে সুব্যবস্থাপনা না থাকার কারণে তারা দেখতে পাচ্ছেন না। এ বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা আছে।

 

তিনি আরও বলেন, ৭০০ বছর থেকে কিন্তু অনেকেই অনেক তথ্য দিয়ে অনেক বই রচনা করেছেন। কিন্তু এই বইগুলো কোথায় আছে বা কোথায় গেলে পাওয়া যাবে এরকম কোন তথ্য এখানে নেই। যারা আসেন তারা এই তথ্যগুলো জানতে চান হযরত শাহজালাল কিভাবে সিলেটে যুদ্ধ করেছেন, বিজয় অর্জিত হয়েছিল। অনেকেই অনেক তথ্য দিয়ে বই লিখেছেন সেটি সংরক্ষণের জন্য একটি উন্নতমানের গ্রন্থাগার এখানে হতে পারে। এ বিষয়গুলো আমাদের পরিকল্পনার মধ্যে আছে। 

 

প্রায় ৭০০ বছরের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো প্রকাশ্যে গণনা শুরু হয়েছে সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের টাকা। শনিবার (১১ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মাজার প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে টাকা গণনা শুরু হয়েছে। 

 

মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত উচ্চ কমিটির সদস্য ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে টাকা গণনায় অংশ নিয়েছেন মাদরাসার অন্তত ২৫-৩০ জন শিক্ষার্থীরা।

 

এর আগে গত ২২ জুন সিলেটের সাবেক জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের নেতেৃত্বে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে মাজারের দানের টাকা গণনা করা হয়। সে সময় গণনা শেষে মোট ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা পাওয়া যায়। পরে টাকাগুলো সোনালী ব্যাংকে খোলা একটি নতুন হিসাবে জমা রাখা হয়।

 

গত বৃহস্পতিবার সিলেট সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত উচ্চ কমিটির বৈঠকে দানবাক্সের টাকা দ্বিতীয় দফায় গণনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তারই আলোকে শনিবার প্রকাশ্যে টাকা গণনার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।


শেয়ার করুনঃ

দৈনন্দিন থেকে আরো পড়ুন

সিলেট, শাহজালাল মাজার, দানের টাকা, প্রকাশ্যে গণনা, কয়েস লোদি

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ