২৪ জুন ২০২৬

রাজনীতি / সরকার

মাজার ইস্যুর সঙ্গে বদলির সম্পর্ক নেই: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

সিলেট ভয়েস ডেস্ক

প্রকাশঃ ২২ জুন, ২০২৬ ১১:৫৬ পূর্বাহ্ন


সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় শুরু হয়েছে। অনেকেই এই বদলিকে হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের আয়-ব্যয় ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে জেলা প্রশাসনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের সঙ্গে যুক্ত করে দেখছেন। তবে সরকার বলছে, এটি প্রশাসনের নিয়মিত বদলির অংশ মাত্র। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী স্পষ্ট জানিয়েছেন, মাজার ইস্যুর সঙ্গে এই বদলির কোনো সম্পর্ক নেই।

গতকাল রোববার (২২ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে মো. সারওয়ার আলমকে সিলেটের জেলা প্রশাসকের পদ থেকে প্রত্যাহার করে মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বদলির কারণ উল্লেখ না থাকায় বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে মাজার ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগের পরপরই এ সিদ্ধান্ত আসায় অনেকেই দুটি ঘটনাকে একসূত্রে গাঁথতে চাইছেন।

এ বিষয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের বদলি প্রশাসনের স্বাভাবিক ও চলমান প্রক্রিয়া। একজন কর্মকর্তা একটি দায়িত্ব শেষ করে অন্য দায়িত্বে যান, আবার নতুন কেউ এসে সেই দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এ ধরনের সিদ্ধান্তকে ভিন্ন কোনো ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ নেই।

তিনি আরও বলেন, কোনো কর্মকর্তা একটি পদে স্থায়ী নন। রাষ্ট্রের প্রয়োজন অনুযায়ী তাঁকে বিভিন্ন জায়গায় দায়িত্ব পালন করতে হয়। একজন কর্মকর্তা তাঁর কাজের মাধ্যমে মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করতে পারেন, সেটি ইতিবাচক বিষয়। তবে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে ব্যক্তিনির্ভরভাবে ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলমান সমালোচনার প্রসঙ্গ তুলে ধরা হলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, একজন কর্মকর্তা ভালো কাজ করলে সাধারণ মানুষ তাঁকে পছন্দ করবেন, সেটি স্বাভাবিক। কিন্তু বদলিকে কেন্দ্র করে অযথা নানা ব্যাখ্যা দাঁড় করানোর কারণ নেই। এটি সরকারের নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রমের অংশ।

মাজারের আয়-ব্যয়ের বিষয়ে জেলা প্রশাসনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের সঙ্গে বদলির কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না  এ প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুটি বিষয়কে একসঙ্গে মিলিয়ে দেখার যৌক্তিকতা নেই। বদলি একটি স্বাভাবিক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, এর সঙ্গে অন্য কোনো ঘটনার সম্পর্ক খোঁজার প্রয়োজন নেই।

সারওয়ার আলমকে এখনো নতুন কোনো পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, কোনো কর্মকর্তাকে মাঠ প্রশাসন বা অন্য কোনো দপ্তর থেকে প্রত্যাহার করা হলে প্রথমে তাঁকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়। পরে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন পদে পদায়ন করা হয়। সারওয়ার আলমের ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

২৭তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা মো. সারওয়ার আলম এর আগে র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আলোচনায় আসেন। গত বছরের আগস্টে তিনি সিলেটের জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। প্রায় ১০ মাস দায়িত্ব পালনের পর রোববার তাঁকে ওই পদ থেকে প্রত্যাহার করা হয়।

ডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় বিভিন্ন প্রশাসনিক উদ্যোগের পাশাপাশি সম্প্রতি হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের আয়-ব্যয় ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে তাঁর বেশ কিছু পদক্ষেপ জনমনে ব্যাপক সাড়া ফেলে। সেই প্রেক্ষাপটে তাঁর বদলির সিদ্ধান্ত নিয়ে জনপরিসরে নানা প্রশ্ন উঠলেও সরকার এটিকে নিয়মিত প্রশাসনিক রদবদলের অংশ বলেই ব্যাখ্যা করছে।


শেয়ার করুনঃ

রাজনীতি থেকে আরো পড়ুন

সিলেট, ডিসি, সারওয়ার আলম, জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ