কানাইঘাটে জাহাঙ্গীর হত্যা মামলার তিন আসামী কক্সবাজার থেকে গ্রেপ্তার
অপরাধ-বিচার
প্রকাশঃ ৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:২০ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার জাদুকাটা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ঘটনায় প্রায় নয় মাস পর আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। তদন্ত শেষে ৩৭ জনের এজাহারভুক্ত আসামির মধ্যে ২৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ায় উপজেলা বিএনপির এক নেতাসহ ১০ জনকে অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পরিবেশ অধিদপ্তর সুনামগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম গত সোমবার সুনামগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (তাহিরপুর জোন) অভিযোগপত্র জমা দেন।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৬ থেকে ১১ অক্টোবর তাহিরপুর উপজেলার লাউড়েরগড় এলাকায় জাদুকাটা নদীর তীর কেটে প্রকাশ্যে বালু উত্তোলন করা হয়। নৌকা ও বাল্কহেড ব্যবহার করে হাজারো মানুষ নদী থেকে বালু নিয়ে যান। পরে ১৫ অক্টোবর পরিবেশ অধিদপ্তর সুনামগঞ্জ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাইমিনুল হক বাদী হয়ে তাহিরপুর থানায় মামলা করেন। মামলায় ৩৭ জনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২০ জনকে আসামি করা হয়।
অভিযোগপত্রে তাহিরপুরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও বাদাঘাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আফতাব উদ্দিন, বাদাঘাট ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি খাজা মাইনুদ্দিন, মোশাহিদ আলম ওরফে রানু মেম্বার, জামাল মিয়া, বিল্লাল মিয়া, বোরহান উদ্দিনসহ মোট ২৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। একই ঘটনায় এর আগে রানু মেম্বারকে গ্রেপ্তার করেছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
অন্যদিকে, মামলার এজাহারে নাম থাকা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রাকাব উদ্দিনসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে তদন্তে অভিযোগের সমর্থনে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ না পাওয়ায় তাদের নাম অভিযোগপত্রে রাখা হয়নি।
পরিবেশ অধিদপ্তর সুনামগঞ্জ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাইমিনুল হক বলেন, তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে, তাদের বিরুদ্ধেই অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সমর্থনে প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের এ কর্মকর্তা আরও জানান, বালু লুট বন্ধ করতে হলে নিয়মিত টাস্কফোর্সের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনার বিকল্প নেই।
উল্লেখ্য, জাদুকাটা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই পরিবেশবাদী সংগঠন ও স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্বেগ জানিয়ে আসছেন। এদিকে গত বছর নদীর দুটি বালুমহাল ১০৭ কোটি টাকায় ইজারা দেওয়া হলেও আদালতের নির্দেশে চলতি মৌসুমে ইজারা কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। ফলে সরকার সম্ভাব্য বিপুল রাজস্ব আয় থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।
জাদুকাটা নদী, জাদুকাটা বালু উত্তোলন, অবৈধ বালু উত্তোলন, তাহিরপুর, সুনামগঞ্জ, পরিবেশ অধিদপ্তর, অভিযোগপত্র, চার্জশিট, আফতাব উদ্দিন, রানু মেম্বার, রাকাব উদ্দিন, বালু লুট