
সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে স্থাপন করা ৩টি ডেগ ও একটি দানবাক্স খুলে প্রকাশ্যে গণনায় নগদ ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৫৯ টাকা এবং ৭ আনা সোনা পাওয়া গেছে। সিলেট ও সুনামগঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত ওয়াকফ কর্মকর্তা সজল মিয়া এ তথ্য জানান।
সোমবার (২২ জুন) বেলা আড়াইটা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত মাজার প্রাঙ্গণে এ গণনা কার্যক্রম চলে। সজল মিয়া বলেন, ‘তিনটি ডেগ ও একটি বাক্স গণনা শেষে মোট ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা পাওয়া গেছে। পাশাপাশি দানবাক্সে টাকার সঙ্গে ৭ আনা সোনাসহ বৈদেশিক মুদ্রাও পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে রিয়াল, ডলার, পাউন্ড এবং স্বর্ণের চেইন, আংটিসহ ছোট ছোট স্বর্ণের টুকরো।’
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদ রানার উপস্থিতিতে মাজারে দানের তিনটি ঐতিহাসিক ডেগ ও নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। একই সময় মাজারে থাকা দানের ঐতিহাসিক তিনটি ডেগ সিলগালা করা হয় এবং নিরাপত্তার জন্য আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়।
এদিকে, বদলির আদেশ প্রত্যাহারের ঘোষণার একদিন পর সোমবার প্রায় ৭০০ বছরের প্রচলিত রীতির বাইরে প্রথমবারের মতো প্রশাসনের উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে দানের টাকা গণনার উদ্যোগ নেন সদ্য বিদায়ী ডিসি সারওয়ার আলম। তার এ উদ্যোগকে ঘিরে মাজার এলাকায় উৎসুক জনতার ঢল নামে। টাকা গণনার সময় সাধারণ মানুষ মিছিল দিতে শুরু করেন। এসময় তারা ডিসি সারওয়ারের প্রশংসা করতে থাকেন। তবে গণনার সময় মাজার কর্তৃপক্ষের কেউ না থাকলেও তাদের পক্ষের লোকজনও উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে নজিরবিহীন এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাজার এলাকায় কড়া নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। পুলিশ ও আনসার সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে দেখা গেছে।
টাকা গণনা শেষে ওয়াকফ্ কর্মকর্তা সজল মিয়া বলেন, ‘মাজারে জমা পড়া দানের পুরো টাকা সোনালী ব্যাংকে শাহজালাল (রহ.) মাজার নামীয় অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়া হবে। পরবর্তীতে এই টাকা কীভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা হবে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করবে।’
এদিকে টাকা গণনার সময় মাজার প্রাঙ্গণে সদ্য বিদায়ী ডিসি সারওয়ার আলম থাকলেও গণনার শেষ মুহুর্তে গণমাধ্যমের সঙ্গে কোনো কথা না বলেই তিনি মাজার এলাকা ত্যাগ করেন। জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শেয়ার করুনঃ
দৈনন্দিন থেকে আরো পড়ুন
শাহজালাল মাজার, দানবাক্স, টাকা, সোনা, ডিসি সারওয়ার আলম, গণনা


