১৫ আগস্ট ২০২৬

প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ / বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ

শ্রীমঙ্গলে একদিনে তিন ধরনের বন্যপ্রাণী উদ্ধার

প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার

প্রকাশঃ ১৫ আগস্ট, ২০২৬ ৪:২৩ অপরাহ্ন


মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় একই দিনে তিনটি ভিন্ন স্থান থেকে দাঁড়াশ সাপ, তক্ষক এবং লজ্জাবতী বানর উদ্ধার করা হয়েছে। এই বিরল ঘটনায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সম্পর্কে নতুন সচেতনতা জেগে উঠেছে।


শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে নোয়াগাঁও শাইটুলা প্রজেক্ট-২ এলাকার একটি মৎস্য খামারে প্রথম ঘটনাটি ঘটে। রাত জুড়ে মাছ শিকারের জন্য বিস্তৃত জালে একটি সাপ জড়িয়ে পড়েছিল। খামারের প্রকল্প ম্যানেজার সকালে জাল উত্তোলনের সময় সাপটি চিহ্নিত করেন এবং প্রাণীটিকে হত্যা না করে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে অবহিত করেন। 


ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল এবং পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ও রিদন গৌড় তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তারা সাপটিকে দাঁড়াশ প্রজাতির বলে চিহ্নিত করেন। প্রায় অর্ধঘণ্টার নিবিড় প্রচেষ্টার মাধ্যমে তারা জাল কেটে সাপটিকে জীবিত অবস্থায় বের করে আনেন। দীর্ঘ সময় জালে আবদ্ধ থাকার কারণে প্রাণীটি দুর্বল হয়ে পড়েছিল। প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা প্রদান করে সাপটিকে শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ অফিসে হস্তান্তর করা হয়।


একই দিন সকাল ১১টার দিকে রুপসপুর এলাকায় রুপন পালের গৃহের পূজাঘরে একটি তক্ষক অনুপ্রবেশ করে। পরিবারের সদস্যরা সাপটি দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তবে রুপন পাল দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের সাথে যোগাযোগ করেন। স্বপন দেব সজল এবং রাজদীপ দেব দীপ অবিলম্বে তিনি পৌঁছে তক্ষকটিকে নিরাপদে ধরে আনেন এবং পরে তা বন বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছে সোপর্দ করেন।


দুপুর ১টার দিকে উত্তর ভাড়াউড়ার ৫ নম্বর বস্তিতে একটি লজ্জাবতী বানর দুটি গাছের মধ্যবর্তী স্থান থেকে মাটিতে নেমে আসে। স্থানীয় বালকেরা বানরটি দেখে চিৎকার করে উঠলে দুলাল রবিদাস প্রাণীটিকে নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং আটক রাখেন। রবিদাস অবিলম্বে বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে খবর দেন এবং স্বপন দেব সজল ও রাজদীপ দেব দীপ বানরটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে বন বিভাগের রেঞ্জ অফিসে সরিয়ে নেন।


বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল উদ্যোগকারীদের দায়িত্বশীল আচরণের প্রশংসা করে বলেন, বন্যপ্রাণী মানুষের বসতবাড়ি বা লোকালয়ে চলে এলে আতঙ্কিত হয়ে সেটিকে আঘাত করা উচিত নয়। প্রাণীটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দ্রুত সংশ্লিষ্টদের খবর দিলে সেটিকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব।


তিনি আরও উল্লেখ করেন, শ্রীমঙ্গলের বনাঞ্চল ও প্রাকৃতিক পরিবেশে বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণীর বিচরণ রয়েছে। ফলে মাঝে মাঝে খাদ্য, আশ্রয় বা চলাচলের পথে এসব প্রাণী লোকালয়ে চলে আসে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে মানুষের সচেতন ও দায়িত্বশীল আচরণই বন্যপ্রাণী রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


শেয়ার করুনঃ

প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ থেকে আরো পড়ুন

দাঁরাশ সাপ, তক্ষক, লজ্জাবতী বানর, বন্যপ্রাণী উদ্ধার, শ্রীমঙ্গল, বন বিভাগ

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ