২১ জুন ২০২৬

প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ / আবহাওয়া

চেরাপুঞ্জিতে ২৪ ঘণ্টায় ৪৭০ মিলিমিটার বৃষ্টি, সিলেট-সুনামগঞ্জে ঢলের শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ২১ জুন, ২০২৬ ৫:৩২ অপরাহ্ন

ছবিঃ সংগৃহিত

বিশ্বের অন্যতম বৃষ্টিবহুল স্থান হিসেবে পরিচিত মেঘালয়ের সোহরা বা চেরাপুঞ্জিতে গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড করা হয়েছে ৪৭০ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত। শিলংয়ের আরকেএম সোহরা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সকাল সাড়ে ৮টা থেকে আজ সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত এই বৃষ্টিপাত পরিমাপ করা হয়েছে, যা সরকারি মানদণ্ডে ‘অতি ভারী বৃষ্টিপাতের’ (১১৫ দশমিক ৫ থেকে ২০৪ দশমিক ৪ মিলিমিটারের ঊর্ধ্বে অতি ভারী, ২০৪ দশমিক ৪ মিলিমিটারের বেশি অত্যধিক ভারী) সীমা বহুগুণে ছাড়িয়ে গেছে। সীমান্তের ওপারে এই প্রবল বর্ষণ সিলেট ও সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে আকস্মিক ঢল নামার আশঙ্কা তৈরি করেছে।


পূর্ব খাসি পাহাড় জেলার সোহরা এলাকা ঐতিহাসিকভাবে পৃথিবীর সর্বোচ্চ বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের রেকর্ডধারী অঞ্চলগুলোর একটি, যা সিলেট বিভাগ থেকে সরাসরি উত্তরে অবস্থিত এবং সুরমা অববাহিকার পানির অন্যতম প্রধান উৎস। এই অঞ্চলের পাহাড়ি ঢাল খুব খাড়া হওয়ায় ভারী বৃষ্টির পানি দ্রুত নিচের দিকে নেমে আসে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই সীমান্তবর্তী নদ-নদীতে পানির স্তর বাড়িয়ে দিতে পারে।


আজ রোবারের তথ্য অনুযায়ী, সোহরা স্টেশনে সরাসরি তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের নিচে রয়েছে গতকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের চেয়ে ১ দশমিক ১ ডিগ্রি কম, যা একটানা মেঘাচ্ছন্ন ও বৃষ্টিবহুল আবহাওয়ার ইঙ্গিত দেয়। সেখানে আজ সকালে আর্দ্রতা ছিল ৯৮ শতাংশ।


শুধু চেরাপুঞ্জি নয়, পার্শ্ববর্তী মৌসিনরামেও বৃষ্টিপাত হয়েছে আরও বেশি সাধারণ বৃষ্টি পরিমাপক যন্ত্রে (ওআরজি) সেখানে রেকর্ড হয়েছে ৫২৬ দশমিক ৪ মিলিমিটার, যা পুরো রাজ্যে সর্বোচ্চ। দক্ষিণ-পশ্চিম খাসি পাহাড়ের মাওকিরওয়াটে বৃষ্টিপাত হয়েছে ৩৮৫ মিলিমিটার এবং সেখানে ঘণ্টায় ৫৪ কিলোমিটার বেগে বাতাস বয়ে গেছে। মেঘালয় আবহাওয়া অধিদপ্তরের সার্বিক পর্যবেক্ষণ বলছে, রাজ্যের বিচ্ছিন্ন কিছু স্থানে অতি ভারী, কিছু স্থানে ভারী এবং অধিকাংশ স্থানে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হয়েছে।


এছাড়া পূর্ব খাসি পাহাড়ের মাওফলাংয়ে ১৩৩ দশমিক ৬ মিলিমিটার, পূর্ব জৈন্তিয়া পাহাড়ের খলিরিয়াটে ১১৫ দশমিক ২ মিলিমিটার ও শেলায় ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। পশ্চিম জৈন্তিয়া পাহাড়ের আমলারেমে স্বয়ংক্রিয় বৃষ্টি পরিমাপক যন্ত্রে ১২৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের তথ্য পাওয়া গেছে, যা সিলেট সীমান্তের আরও কাছাকাছি একটি এলাকা।


সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চল এবং সিলেটের সীমান্তবর্তী নিম্নাঞ্চল মেঘালয়ের পাহাড়ি ঢলের প্রতি দীর্ঘদিন ধরেই সংবেদনশীল। চেরাপুঞ্জি ও মৌসিনরামের মতো এলাকায় একই দিনে চার শ থেকে পাঁচ শ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হলে তার প্রভাব সাধারণত ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সুরমা ও যাদুকাটার মতো সীমান্তবর্তী নদীতে পানি বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রকাশ পায়। বর্তমান বৃষ্টিপাতের ধারা অব্যাহত থাকলে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর এবং সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ-গোয়াইনঘাট এলাকায় নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ার আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।


হাওর এরিয়া আপলিফটমেন্ট সোসাইটির (হাউস) নির্বাহী পরিচালক সালেহিন চৌধুরী শুভ বলেন, ভারতের মেঘালয় রাজ্যে যতি ভারী বৃষ্টিপাত হয় তার প্রভাব পুরো সিলেট অঞ্চলে পড়বে। তাছাড়া গেল ২৪ ঘন্টায় যদি ৪০০ মিলিমিটারের অধিক বৃষ্টিপাত হয় তাহলে হাওরাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হবে। যার জন্য এখন থেকেই প্রশাসনের উচিত জরুরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা।


সিলেট পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, উজান থেকে নেমে আসা ঢল এবং স্থানীয় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে সুরমা ও কুশিয়ারার কয়েকটি পয়েন্টে পানির সমতল আরও বাড়তে পারে। এ কারণে পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে সিলেট অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা হতে পারে।


শেয়ার করুনঃ

প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ থেকে আরো পড়ুন

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ