যুক্তরাজ্যের ভিসা দেওয়ার কথা বলে ৬০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আটক ১
অপরাধ-বিচার
প্রকাশঃ ১৭ আগস্ট, ২০২৬ ৭:৩৯ অপরাহ্ন
সিলেটের গোলাপগঞ্জে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যসেবা খাতে ভিসা দেওয়ার কথা বলে ৬০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে কয়েছ আহমদ (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে র্যাব-৯। তিনি এ মামলার এজাহারভুক্ত চার নম্বর আসামি। রোববার রাত সাড়ে নয়টার দিকে উপজেলার রায়গড় পুরান বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে র্যাব-৯।
গ্রেপ্তার কয়েছ আহমদ গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভাদেশ্বর এলাকার ময়নুল হকের ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার গৌরাবাড়ি এলাকার মো. আব্দুল আহাদ (৫৯) ও মামলার অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পরস্পরের আত্মীয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, পরিবারের বেকার সন্তানদের বিদেশে পাঠানোর আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যসেবা খাতে ভিসা দেওয়ার কথা বলে তাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়, অভিযুক্তদের কথায় বিশ্বাস করে আব্দুল আহাদ তার ছেলে আব্দুল আহসান সুহেদকে ৪০ লাখ টাকা খরচ করে যুক্তরাজ্যে পাঠান। এতে অভিযুক্তদের প্রতি পরিবারের আস্থা তৈরি হয়। পরে আরও দুই ব্যক্তি যুক্তরাজ্যে যেতে আগ্রহী হলে তাদের স্বাস্থ্যসেবা খাতের ভিসায় পাঠাতে ৮০ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে বলে জানান অভিযুক্তরা। পুরো প্রক্রিয়া চার থেকে ছয় মাসের মধ্যে শেষ করার কথাও বলা হয়।
এরপর ২০২৩ সালের ১৮ মে থেকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ওই দুই ব্যক্তির কাছ থেকে মোট ৬০ লাখ টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, টাকা নেওয়ার পর যুক্তরাজ্যে যাওয়ার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ভুক্তভোগীদের চিকিৎসা পরীক্ষা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেলেও ভিসা প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। পরে ভুক্তভোগীরা অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন।
একপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই করে ভুক্তভোগীরা জানতে পারেন, রিমি বেগম নামের এক ব্যক্তির দেওয়া কাগজপত্র জাল ও ভুয়া বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্তরা তা ফেরত না দিয়ে ভয়ভীতি ও হুমকি দেন বলেও এজাহারে অভিযোগ করা হয়।
এ ঘটনায় আব্দুল আহাদ গোলাপগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলার পর আসামিদের আটক ছায়া তদন্ত শুরু করে র্যাব-৯। পাশাপাশি গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯ সদর কোম্পানির একটি দল রোববার রাতে রায়গড় পুরান বাজার এলাকায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে কয়েছ আহমদকে আটক করা হয়।
র্যাব জানিয়েছে, আটককৃত কয়েছ আহমদের বিরুদ্ধে গোলাপগঞ্জ থানায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রয়েছে। আটকের পর তাকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
গোলাপগঞ্জ, সিলেট, র্যাব-৯, কয়েছ আহমদ, যুক্তরাজ্যে ভিসা, স্বাস্থ্যসেবা খাতের ভিসা, ৬০ লাখ টাকা আত্মসাৎ, ভিসা প্রতারণা, বিদেশে পাঠানোর নামে প্রতারণা, মানব পাচার, অভিবাসী চোরাচালান