কুলাউড়ায় গরুর আঘাতে প্রাণ গেল বৃদ্ধের
দৈনন্দিন
প্রকাশঃ ১১ মে, ২০২৬ ৭:২২ অপরাহ্ন
আসন্ন ঈদুল আযহায় কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করবে না সিলেট বিভাগের কওমি মাদরাসাগুলো। সোমবার (১১ মে) সিলেট বিভাগ কওমী মাদরাসা সংরক্ষণ পরিষদ এক সংবাদ সম্মেলন করে এ সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। বিগত দুই সরকারের ‘ষড়যন্ত্র ও অকার্যকর সিদ্ধান্ত’ এবং বর্তমান সরকারের উদাসীনতার অভিযোগ তুলে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
সোমবার দুপুরে সিলেট মহানগরের সোবহানীঘাট এলাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান পরিষদের সদস্য সচিব মাওলানা মুশতাক আহমদ খাঁন।
তিনি বলেন- বছরজুড়ে সর্বসাধারণের দান, মৌসুমী চাঁদা, কুরবানির পশুর চামড়া ইত্যাদি কওমি মাদরাসা পরিচালনায় আয়ের অন্যতম উৎস। কিন্তু বিগত সরকার ২০১৩ সালে কওমি মাদরাসার এই অন্যতম আয়ের উৎস বন্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করে। ওই সরকারের অসৎ উদ্দেশ্যে ক্রমান্বয়ে দেশের রপ্তানী শিল্পের অন্যতম এই পণ্য দেশের বাজারে দরপতনের শিকার হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত কোরবানির চামড়া প্রায় মূল্যহীন পণ্যে পরিণত হয়।
তিনি বলেন, বর্তমান অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে, কওমি মাদরাসাগুলো এলাকার মানুষের কুরবানির চামড়া সংগ্রহ করে যত টাকা পরিবহণ খরচ করে, চামড়া বিক্রি করে সেই টাকাও ফেরত পায় না।
মাওলানা মুশতাক আহমদ খাঁন বলেন, সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চামড়া শিল্প রক্ষায় উদ্যোগের কিছুটা তৎপরতা দেখালেও সুফল মেলেনি। গত বছর কুরবানির মৌসুমে ড. ইউনূস সরকার কওমি মাদরাসাগুলোকে চামড়া সংরক্ষণের জন্য কাঁচা লবণ সরবরাহ করে। কিন্তু এ উদ্যোগটি অযৌক্তিক ও অকার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। ওই সরকারের উচিত ছিলো চামড়া শিল্পের দেশীয় বাণিজ্যিক সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর চামড়া শিল্পের সুদিন ফেরার আশায় ছিলাম আমরা। কিন্তু সরকারের ১৮০ দিনের কোনো প্রকল্পেই চামড়া শিল্প নিয়ে কোনো পরিকল্পনা নেই। অথচ এটি একটি রাষ্ট্রের বড় আয়ের খাত। আগের সেই সিন্ডিকেট ভাঙতে পারেননি এই সরকার। যা কওমি মাদরাসাগুলোর কর্তৃপক্ষকে চরমভাবে হতাশ করেছে। সার্বিক বিবেচনায় সিলেট বিভাগের কওমি মাদরাসাগুলো আগামী কুরবানীর মৌসুমে চামড়া সংগ্রহ না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- সিলেট বিভাগ কওমী মাদরাসা সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক মাওলানা আব্দুল বছীর সুনামগঞ্জী, যুগ্ম-সচিব মাওলানা আহমদ কবীর আমকুনী, যুগ্ম-সচিব মাওলানা ইউসুফ আহমদ খাদিমানী (রেঙ্গা মাদরাসা), মাওলানা মঞ্জুর আহমদ (রেঙ্গা মাদরাসা), মাওলানা এনামুল হক বহরগ্রামী, মুফতি মাওলানা রশিদ আহমদ (দরগাহ মাদরাসা), মাওলানা নিয়াম উল্লাহ খাসদবিরী (দারুস সালাম মাদরাসা), মাওলানা শামীম আহমদ ও মাওলানা গোলাম কিবরিয়া।
এছাড়াও কওমি মাদরাসা শিক্ষকদের সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতা, বিভিন্ন মাদরাসার মুহতামিম ও দায়িত্বশীল উপস্থিত ছিলেন।
কোরবানি, পশুর চামড়া, কওমি মাদরাসা