ছেলে ও পরিবারের বিরুদ্ধে মামলা ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ দাবি করে শান্তিগঞ্জে সংবাদ সম্মেলন
দৈনন্দিন
প্রকাশঃ ২ জুন, ২০২৬ ১০:১১ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে নিজের ছেলে ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দায়ের করা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলাকে ‘মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছেন পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য হাজী সিরাজ মিয়া। এই মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মঙ্গলবার বিকেলে নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে হাজী সিরাজ মিয়া বলেন, সুনামগঞ্জ পৌর এলাকার ষোলঘর বিলপাড়ের কলোনি রোডের বাসিন্দা, ফারুক আহমদের মেয়ে মোছা. আয়েশা আক্তার (তমা) সম্প্রতি তার ফ্রান্স প্রবাসী স্বামী মো. আমিনুল ইসলাম (হাজী সিরাজ মিয়ার ছেলে), শ্বশুর-শাশুড়ি, আত্মীয়স্বজন ও সংশ্লিষ্ট কাজীদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) এবং দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে মামলাটি এফআইআর হিসেবে রুজু হয়।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, মামলার অভিযোগসমূহ বাস্তবতা বিবর্জিত, পরস্পরবিরোধী এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ৩ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে তার ছোট ছেলে আমিনুল ইসলামকে বিয়ে করান। বিয়ের পরে আমিনুল ইসলাম প্রবাসে চলে গেলে পুত্রবধূ বাবার বাড়িতে চলে যাওয়ার জন্য তোড়জোড় শুরু করেন এবং সেখানেই বসবাস করতে চান। বিষয়টি নিয়ে কোনো মিমাংসা না হলে এক পর্যায়ে তমা তার বাবাকে খবর করে আনিয়ে কাউকে কিছু না বলে বাবার সাথে তার নিজ বাড়ি চলে যান। এসময় ২টি আইফোন, ৪ ভরি ওজনের স্বর্নালঙ্কার ও নগদ ৪ লক্ষ টাকাও নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
এ ঘটানায় স্থানীয় শালিস ব্যক্তিদের নিয়ে একাধিকবার মিমাংসার চেষ্টা করেও তিনি ব্যর্থ হয়েছেন বলে দাবি করেছেন হাজী সিরাজ। পরে সব দিক থেকে ব্যর্থ হয়ে চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি নিজেই আয়েশা আক্তার ও তার পিতা ফারুক আহমদের বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছিলেন, যার তদন্ত শেষে প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও দাবি করেন, আয়েশা আক্তারের পিতা কর্তৃক প্রেরিত একটি লিগ্যাল নোটিশে মো. আমিনুল ইসলামের সঙ্গে আয়েশা আক্তারের বিবাহ সংঘটিত হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট স্বীকার করা হয়েছে। যদিও এর আগে অন্য এক জায়গায় বিয়ে হয়নি বলে উল্লেখ করেছেন তারা। অর্থাৎ তাদের বক্তব্যে অসংলগ্নতা রয়েছে। এদিকে, একই সঙ্গে লিগ্যাল নোটিশ ও মামলার অভিযোগে দেনমোহরের পরিমাণ ভিন্নভাবে উল্লেখ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
হাজী সিরাজ মিয়ার বক্তব্য অনুযায়ী, উভয় পরিবারের সম্মতিতে ও আত্মীয়স্বজনের উপস্থিতিতে সুনামগঞ্জের একটি কমিউনিটি সেন্টারে ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক বিবাহ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে বরপক্ষের বয়সসংক্রান্ত কাগজপত্রের জটিলতার কারণে সে সময় আনুষ্ঠানিক কাবিন নিবন্ধন সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, উভয়ের সম্মতিতে বিবাহ সম্পন্ন হওয়ার পর ধর্ষণের অভিযোগ আনা আইনগত ও বাস্তবিক দিক থেকে অযৌক্তিক। মামলায় উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগ ও বক্তব্য তার পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে মেয়ের বাবা ফারুক আহমদ বলেন, সংবাদ সম্মেলন করে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। একটি কথাও সত্য নয়। আমি যে মামলা দায়ের করেছি তার প্রমাণাদি আমার হাতে আছে।
শান্তিগঞ্জ, হাজী সিরাজ মিয়া, নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা, সংবাদ সম্মেলন, সুনামগঞ্জ সংবাদ