টানা বৃষ্টিতে বাড়ছে নদীর পানি, সিলেট-সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে প্লাবনের শঙ্কা
প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ
প্রকাশঃ ২০ জুন, ২০২৬ ৬:৪০ অপরাহ্ন
টানা বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢলের প্রভাবে সিলেট অঞ্চলের নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় আগামী তিনদিনের মধ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শনিবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের এক পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সংস্থাটি বলছে, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং ভারতের মেঘালয় ও আসাম অঞ্চলে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে কুশিয়ারা নদী সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ইতোমধ্যে সতর্কসীমায় পৌঁছেছে। আগামী তিন দিন পানি বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলগুলোতে পানি ঢুকে পড়তে পারে।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে ১৪২ মিলিমিটার এবং কানাইঘাটে ১৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি মৌসুমে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাতের মধ্যে অন্যতম।
আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, আগামী কয়েক দিনও বৃষ্টির তীব্রতা কমার সম্ভাবনা নেই।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিন সিলেট বিভাগ এবং এর উজানে ভারতের মেঘালয়, আসাম ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টি হতে পারে। এর প্রভাব সরাসরি সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকায় পড়বে এবং নদীগুলোর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
তবে শুধু সিলেট অঞ্চল নয়, দেশের উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায়ও বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুর জেলায় আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা রয়েছে। তিস্তা নদীর পানি কয়েকটি পয়েন্টে সতর্কসীমায় অবস্থান করছে এবং তা বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া ময়মনসিংহ বিভাগের ভুগাই ও সোমেশ্বরী নদীর পানিও বাড়ছে। ফলে নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলার কিছু নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তবে নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, আগামী কয়েক দিনের বৃষ্টিপাতের মাত্রা এবং উজান থেকে আসা পানির প্রবাহের ওপরই নির্ভর করবে সিলেট ও সুনামগঞ্জ অঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি।
নদীর পানি বৃদ্ধি, বন্যা পূর্বাভাস, নিম্নাঞ্চল প্লাবন, ভারী বৃষ্টি, সুরমা নদী, কুশিয়ারা নদী