নারীদের অনার্স পর্যন্ত শিক্ষা বিনামূল্যে করার সিদ্ধান্ত: প্রধানমন্ত্রী
দৈনন্দিন
প্রকাশঃ ১৬ আগস্ট, ২০২৬ ১:০৪ অপরাহ্ন
নারীদের শিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত করতে অনার্স পর্যন্ত তাদের শিক্ষা বিনামূল্যে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এ ক্ষেত্রে শিক্ষার সব খরচ সরকার বহন করবে।
রোববার দুপুরে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়িঘাট এলাকায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬ উপলক্ষে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত, স্থানীয় জেলেদের মধ্যে পোনা বিতরণ ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। এই নারী সমাজকে যদি আমরা পিছিয়ে রাখি, তাহলে দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। সে কারণেই বর্তমান সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, নারীদের অনার্স পর্যন্ত শিক্ষা ফ্রি করে দেওয়া হবে। সব খরচ সরকার বহন করবে।’
নারী শিক্ষার্থীদের মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে ভবিষ্যতে দেশের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। ভালো ফলাফল করা মেয়েদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে উপবৃত্তির ব্যবস্থাও করা হবে বলে জানান তিনি।
নারী শিক্ষার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকারের আগে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া দেশ পরিচালনার সময় নারীদের ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত শিক্ষা ফ্রি করেছিলেন।
দেশের গ্রাম-গঞ্জের দরিদ্র পরিবারের শিশুদের শিক্ষার সুযোগ বাড়াতেও সরকারের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের হাজার হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দরিদ্র পরিবারের শিশুদের বছরে একবার করে স্কুল ড্রেস দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু স্কুল ড্রেস নয়, প্রায় এক কোটি ২০ লাখ শিশুর হাতে স্কুল ব্যাগও পৌঁছে দিতে চাই। প্রতিবছর নতুন বই দেওয়ার পাশাপাশি তাদের নতুন স্কুল ব্যাগ ও স্কুল ড্রেসও আমরা ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে চাই।’
শিক্ষার পাশাপাশি নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার ওপরও গুরুত্ব-আরোপ করে তিনি বলেন, দেশের নারী সমাজকে শিক্ষায় এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ফ্যামিলি কার্ডের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘নির্বাচনের আগে আমরা বলেছিলাম, বাংলাদেশের চার কোটি পরিবারের মধ্যে যে নারী পরিবারের প্রধান ও সংসার পরিচালনা করেন, পর্যায়ক্রমে তাঁর হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। আল্লাহর রহমতে ফ্যামিলি কার্ডের কাজও শুরু হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি ঘরে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।’
কিশোরগঞ্জে জাতীয় পর্যায়ে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব মাছ বড় হয়ে ডিম ছাড়ার পর নদী, খাল ও বিলে ছড়িয়ে পড়বে। এর সুফল দেশের মানুষই ভোগ করবে।
তিনি বলেন, ‘আজ এখানে যে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হলো, এসব মাছ যখন বড় হবে, ডিম পাড়বে এবং বিভিন্ন খাল-বিলে ছড়িয়ে পড়বে, তখন এর উপকার কারা পাবেন? লন্ডনের মানুষ, নাকি জাপানের মানুষ? বাংলাদেশের মানুষই এর উপকার পাবে।’
পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন নদী, খাল ও বিলে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হবে বলেও জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে বিএনপির সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। সরকার ধাপে ধাপে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হলে সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপির রাজনীতির মূল লক্ষ্য সাধারণ ও গ্রামীণ মানুষের উপকার নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশকে একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা।
তারেক রহমান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, নারী শিক্ষা, নারীদের বিনা মূল্যে শিক্ষা, অনার্স পর্যন্ত শিক্ষা, নারী শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি, ফ্যামিলি কার্ড, কিশোরগঞ্জ