২০ জুন ২০২৬

অপরাধ-বিচার / অপরাধ

তাহিরপুরে চাঁদা না দেওয়ায় শিক্ষককে লাঞ্ছিতের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

প্রতিনিধি, সুনামগঞ্জ

প্রকাশঃ ২০ জুন, ২০২৬ ৬:৫২ অপরাহ্ন

ছবিঃ প্রতীকী

সুনামগঞ্জে চাঁদা না দেওয়ায় ক্রয় করা ভিটায় দোকানকোটা নির্মাণে বাঁধা ও দোকান কোটার মালিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষককে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে।


শনিবার (২০ জুন) সকালে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার আনোয়ারপুর বাজারের এ ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন, আনোয়ারপুর বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি উপজেলার দক্ষিণকুল গ্রামের বাসিন্দা বিএনপি নেতা রতি মিয়া।


জানা গেছে। লাঞ্ছনার শিকার ওই শিক্ষকের নাম মুক্তার হোসেন। তিনি আনোয়ারপুর বাজার এলাকার বাসিন্দা ও এলাকার পাতারী তিওর জালাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে তাকে ডেকে নিয়ে লাঞ্ছিত করেন রতি মিয়া।


শিক্ষক মুক্তার হোসেন অভিযোগ, আনোয়ারপুর বাজারে তার ক্রয় করা একটি ভিটা রয়েছে। আওয়ামী লীগের আমলে উপজেলা প্রশাসন তার ভিটার দোকানসহ আরও কিছু দোকান ভেঙে দিয়েছিল। সম্প্রতি অন্যান্য দোকান মালিকরা পুনরায় দোকানকোটা নির্মাণ করছেন দেখে তিনিও দোকান নির্মাণের উদ্যোগ নেন। কিন্তু বার বার বাধা ও চাঁদা দাবি করছিলেন বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় বিএনপি নেতা রতি মিয়া।


তিনি অভিযোগ করেন, শনিবার সকালে তিনি বিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য বাজারে রাস্তায় অটোরিকশার অপেক্ষা করেছিলেন। এসময় রতি মিয়া তাকে ডেকে নিয়ে দোকান নির্মাণের বিষয়ে জানতে চান। তখন মুক্তার হোসেন বলেন, দোকান নির্মাণের প্রস্তুতি নিয়েছেন। এরপর রতি মিয়া তাকে দোকান নির্মাণে নিষেধ করেন ও হাতে থাকা ছাতা দিয়ে মারপিট শুরু করেন। পরে বাজারে থাকা লোকজন মুক্তার হোসেনকে রক্ষা করেন।


শিক্ষক মুক্তার হোসেন বলেন, ‘আমার ক্রয় করা ভিটা, আওয়ামী লীগের আমলে উপজেলা প্রশাসন দোকান ভেঙে দিয়েছিল। এখন অন্যারা ঘর নির্মাণ করা শুরু করলে আমিও উদ্যোগ নেই। কিন্তু বাজার কমিটির সভাপতি দাবিদার রতি মিয়া আমাকে বার বার নিষেধ দিচ্ছে ও চাঁদা দাবি করছে।’ 


তিনি আরও বলেন, ‘তাকে চাঁদা না দেওয়ায় আজ সকালে ডেকে নিয়ে ছাতা দিয়ে আমাকে মারধর শুরু করে। বিষয়টি আমি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবগত করেছি। আমি থানায় অভিযোগ করব।’

 

তবে অভিযোগ মিথ্যা ও ভুয়া দাবি করে আনোয়ারপুর বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় বিএনপি নেতা রতি মিয়া সিলেট ভয়েসকে বলেন, ‘আমি বিএনপির একজন কর্মী, আমার কোন পদ নেই। ২ বছর আগে এসিল্যান্ড মুক্তার হোসেনের দোকান ভেঙে দিয়েছিল। এখন আবার দোকান করার জন্য আমার কাছে পারমিশন চায়, এনিয়ে কথা-বার্তা হয়েছে। তাকে আমি মারপিট করিনি ও কোন চাঁদা চাইনি। এখন শুনছি সে আমার নামে নানান কথা বলে বেড়াচ্ছে।’


এ বিষয়ে তাহিরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুলেমান মিয়া বলেন, ‘মুক্তার হোসেন নামের একজন সহকারী শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করলে আমরা আইনশৃংখলা বাহিনীকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করব।’


এ বিষয়ে কথা বলতে তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলামকে মুঠুফোনে কল করলে তিনি তা রিসিভ করেননি। এদিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলের মুঠুফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে।


বালিজুরী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘রতি মিয়ার বিএনপির কোন পদ নেই। তার বিরুদ্ধে একজন শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে, আমরা এই ঘটনার নিন্দা জানাই। ভিকটিম শিক্ষক আমাদের সামনে সংসদ সদস্যের কাছে রতি মিয়ার বিরুদ্ধে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ করেছেন। এসময় থানার ওসিও উপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনায় সংসদ সদস্য ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।’


শেয়ার করুনঃ

অপরাধ-বিচার থেকে আরো পড়ুন

তাহিরপুর, শিক্ষক, লাঞ্ছিত, বিএনপি নেতা, চাঁদাবাজি, মারধর

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ